আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্ষমতায় গেলে মিশরের অন্যতম রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ‘অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন’ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সদ্য সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর সোমবার প্রথম টিভি সাক্ষাৎকারে সিসি এই ঘোষণা দেন।
এ সময় তাকে হত্যা করার অন্তত দুটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়ার কথাও দাবি করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।
আগামী ২৬ ও ২৭ মে’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিসিই যে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থি হামদিন সাবাহি ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে না আশঙ্কায় অন্যরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না।
গত জুলাইতে সেনাপ্রধান থাকাকালে সিসি মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তখন পর্যন্ত ব্রাদারহুডই ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল।
মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেনাপ্রধান সিসিকে অনেকটা মিশরের ‘রক্ষাকর্তা’র ভূমিকায় তুলে ধরে দেশটির গণমাধ্যম। বামপন্থি এবং পতিত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের সমর্থকরা তাকে সমর্থন দিতে থাকে।
মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে ব্রাদারহুডসহ ইসলামী সমমনা দলগুলোর জোট অব্যাহতভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। এ সময় প্রায়ই তারা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। একপর্যায়ে ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে সেনা-সমর্থিত সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করে।
মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ব্রাদারহুডের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। অন্তত ১৬ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের সর্বোচ্চ নেতা মোহাম্মদ বদিইসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বহু নেতাকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
