আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (২৮)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : জেলখানায় জাতীয় ও ইসলামী দিবসে কিংবা ধর্মীয় উৎসবের দিন খুব ভালো খাবার পরিবেশন করা হয় । বলা যায় উন্নতমানের খাবার । ১৯৯৯ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর জেলখানাতেই উদযাপন করি। পুরো রমজান মাস ইফতারীর সময় বেসনের তৈরী শক্ত পিয়াজো ,মুড়ি আর মেডিসিন যুক্ত সাদা সবজি ভাত আর শেষ রাত্রে সাহরীতে ঠান্ডা ভাতের সাথে এক টুকরা শক্ত মাছ কিংবা মাংস খেতে খেতে নাভিশ্বাস । ১ মাস সিয়াম সাধনা শেষে ঈদের দিনের সরকারী ভালো খাবার সত্যিই আনন্দকর ।খুব সু -স্বাদু মুখোরোচক পোলাও আর গরুর মাংস । সাথে সালাদ।

আফসোস হল ,সারা বছর বন্দীদের এরকম খাবার পরিবেশন না করলেও মোটামুটি ভাবে যদি একটু ভালো খবার দেয়া হত। তা হলেই কতই না ভালো হত। অথচ এই শক্ত মাংসের টুকরা কিংবা বাসী মাছ ভাজি নিয়ে কোন কোন রাজনৈতিক দল গুলোর ছাত্র – কর্মীদের জেল কর্মচারীদের সাথে হানা – হানিতে লিপ্ত হতে আমরা দেখেছি।

জানা গেছে ,রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বন্দীদের খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও সে অনুপাতে অর্থও বরাদ্দ হয় ।কিন্তু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা – কর্মচারীদের যোগ সাজশে তার সিংহভাগ লোপাট হয়ে যায়। ফলে কমদামী ও নিম্নমানের খাবার বন্দীদের সরবরাহ করা হয়।

ঈদের দিন দুপুরে কারাগারে অনেক লোক আমাদের দেখতে এলেন ।আমার যতটুকু মনে পড়েছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ( বর্তমানে আইনজীবী ),জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন অন্যতম নেতা এমরান আহমদ চৌধুরী,মুজিববাদী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিদু ভুষন দাশ পিন্টুসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতৃবৃন্দ। সে দিন (ঈদের দিন) জেলের পরিবেশ খুবই খারাপ ছিল। বন্দীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত হলেও রাত্রের একটি ঘটনা কে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে বন্দীদের আত্মীয় – স্বজন দেখার সুযোগ পায় ।

একটি ছাত্র সংগঠনের কিছু কর্মীদের উশৃংখলতার কারনে তা হয়েছিল । ঈদের দিন রাতে তাদের এক দলীয় কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় তারা জেল সুপারের বাসভবনে হামলা করেছিল। ফলে অবস্থা খারাপ হয়েছিল ।এবং আরো কিছু লোকজন তৎক্ষনাৎ আটক হয়। আটককৃত এ সকল ব্যক্তিবর্গ কারাভ্যন্তরে ও গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্ঠা করে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রাতের আধাঁরেই প্রশাসন জেল এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে ।

ভোরবেলা ঈদের দিনের সূর্যের সাথে দাঙ্গা পুলিশের সবুজ টুপির মিতালী আমাদের কে অন্য ধরনের সংকেত দিতে শুরু করলো। বিজ্ঞ জেলসুপার বিজ্ঞজনোচিত ভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলেন। ঈদের দিন জেল সুপার পরিদর্শনে আমাদের ওয়ার্ডে এলে তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে অপরাপর কর্মকর্তাদের বললেন “এরাই প্রকৃত ছাত্র। এরাই জাতির ভবিষ্যৎ। এদের মধ্যেই ছাত্রের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।” আর গোলযোগকারীদের ইঙ্গিত করে বললেন “ওরা ছাত্র নামের কলংক, বেয়াদব ও অভদ্র।”

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment