আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (৩)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল:মাস্টার আজির উদ্দিন।আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক।পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু।মহান মাবুদ উনাকে বেহেশত নসিব করুন।তাঁর কাছেই আমি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করি।তিনি আমাদের এলাকায় শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।অজোপাড়াগাঁয়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বটবৃক্ষের ন্যায় গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।তিনি দীর্ঘদিন দিগারাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।তাঁর বাড়ী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের শ্রীখেল গ্রামে।তিনি আমাদেরকে জ্ঞান প্রদান করতে কোন কার্পণ্যতা করেননি।আমার মনে হয় আমরা যা শিখেছি তা ওখান থেকেই।

আমাদের আরেকজন Teacher ছিলেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের মান্নান স্যার।খুবই মেধাবী,পরিশ্রমী ও ছাত্রবান্ধব শিক্ষক।আর Madam এর কথা না বললেই নয়।বলা যায় মিতা Madam নিজ সন্তানের মতই আমাদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন।

এই মূহুর্তে আরেকজন মহিয়সী নারীর কথা উল্লেখ না করে পারছিনা।প্রাথমিক শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে যার অবদান ছিল অনেক অনেক বেশী।যিনি আমাকে আদর করে আমার মেধার স্বীকৃতি দিয়ে আমাকে “বিজ্ঞানী” ,পণ্ডিত ,কাল-পণ্ডিত ইত্যাদি বলে ডাকতেন।তিনি আমার খালাতো বোন ,গ্রামের লোকেরা যাকে মাস্টারনী বলে ডাকত। তিনি আমাদের প্রাইমারীর প্রধান শিক্ষক আজির উদ্দিন স্যারের সহধর্মিণী।আপা অনেক কষ্ট করে বাড়ীতে বিকালে,রাতে ও ছুটির দিনে নানাভাবে পড়াতেন,শিখাতেন।তাঁর বাড়ী ছিল আবাসিক ছাত্রাবাসের মত।

কবি বলেছিলেন,”আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা,তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া করো মেলা।” আমার মনে পড়ে আমরা প্রথমে গ্রামের মসজিদের দরস ঘরে Primary education নিয়েছি।এরপর গ্রামের কদম গাছের নিচে কিছুদিন ছিল প্রাথমিক শিক্ষালয়।তারপর বাঁশবেতের Present campus এ শুরু হয় শিক্ষাদান।কিন্ত এ ঘরটি ঝড়ে ভেঙ্গে যায়।ফলে পাশে Wapda Road এ লেখাই মেম্বারের দোকানের পেছনে বটগাছের নিচে Regular Class চলতে থাকে।

১৯৮৬ সনে Primary Education Complete এর সময় school টি পাকা হয়।তবে ছাদ ছাড়াই Building এ অনেক-দিন রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই আমাদের শ্রেণীকার্যক্রম চলে।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি:সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment