‘সিমকী ইমামের বস্ত্র হরণ: দু:শাসন’

by News Room

মাহমুদা ডলি

দেশ জুড়ে চলছে নিন্দার ঝড়। গণমাধ্যম,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অফিস আদালতে এমনকি পথে প্রান্তরের চায়ের কাপেও । সবার মুখে-চোখে একই নিন্দা একই কথা নারী আইনজীবী সিমকী ইমাম খানের ওপর পুলিশের সহযোগীতায় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা। সবার মুখে একই কথা একই দাবী এর বিচার কবে হবে? এটাই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? এটাই কি গণতন্ত্র?  এটাই কি স্বাধীনতা? সিমকী ইমামের ওপর চালানো হামলা আর তার শ্লীলতাহানীর ঘটনা , সিরাজগজ্ঞের সেই ১২ বছরের কণ্যা শিশুর ধষর্নের ঘটনা ১৯৭১,র নারকীয় তান্ডবকেও হার মানিয়েছে শাসক দল। – এ ধরনের মন্তব্য এখন প্রতিটি নাগরিকের, দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও শুধু ছি! ছি! এ যুগের দু:শাসন আজ সিমকী ইমামের মতো গনতন্ত্র চর্চায় নিয়োজিত নারীদের বস্ত্র হরণ করছে।

সিমকী ইমামের বস্ত্র হরণের ঘটনার জন্য ২৯ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার জন্য একটা কলঙ্কজনক অধ্যায হয়ে থাকলো নারী সমাজের কাছে। ওই একই দিন চাপাইনবাবগজ্ঞে শাসক দলের হাতে আরো এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যা প্রতিটি টিভি চ্যানেলে সংবাদে বলা হয়েছে।

তিনি নারী উন্নযনের বুলি আওড়াচ্ছেন,মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি আওয়াড়াচ্ছেন অথচ তার  নিজের লোভের কারনে তার দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে , দলবাজ র‌্যাব- পুলিশের হাতে গত ৫ বছরে লাখো নারী নির্যাতিত, নিগ্রহ, নিষ্পেষিত এবঙ খুন হয়েছেন। এ দেশের নারী রাজনৈতিক তো পরের কথা সাধারন নারীরাও আজ ঘরে বসে নিজের  সম্ভ্রম হারাচ্ছেন সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে।  গত ২৮ ডিসেম্বর এক দিনে এদেশের বিরোধী মতের প্রায অধৃশত নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-পুলিশ। এর আগে গত একমাসে কয়েক হাজার নারীর জানমাল মানসম্ভ্রম লুন্ঠিত করেছে, নিজের বসত ভিটা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে যৌথ বাহিনীর হাতে ধষির্ত হয়েছেন আরো ৩ নারী। মান সম্ভ্রমের ভয়ে নিজের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নোয়াখালি, লপিুরের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের মা-বোন,সন্তানেরা। এটাই শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! এটাই তার গনথন্ত্রের চর্চা!পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত এক বছরে প্রায় এক লাখ নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ইতিহাস বলছে একটা দেশ ধ্বংসের জন্য শত্রুপ প্রথমেই আঘাত করে দেশটি নারী ও শিশুর ওপর। কারন দেশটি ধ্বংসের জন্য নারী শিশু প্রথম ও প্রধান টার্গেট হযে থাকে। যেমন এখন ইসরাইল ফিলিস্তানের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। ১৯৭১ সালে নারী শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ঠিক  গত ৫ বছর ধরে বাংলাদেশের  মধ্যে রাজনৈতিকভাবে নারী নির্যাতনের যে চিত্র রয়েছে,  তা  ভয়াবহ  ।

