গোলজার আহমদ হেলাল : সম্ভবত ২০০০ সাল।ঢাকাতে থাকি।তেজতুরী বাজারে।সবেমাত্র অনার্স কমপ্লিট করেছি।Math অনার্স।একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে intensive কোর্স আয়োজন করেছিল।intensive training course for the graduates ITCG, সত্যি অনেক কিছু শিখেছি সেখান থেকে।
আমার মনে পড়ছে আমি আর সিলেট পলিটেকনিকের ইনজিনিয়ার আব্দুর রব ভাই আমরা দু’জন সিলেট থেকে অংশ নেই।
সারা দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রাণের স্পন্দন ঘটেছিল।বিশেষকরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত ছাত্র বন্ধুরা অসম্ভব মেধাবী।প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জুড়ি নেই।
আল্লাহর অপার করুণা এতসব প্রতিদ্বন্ধিদের মাঝেও আমি নিজেকে অবস্থান করে নেই।ইংরেজীতে আমি কম পারদর্শী হলেও ৪মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে দক্ষ হওয়ার সুবাদে আমাকে কেউ পেছনে ফেলতে পারেনি।বিভিন্ন পরীক্ষায় সেরা ফলাফলের গৌরব অর্জন করি।
ভোরবেলার প্রাতভ্রমণ তেজতুরী বাজার থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত।আর বৈকালিক আড্ডা তেজ
গাঁও কলেজও এর আশপাশ।বেশ ভালই কাটছিল দিন।
জীবন সাজানো আর ক্যারিয়ার গঠনের রংগিন পরিকল্পনা বাঁধতে জোর কাজ করছিলাম।
তেজগাঁও কলেজ নিজস্ব চারটি ছয়তলাবিশিষ্ট অট্টালিকা ও দুটি চারতলাবিশিষ্ট ভবন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জানা যায়,১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে জনাব মাওলানা আবুল খায়েরের নিরলস কর্মপ্রচেষ্ঠায় ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা ইসলামিয়া হাই স্কুলে ঢাকা নাইট কলেজ নামে সর্বপ্রথম এই কলেজের যাত্রা শুরু। তখন কলেজটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজ উদ্দীন আহমেদ ও সম্পাদক ছিলেন জনাব শফিকুল ইসলাম। সেসময়ে কলেজের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল, শিক্ষকরা বিনা বেতনে ক্লাস নিতেন। তারপর প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে জনাব মফিজ উদ্দীন কলেজটিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তর করেন। এখানে ১৮ মাস ক্লাস চলার পর আবার তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কলেজ স্থানান্তর করা হয়। এখানে ক্লাস চলে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। নানা প্রতিকূলতায় কলেজকে আবারও স্থানান্তর করা হয় তেজগাঁও শিল্প এলাকার আসাদুল হকের ক্রাউন লন্ড্রিতে। অব্যবহিত পরে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে কলেজটিকে নিয়ে আসেন ফার্মগেটের বর্তমান আল-রাজী হাসপাতালে। এসময়ে ‘ঢাকা নাইট কলেজ’ নামটি পাল্টে বর্তমান ‘তেজগাঁও কলেজ ঢাকা’ নামটি রাখা হয়।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের পর জনাব তোফায়েল আহমেদ অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলে কলেজটিকে স্থায়ী একটি নিবাস দিতে প্রাণান্তকর প্রয়াস শুরু করেন। তিনি তৎকালীন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের সহায়তায় ঢাকার ফার্মগেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজ ও ছাত্রাবাসের জন্য জায়গা ক্রয় করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব ইউসুফ আলী কর্তৃক ১২টন ঢেউটিন দিয়ে প্রথমবারের মতো কলেজের নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। বর্তমানে কলেজটি ফার্মগেটের ১৬ নম্বর ইন্দিরা রোডে নিজস্ব ভবন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
ফার্মগেট রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা।অসহনীয় যানজট আর দুর্ভোগ নগরবাসীর নিত্যদিনের কার্যক্রম বিষময় করে তুলে।
ভাবছিলাম ঢাকাতেই থেকে যাব।কিন্তু এ যাত্রা আর থাকতে পারলাম না।জন্মমাটি আর নিজ শহরের টানে মন ভারী করে ফিরত এলাম।
পুনরায় আবাস গড়লাম নান্দকিতায় সমৃদ্ধ এম সি কলেজের চির সবুজ ক্যাম্পাসের চিরচেনা ছাত্রাবাসে।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
