৪৩ বছরে বাংলাদেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো সাংস্কৃতিকঅঙ্গন অনেকদূর এগিয়েছে। সাহিত্য-চিত্রশিল্প-অভিনয়শিল্প-সঙ্গীত সবখানেই নারী-পুরুষের অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সমানে সমান। কিন্তু একটি ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি এখনো অনেক কম, সেটি চলচ্চিত্র কিংবা টেলিভিশন নাটক নির্মাণ। তবে আশার কথা হলো নাটক কিংবা সিনেমা পরিচালক হিসেবে নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়েছে। সত্তর কিংবা আশির দশকে এটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। প্রায় অবাস্তব বলা চলে। সেটি এখন নারীদের সাধ্যসীমার মধ্যে চলে এসেছে।
একটু পেছনে গেলে দেখতে পাবো, ১৯৭০ সালে রেবেকা নামে এক সাহসী নারী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। নির্মাণ করেন ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’ নামের একটি ছবি। মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ৭ মার্চ। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা কাটিয়ে এলেন অভিনেত্রী রোজী। ১৯৮৬ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘আশা-নিরাশা’। এর দু’বছর পর ‘অর্পণ’ নামে একটি ছবি নির্মাণের মধ্যদিেেয় পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন দুজন বিখ্যাত অভিনেত্রী সুজাতা এবং সুচন্দা। তারা নির্মাণ করেন ‘সবুজ কোট কালো চশমা’ (১৯৯৯) ও ‘হাজার বছর ধরে’ (২০০২)। ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমাটি বেশকটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এরপর মোটামুটি নিয়মিতভাবে পরিচালনায় চলে এলেন মেধাবী নারীরা। এ পর্যন্ত কয়েকজন নারী পরিচালকদের নিয়েই এই বিশেষ রচনা। লিখেছেন মোজাফ্ফর হোসেন
শামীম আখতার
নির্মাতা ও লেখক শামীম আখতার যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এরপর চলে আসেন নির্মাণে। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রে বেশিরভাগ পরিচালক, বিশেষ করে নারী পরিচালকরা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত পরিবারের কেউ না কেউ। কেউ কেউ অভিনয় থেকে শখ করেও চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিয়েছেন। কিন্তু শামীম আখতার ঐ অর্থে এই ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। তিনি প্যাশন থেকে নির্মাণে আসেন। আজকাল অনেক তরুণ সেইভাবে আসছেন।
তারেক মাসুদের সঙ্গে ১৯৯১ সালে তিনি নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৮ মিনিটের ছবি ‘সে’। ১৯৯২ সালে মৌলবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে তিনি প্রতিবাদস্বরূপ নির্মাণ করেন ডকুমেন্টরি ‘গ্রহণকাল’। মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী অস্থিরতা দেখেই তিনি নির্মাণ করেন ‘ইতিহাসকন্যা’। ছবিটি বেশ প্রশংসিত হয়। শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘শিলালিপি’ ছবিটি। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু ডকুমেন্টরি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে তাঁর একটি স্ক্রিপ্ট সরকারি অনুদানের জন্য জমা পড়েছে।
নার্গিস আক্তার
২০০২ সালে নার্গিস আক্তার তৈরি করলেন ‘মেঘলা আকাশ’ ছবিটি। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ঢাকায় আসেন বিখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমী ও আইয়ুব খান। মরণব্যাধি এইডস নিয়ে নির্মিত ‘মেঘলা আকাশ’ বেশ কিছু শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। মৌসুমী এই ছবির জন্য পান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেই থেকে নার্গিস আক্তার নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চলেছেন। ইতোমধ্যে তিনি নির্মাণ করেছেন ‘চার সতিনের ঘর’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ এবং ‘অবুঝ বউ’। ‘মেঘের কোলে রোদ’ ছবিতে অভিনয় করে পপিও পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সম্প্রতি নার্গিস আক্তার নির্মাণ করছেন ‘পৌষ মাসের পিরিতি’, ‘শটকাটে বড়লোক’, ‘যৈবতী কন্যার মন’ ও ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’। নার্গিস আক্তারের চলচ্চিত্রের অন্যতম বিষয় হলো নারীজীবন। তিনি সামাজিক সমস্যানির্ভর গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণ করে থাকেন। নারীপুরুষ মিলে বাংলাদেশের কয়েকজন প্রথমসারির পরিচালকদের মধ্যে তিনি একজন।
