The Challenge of Leadership(নেতৃত্বের চ্যালেন্জ) Episode 2-পর্ব ২(৫)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : হযরত উমর (রাঃ) এর রাজ্যশাসন ও জনহিতকর উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড:০৫(পাঁচ)

শাসনকার্য পরিচালনায় হযরত ওমর(রাঃ)এর সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হল সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিত্বমুলক মজলিশে শুরা।পরামর্শ সভায় ভোটিধিক্য ব্যাতীত কোন কাজই হত না।তদনান্তীন মুসলিম সমাজে বিশেষ প্রভাবশালী দুটি দল ছিল।এবং আরবগণ তাদেরকে(মুহাজির/আনসার) নিজেদের প্রতিনিধি বলে মনে করত।মজলিসে শুরায় উভয় দলের প্রতিনিধ থাকতেন।আনসারগণ আবার দুই সম্প্রদায় আওস ও খাজরাজে বিভক্ত ছিল।এ দু’সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শূরায় থাকা অত্যাবশ্যক বলে বিবেচিত ছিল।তিন স্তর বিশিষ্ঠ শুরার প্রথম স্তরে মুহাজিরগণ,দ্বিতীয় স্তরে আনসার ও মুহাজিরগণ এবং তৃতীয় স্তরে আনসার ,মুহাজির ও গোত্রীয় প্রতিনিধরা থাকতেন।
মজলিশে শূরার সকল সদস্যের নাম যদিও জানা নেই,তবে এ টুকু তথ্য পাওয়া যায় হযরত ওসমান(রাঃ),হযরত আলী (রাঃ),হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ(রাঃ),হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল(রাঃ),হযরত উবাই ইবনে কাব(রাঃ),হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত(রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ শূরার বিশিষ্ট সদস্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পরামর্শ সভার অধিবেশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ ‘নামাজ প্রস্তুত’ বলে আহবান করত।তখন সবাই মসজিদে আসত এবং দু’রাকাত নামাজ পড়ে সভার কাজ শুরু হত।দৈনন্দিন ছোটখাটো ব্যাপারে এ ধরনের অধিবেশনের সিদ্ধান্ত কার্যকরী হত।কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ কিছু হলে আনসার-মুহাজিরদের সাধারণ সভা হত এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই সমাধান হত।
পারস্য বিজয়ী সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস(রাঃ) কে ওমর কুফার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।তিনি ছিলেন বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত একজন সাহাবী।আশরায়ে মুবাশশারাদের একজন এবং আল্লাহর রাসুলের একজন আত্মীয়।তিনি ছিলেন বিশ্ববিজয়ী বীর।দুনিয়া কাঁপানো বীর পাহলোয়ান রুসতম কে তিনিই পরাজিত করেন।তৎকালীন বিশ্বের অন্যতন পরাশক্তি পারস্য(ইরান) তাঁর নেতৃত্বেই জয় হয়।সাসানীয়ান সাম্রাজ্য থেকে অগ্নিপুজাকে উৎখাত করে সেখানে ইসলাম কে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।কাদেসিয়ার প্রান্তরের রণাঙ্গনে এক অসমযুদ্ধে বিজয়লাভ করে সেখানকার অধিবাসীদের অত্যাচারী শাসকদের কবল থেকে মুক্ত করেন।দীর্ঘ দিনের পুঁতিগন্ধময় সভ্যতার বিপরীতে গড়ে তোলেন এক আলোকিত সোনালী সভ্যতা।এছাড়া সমাজ উন্নয়নে সাদ (রাঃ)এর জনহিতকর কর্মকান্ড ইতিহাসের পরতে পরতে আছে।
বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস(রাঃ) গভর্ণর থাকাকালীন কুফায় একটি আলীশান বাড়ী তৈরী করে দ্বার রক্ষী নিয়োগ দিয়েছিলেন।এ খবর পৌঁছে গেল আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর(রাঃ)এর কাছে।তিনি এ সিদ্ধান্ত দিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রধান অন্যতম সাহাবী মুহাম্মদ মুসাল্লামা(রাঃ) কে কুফায় পাঠান।খলিফা নির্দেশ দিলেন,বিষয়টি যদি সত্য হয় তাহলে আপনি(মুসাল্লমা (রাঃ)) সাদ(রাঃ) এর সামনেই প্রাসাদটি ভস্মীভূত করে দিবেন।প্রাসাদ এবং দারোয়ান থাকলে গভর্ণরকে পেতে সাধারণ জনগণ সমস্যায় পড়বে।
হযরত ওমর(রাঃ)এর এই শ্রেণীর কাজ যদিও বাহ্য চোখে আপত্তিকর ,কেননা মানুষের সামাজিক জীবন বা ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা ব্যাক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী।কিন্তু, প্রকৃত ব্যাপার হলো হযরত ওমর(রাঃ) সমগ্র জাতির মধ্যে সাম্য ও গণতন্ত্রের যে প্রাণসঞ্চার করতে চেয়েছিলেন ,এমন না করে তা সম্ভবপর ছিল না।তিনি চেয়েছিলেন, জনগণের মাঝে যাতে সামন্তবাদের প্রভাব সৃষ্ঠি না হয় অর্থাৎ একজন হবে প্রভু আর জনগণ হবে তার ভৃত্য এই ধারণা যেন তৈরী না হয়।

লেখক:সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

You may also like

Leave a Comment