সেই ফটিকছড়ি- সাতীরা-ঝিনাইদহ-যশোর থেকে এখন রাজধানী ঢাকা । কারন শুধু মাত্র বিরোধী মতের এবং এসব নারী শিশু বিরোধী দলকে সার্পোট করছে বলে!  একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা এভাবে ভয়াবহ নারী শিশু নিযার্তনের ঘটনা শুধু মাত্র  বাংলাদেশেই সংগঠিত হয়েছে। স্বৈরাচারী মতায় আসীন ব্যক্তিদের প্ররোচনায় র‌্যাব-পুলিশ কর্তৃক দেশের আনাচে কানাচে প্রতিটি ঘরে রুটপাট, ঘরবাড়ি জ্বালানো , ধর্ষন,হত্যা, গুম অপহরন, আটকের মতো নিগ্রহ -নির্যাতন চালাচ্ছে। রাস্তায় পথে -ঘাটে শিশুর লাশ ! ধর্ষনে বাদ যাচ্ছে না ১২ বছরে কণ্যা শিশুটিও।  আর এসব অন্যায়কে বামজমানার সমর্থক স্ব-ঘোষিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা টুঁ শব্দটিও করছেন না। কারন তো একটাই পাছে রুপার শৃঙ্খলটি ছিন্ন হয়ে যায়। এসব বুদ্ধিজীবীরা তো সরকারের সোনার চেনে বাধাঁ কুকুর। মতার দাস’। অথচ শাসক গোষ্ঠি দ্বারা  সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেযার উদ্দেশ্যে দালাল মিডিয়াগুলোতে এদের গগন বিদীর্ণ প্রতিবাদ। কোন কোন দালাল মিডিয়াগুলো আবার সাংবাদিকতার কোড
ভেঙ্গে দিয়ে সরাসরি বলে দিচ্ছে জামায়াত -বিরোধী দল করছে।
কিন্তু কথা হচ্ছে শেখ হাসিনা যদি মনে করে থাকেন যে বিরোধী দল ও মত দমনের কৌশল হিসেবে আঘাতটা নারী ও শিশুর ওপর করাটাই যথার্থ । তবে সে ধারনা ভুল। ইতিমধ্যে দেশের যেসব এলাকাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে ত্রাস চালিয়েছে সেসব এলাকায় নির্যাতিত এবং নির্যাতনের স্বাি সাধারন মানুষের ঘরে কোনদিন আওয়ামীলীগ আদর্শ বহনকারী শিশু সন্তান জন্ম নেবে না। এমনকি কালের নিকট,  নতুন প্রজন্মের কাছেও এসব ভয়াবহ দু:শাসনের স্মৃতি দাগ কেটে থাকবে।৩দিন আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষনা করলেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। গাল ভরা আশ¡াসের বানী শোনালেন। কিন্তু   মুখে যা বলেন আদতে তা তিনি নিজেই বিশ¡াস করেন না। জনস্বার্থের কথা বললেও জনগনকে বিশ্বাস করেন না। তার তো গণতন্ত্রের ওপর আস্থাই নেই। স্বৈরতন্ত্র এবং বাকশালের ওপর তার বেশি অচলা ভক্তি।  যদি হতো তাহলে তারই প্ররোচনায় র‌্যব-পুলিশ, আওয়াম ীলীগ ক্যাডারদের দিয়ে একের পর এক নারী-শিশুর ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশে ১৯৯০‘র আদলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া এদেশের নারীদের ওপর আবারো আÍহূতি দিতে হচ্ছে। দেশ যেভাবে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে । তার মধ্যে আবার রাষ্ট্র যন্ত্র দ্বারা নারীরা নিগ্রহ নির্যাতিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আর এসব ঘটনা সরকারের রুপার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ( সরকারের এটা থালার ভাত খাওয়া) সেই সব নারীবাদীদের গলাবাজী কোথায় গেল ? গত ৫ বছরে কোন নারীর নির্যাতনের ( উদ্ধেশ্যপূর্ণ ঘটনা ছাড়া) কোন ঘটনায় নারীবাদী কিংবা বুদ্ধিজীবীদের গলাবাজি করতে দেখা যায়নি। আর তাদের নিরবতার জন্যই অব্যাহত র্দুনীতি,দলীয় সন্ত্রাসের জন্র সুশাসনের আজ চরম বিপর্যয়, চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। চরম দলবাজেিত আজ বিচারের বানি কাদছে নিভৃতে।  সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে দেশের তরুন সমাজ  র‌্যাব -পুলিশের প্রতিদিনের নির্যাতনের চিত্র অবিকৃত/ সম্পাদিত নয় এমন ছবি তুলে ধরছেন।

এসব ঘটনায় আমরা নারীরা কোথায়, কার কাছে যাবো বিচারের জন্য? যে দেশে গণতন্ত্র ধুলিস্যাৎ , যে দেশের সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে সরকারী বাহিনী দ্বারা সম্ভ্রম হারাতে হচ্ছে নারীদের , যে দেশে প্রেসকাবের মধ্যে থেকেও আক্রাান্ত হন সাংবাদিকরা । সেই দেশের সাধারন মানুষ কার কাছে চাইবে বিচার? তবুও এ দেশের জনগনের বিশ্বাস সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গনে এ এ ধরনের ঘটনায়  মহামান্য সুপ্রীম কোর্টই দু:শাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

লেখক- সাংবাদিক ও কলামিস্ট

You may also like

Leave a Comment