মৌসুমী
মূলত ঢাকার চলচ্চিত্রের প্রথম সারির চিত্রনায়িকা মৌসুমী। নব্বইয়ে শুরু করে এখনো দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে চলেছেন। পাশাপাশি নাম লিখিয়েছেন পরিচালনায়। ২০০৩ সালে তিনি নির্মাণ করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ ছবিটি। এরপর মৌসুমী আরেকজন পরিচালক গুলজারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘মেহের নেগার’। বর্তমানে মৌসুমী ইমপ্রেস টেলিফিল্মের শততম ছবি পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ক্ষেত্রেও আমরা দেখছি, তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে নারীর গল্পকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ক্যাথরিন মাসুদ
মার্কিন-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাথরিন মাসুদ চলচ্চিত্রের নানামাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামী ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত নির্মাতা তারেক মাসুদ মিলে ঢাকায় একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যার নাম অডিওভিশন। ক্যাথরিন মাসুদ, তারেক মাসুদের সাথে অনেকগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণে অংশ নেন।
তিনি তারেক মাসুদের সহ-পরিচালক হিসেবে ছিলেন ‘অন্তর্যাত্রা’ (২০০৫), ‘মুক্তির কথা’ (১৯৯৯), ‘মুক্তির গান’ (১৯৯৫) ছবিতে। প্রযোজক ও কাহিনিকার হিসেবে ছিলেন ‘রানওয়ে’ (২০১০), ‘মাটির ময়না’ (২০০২) ছবিতে। সম্পাদনা করেছেন ‘রানওয়ে’, ‘মাটির ময়না’, ‘মুক্তির কথা’ ছবির। এছাড়াও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ‘রানওয়ে’ ছবির। বর্তমানে তিনি তারেক মাসুদের অসমাপ্ত ছবি ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণে ব্যস্ত আছেন।
সামিয়া জামান
২০০৬ সালে সংবাদ-পাঠিকা ও মিডিয়াব্যক্তিত্ব সামিয়া জামান আত্মপ্রকাশ করেন পরিচালক হিসেবে। নির্মাণ করেন ‘রানি কুঠির বাকি ইতিহাস’। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় অভিনয় করেন ফেরদৌস, পপি, আলমগীর ও তারিক আনাম খানের মতো অভিনয়শিল্পীরা। ছবিটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। এরপর তিনি সরকারি অনুদানে নির্মাণ করেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘আকাশ কত দূরে’ (২০১৪)। এই ছবিটির দর্শকদের ভালো লাগাকে স্পর্শ করতে সমর্থ হয়।
কবরী
কবরী সারোয়ার ঢাকার চলচ্চিত্রের ক্লাসিক যুগের নায়িকা। বাংলা রোমান্টিক সিনেমার কথা মনে এলেই কবরী-রাজ্জাক জুটির কথা আমাদের মনে পড়ে। কবরী ২০০৬ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। নির্মাণ করেন অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের নিয়ে চলচ্চিত্র ‘আয়না’। ছবিটি বেশ প্রশংসিত হয়।
রুবাইয়াৎ হোসেন
রুবাইয়াৎ হোসেন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘মেহেরজান’ নির্মাণ করে। ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ভারত থেকে ঢাকায় আসেন জয়া বচ্চন ও ভিক্টর ব্যানার্জি। ছবির গল্পে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময়ে শত্রুপক্ষের সেনার প্রেমে পড়ার পরিণতি নাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় চরিত্র মেহেরের মনোজগৎ। পরিবার ও সমাজ তাকে ঠেলে দেয় অপরাধবোধের যন্ত্রণায়, নেমে আসে দীর্ঘ নীরবতা। ছবির গল্প নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ছবিটি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়। পুরস্কৃতও হয় দেশে-বিদেশে। বলা চলে, বাংলাদেশের যে-কটি ছবি আন্তর্জাতিকভাবে এমন হৈচৈ ফেলতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে ‘মেহেরজান’ ছবিটি অন্যতম।
