যৌথবাহিনীর হাতে গুম-খুনের বিচার হবে: খালেদা জিয়া

by News Room

নির্বাচনের আগে-পরে যৌথবাহিনীর হাতে গুম ও খুনের ঘটনার একদিন বিচার হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯-দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রবিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত আইনজীবী নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিএনপি এবং ১৯-দলীয় জোটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি বলেও দাবি করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তারা কীভাবে নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে? প্রতিদ্বন্দ্বীই পেল না নির্বাচন কোথায় হলো?’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘অনেক ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। ১৯-দলীয় জোটের মানুষ ভোট  প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি। এটা হলো নীরব প্রত্যাখ্যান।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে কেউ ছিল না কুকুর ছাড়া। এ সরকারের উচিত সেই কুকুরগুলোকে খুঁজে বের করে পুরস্কৃত করা।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ‘সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে। বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই। এখানে সব চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রশাসন বলছে কিছু নেই। সেখানেও দলীয়করণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘র‌্যাব-পুলিশকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার বিরোধী দলের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। তবে যতোই জুলুম চালাবে মানুষ ততোই বিপক্ষে যাবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘জোর করে ক্ষমতায় বসে তারা সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিচ্ছে আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে দিচ্ছে। দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। সারা পৃথিবী একথা বলছে। বহু মানুষ গুম-খুন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসের কারণে মানুষ ঠিকতে পারছে না। কোনো সন্ত্রাসীকে ধরা হচ্ছে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। সরকার ৩০ জন ফাঁসির আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কেউ ভোট দিতে যাচ্ছে না। এজন্য কেন্দ্র দখল করে পোলিং এজেন্ট ও পোলিং অফিসার মিলে সিল মারছে। সিল মেরে ভোটের সংখ্যা বাড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছে- আমরা নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছি। কিন্তু আমি বলি আমরা নির্বাচনে না গিয়ে সঠিক কাজটি করেছি। আওয়ামী লীগের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারেনা তা প্রমাণিত হয়েছে।’

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সময় থাকতে যদি না সরেন তা হলে পরবর্তীতে আপনাদের আরো বেশি মাশুল দিতে হবে।

এর আগে বিকেল ৪টায় খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌছলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত নেতারা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন।

You may also like

Leave a Comment