The Challenge of Leadership(নেতৃত্বের চ্যালেন্জ) Episode 2-পর্ব ২(৬)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : হযরত উমর (রাঃ) এর রাজ্যশাসন ও জনহিতকর উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড:০৬(ছয়)

আমিরুল মুমিনীন খলিফাতুল মুসলিমীন অর্ধ পৃথিবীর শাসক হযরত উমর (রাঃ)এর সময় ব্যাপক জনকল্যাণমুলক মানবহিতকর কর্মকান্ড ও অভাবনীয় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়।রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গরূপ প্রস্ফুটিত হয়।
রাজস্ব বা খেরাজ,ইরাকের বন্দোবস্ত,শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি,মিশরের কর ব্যবস্থা,ভুমি সংস্কার,কৃষিকাজে উন্নতি সাধন,সেচবিভাগের প্রতিষ্ঠা,খাল খনন,বাঁধ নির্মাণ,পুকুর খনন,প্রয়োজনীয় স্থানে পানি সেচের জন্য পৃথক বিভাগ তাঁর আমলেই হয়।পতিত জমি আবাদযোগ্য করতে একমাত্র মিশরেই দীর্ঘ কয়েকবছর ১,২০,০০০ শ্রমিক এই কাজে নিযুক্ত ছিলেন।
বিচার বিভাগকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথককীকরণ হযরত ওমরের অভিন্ন এক কীর্তি।আমরা জানি ,আইন-শৃংখলা পুর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত না থাকায় আগে দুনিয়ার কোন রাষ্ট্রই প্রাথমিক অবস্থায় বিচারবিভাগকে শাসনবিভাগের আওতামুক্ত করতে পারেনি।কিন্তু তিনি এটি করেছেন।বিচারবিভাগ শাসকের আওতামুক্ত হওয়া মানব সভ্যতা অগ্রগতির প্রথম পদক্ষেপ।
ওমর আবু মুসা আশয়ারী(রাঃ)কে বলেন,প্রভাবশালী ও ব্যাক্তিত্ববান লোক ছাড়া কাউকে কাযীর পদে নিয়োগ করো না।হযরত ওমর(রাঃ) আইন প্রণয়ন করেন।বিচার সম্পর্কিত ফরমান জারী করেন।জনৈক প্রসিদ্ধ রোমান বলেছেন,’এই আইনগুলো দুনিয়ার দার্শনিকদের অমূল্য গবেষণা হতেও বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।হযরত ওমর লিখেছিলেন,’আল্লাহর প্রশংসা করার পর ‘ন্যায়বিচার’ অত্যন্ত জরুরী একটি ফরয।মানুষকে সর্বদা তোমার উপস্থিতিতে তোমার দরবারে এবং বিচার করতে যেয়ে সমান মর্যাদা দান করবে।যেন দুর্বল মানুষ সুবিচার হতে বঞ্চিত না হয়।প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনে যেন তোমার অনুগ্রহ প্রাপ্তির আশা উদিত না হয়।আইনের চোখে সমতাকে প্রাধান্য দিবে।যে বিচারালয়ে সাম্যের ব্যবস্থা নেই,সেখানে সুবিচার না হয়ে বিচারের নামে প্রহসন হয় মাত্র।
খলিফা বাদী বিবাদী বেশে বিচারালয়ে উপস্থিত হতেন।খলিফা ও উবাই ইবনে কাব বিচারক যায়েদের দরবারে হাজির হলেন।খলিফাকে দেখে বিচারক উঠে দাঁড়ালেন এবং আসন গ্রহনের আহবান জানান।খলিফা বিচারকের এ দৃশ্যকে ন্যায়বিচার বহির্ভুত উল্লেখ করে বলেন,আপনি (বিচারক) দুটি ভুল করেছেন।আপনি সুবিচার করতে পারবেন না।খলিফাকে দেখে দাঁড়িয়ে আপনি সমতাকে ভুলুন্ঠিত করেছেন এবং এখানে সাধারণ জনগণের অধিকার নষ্ঠ হওয়ার আশংকা আছে।
হযরত ওমর (রাঃ) জনসংখ্যানুপাতে বিচারালয় স্থাপন,ফতোয়া বিভাগ প্রতিষ্ঠা,ফৌজদারী পুলিশ বিভাগ গঠন ও বায়তুল মালের পৃথক ভবন তৈরী করেন।তিনি দারুল খেলাফত সদর বায়তুল মাল ভান্ডার গড়ে তোলেন।তিনি এতে পাহারাদার নিযুক্ত করেন।নানাবিধ সমাজসেবা ও উন্নয়নমুলক কাজ তিনি করেন।
সরকারী দালান কোটা নির্মাণ,জল নিষ্কাশনের জন্য খাল ও পয়ঃপ্রণালী খনন,রাস্তাঘাট,সেতু ও সরকারী পুর্তবিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।চিকিৎসালয় ব্যতীত সবই হয়েছে।কৃষিকাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন।
৯মাইল দীর্ঘ নহরে আবু মুসা নামক খাল তৈরী করেন।বসরা নগরী মরুভুমির ন্যায় শুষ্ক একটি শহর।প্রায় ৬মাইল দুর হতে পানি সরবরাহ করা হত।খলিফা বসরার গভর্ণর আবু মুসা কে লিখিতভাবে ফরমান দেন বসরার লোকদের জন্য জলসমেত খাল খনন করে দাও।এ নির্দেশ পাওয়ার পর আবু মুসা দজলা নদী হতে ৯ মাইল দীর্ঘ খাল খনন করে বসরা নগর পর্যন্ত প্রবাহিত করলেন।যার ফলে নগরীর ঘরে ঘরে পানির প্রাচুর্য দেখা দেয়। জল সমস্যা সমাধানের এ পদক্ষেপে নাগরিকরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়।

লেখক:সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

You may also like

Leave a Comment