বর্তমানে রুবাইয়াৎ হোসেন নতুন একটি ছবির কাজ শুরু করেছেন। ছবির নাম ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’।
শাহনেওয়াজ কাকলী
নিজের প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাত করেছেন শিল্পনির্দেশক ও নাট্যনির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মিত তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘উত্তরের সুর’ ২০১২ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ৪টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছে। শাহনেওয়াজ কাকলী নিজেও পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ কাহিনিকারের পুরস্কার। ছবিটি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। এরপর তিনি নির্মাণ করেন আরো দুটি ছবি ‘জলরং’ এবং ‘নদীজন’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন কাকলী। শিল্পবোধসম্পন্ন এই তরুণ পরিচালক ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গীতালি হাসান
গীতালি হাসান। বহু সফল নাটকের নির্মাতা। পাশাপাশি একজন নাট্যকার ও লেখক। ২০১৪ সালের ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম নির্মিত চলচ্চিত্র। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছোটগল্প অবলম্বনে ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ ছবিটি নির্মাণের পর আলোচনায় এসেছেন এই নারী নির্মাতা। গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি মিলে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা হবে ২৪টি। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের উৎসাহে এক সময় তাঁর নাটক লেখা শুরু। তিনি একশ’র বেশি নাটক নির্মাণ করেছেন। সাহিত্যনির্ভর কাজে তাঁর আগ্রহ বেশি।
রওশন আরা নীপা
রওশন আরা নীপা পরিচালিত প্রথম ছবি ‘জননী’ (২০১৪)। ছবিটি সরকারি অনুদানে নির্মিত। এই ছবির গল্পও তাঁর নিজের লেখা। ছবিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক বীরাঙ্গনা মায়ের গল্পকে উঠিয়ে আনেন। এখন তিনি ব্যস্ত আছেন তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘মহুয়া সুন্দরী’ নিয়ে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়া সুন্দরীকে রূপালি পর্দায় উপস্থাপন করতে চলেছেন। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইতোমধ্যে আলোচিত নতুন নায়িকা পরীমণি।
১৯৯৭ সালে ‘গোধূলির লগন’ নাটকের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন নীপা। এরপর বেশকটি নাটক নির্মাণ করেন। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ এবং ‘কুয়াশার কণা’ নামে দুটি ধারাবাহিকও নির্মাণ করেছেন তিনি। তবে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রতি নীপা বেশি মনোযোগী ছিলেন। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশুদের নিয়ে ‘চিলড্রেন ইন দ্য হিডেন ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু।
এছাড়াও নাটক থেকে বেশ কজন নির্মাতা চলচ্চিত্র নির্মাণে নাম লিখিয়েছেন। সম্প্রতি প্রদর্শিত হলো ফারজানা ববির প্রথম মুক্ত তথ্যচিত্র ‘বিষকাঁটা’। নির্যাতনের বিষকাঁটা এখনো বয়ে চলেছেন চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী, খুলনার রণজীতা ম-ল ও যশোরের হালিমা খাতুন। তাঁদের নিজস্ব জবানিতে অন্তহীন এই যন্ত্রণার ইতিকথা তুলে ধরেছেন ৫০ মিনিট দীর্ঘ ‘বিষকাঁটা’ চলচ্চিত্রে। এর আগে ফারজানা ববি ‘মেহেরজান’ ছবির সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
ইসমত আরা শান্তি নির্মাণ করছেন ‘মায়ানগর’। দেশে ও দেশের বাইরে শ্যুটিং হচ্ছে ছবিটির। অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ সম্প্রতি মেকিংয়ে নেমেছেন। নির্মাণ করেছেন নাটক। এবার তিনি ‘গুডমর্নিং লন্ডন’ নামে একটি ছবি নির্মাণে হাত দিচ্ছেন। আফসানা মিমি মেগাসিরিয়াল নির্মাণ করে এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি নির্মাণ করেছেন ‘রান’ নামের একটি চলচ্চিত্র।
নাট্যনির্মাণে নারী
চলচ্চিত্রের চেয়ে নাটকনির্মাণে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবমিলে একক নাটক নির্মাণে এগিয়ে আছেন চয়নিকা চৌধুরী। তিনি প্রায় ২৫০টি একক নাটক নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও ৪টি টেলিছবি ও ৪টি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করেছেন চয়নিকা। বর্তমানে রোমান্টিক নাটক নির্মাণে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। সাহিত্যনির্ভর ও বিশেষ দিবসকে নির্ভর করে চয়নিকা সবসময় নাটক নির্মাণ করে চলেছেন। তিনি তাঁর নাটকে চমৎকারভাবে সঙ্গীতের সন্নিবেশন ঘটান। এমন অনেকভাবেই চয়নিকা আর সবার থেকে আলাদা এবং স্বতন্ত্র।
শাওন মূলত অভিনেত্রী। তবে শখের বশে হলে কয়েকটি নাটক তিনি নির্মাণ করেছেন। এখন তিনি নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিনয়ে সুবর্ণা মোস্তফা আগের চেয়ে বেশ খানিকটা অনিয়মিত। তিনি এখন নাটক নির্মাণের দিকে ঝুঁকছেন। মৌ মূলত মডেল। নাটকে তাঁকে বরাবরই অনিয়মিতভাবে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি তিনি বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন। সেই জীবনসঙ্গী জাহিদ হাসানের পথ ধরে তিনিও নাটক পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের মেয়ে মৃত্তিকা গুণ ছোটপর্দায় নাটক পরিচালক হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। খুব বেশি নাটক নির্মাণ না করলেও তাঁর কাজের মান ও রুচির কারণে তিনি প্রশংসিত।
নাটক নির্মাণ করছেন ইশিতা, মতিয়া বানু শুকু, ইরানী বিশ্বাসের মতো বেশ কয়েকজন মেধাবী ও ক্রিয়েটিভ নারী।
মুখোমুখি রওশন আরা নীপা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রারম্ভেই আমি থিয়েটারের সাথে যুক্ত হই। হঠাৎ একদিন নার্গিস আক্তারের একটি ডকুমেন্টারিতে অভিনয় করতে গিয়েছিলাম। তাঁর ডিরেকশনের লিডিং জায়গাটা আমাকে অনেকখানি আগ্রহী করে তোলে। যেহেতু বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম বিধায় অভিনয়ের চাইতে পরিচালনার জায়গাটাতেই আমি বেশি আকৃষ্ট হই। তখন থেকেই নির্মাতা হবার স্বপ্ন দেখেছি।
১৯৯৭ সালে WIF–এর সাথে যুক্ত হয়ে ৪ মাসের একটি কোর্স করেছিলাম ফিল্ম নির্মাণের উপর। নজরুল ইসলাম সাহেব আমাকে কাজ শিখিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে ইউনিসেফের মাধ্যমে ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’ প্রামাণ্যচিত্রটি আমার স্ক্রিপ্টে প্রথম কাজ।
আসলে নির্মাতা বলতে আমার কাছে নারী-পুরুষ বলে কিছু নেই। তবে মেয়ে হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে যতখানি শ্রম ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় তা ছেলেদের ক্ষেত্রে হয় না। তাছাড়া অর্থনৈতিক বাধা বলেও একটা শব্দ আছে, যা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সব নারীর পক্ষে সম্ভব হয় না।
আমার কাজের মূল বিষয়বস্তু হলো নারী ও শিশু। পাশাপাশি সমাজে মানবাধিকার থেকে বিতাড়িত অবহেলিত মানুষ।
ভবিষ্যতে লেখালেখির পাশাপাশি আমি একজন প্রতিষ্ঠিত নির্মাতা হয়েই থাকতে চাই।
এ পর্যন্ত চলচ্চিত্র নিয়ে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁরা নিঃসন্দেহে ভালো অবস্থানে আছেন। সরকারের কাছ থেকে আমরা যে অনুদান পাই তা দিয়ে একটা ছবি মনমতো শেষ করা সত্যি কঠিন। তারপরও সমস্ত বাধার গ-ি পেরিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগাচ্ছেন এ দেশের মেয়েরা। অনুলিখন : রোদেলা নীলা
