তুমি আজ ভালো নেই হে প্রিয় দেশ। তোমার পাঁজরে আজ অসহ্য যন্ত্রনা, বুকে জমে আছে বেদনা বরফ। তুমি আজ জল্লাদের খোলা মঞ্চ। রক্তস্নাত কসাইখানা। তোমার বুকে দুবৃত্তদের উল্লাস নৃত্য। ভালো নেই আমার শহর, শহরের মানুষ। গৃহবন্দী সবাই। বাড়ছে জনদুর্ভোগ। উৎপাদন বন্ধ, বাজারে সরবরাহ নেই। বিপন্ন হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। বাইরে গেলে ফেরার নিশ্চয়তা নেই। সন্তান ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা-বাবা, স্বামীর জন্য স্ত্রী থাকেন উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও শহরের বুকে জলপাই রঙের গাড়ি। যাত্রীবাহী বাসে আগুন, চলছে রেলপথে নাশকতা। পড়ছে বোমা, পুড়ছে মানুষ । চারদিকে বারুদ গন্ধ, ককটেল বিস্ফোরণ আর দাউ দাউ করে জ্বলে উঠা আগুন। । জঘন্য এসব কর্মকান্ডের দায়ভার নিতে রাজি নয় কোনো দল। নির্দ্বিধায় চলছে একে অন্যের প্রতি দোষারুপ। সমাধানের পথ হিসাবে বেছে নেয়া হয়েছে দমন-পীড়ন। জুলুম নির্যাতন। গণগ্রেপ্তার আর ধরপাকড়। সর্বত্র বিপন্ন রাজনীতির বিভৎস চিত্র।
সন্ধা নামতেই শহর জুড়ে পিনপতন নিরবতা। বোমার আঘাতে আঘাতে চেনা রুপ হয়ে যাচ্ছে অচেনা। ভাই ভাইকে মারছে, স্বজনকে মারছে স্বজন। হরতাল, অবরোধে ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পপতিদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। পণ্য পরিবহনে নেমেছে স্থবিরতা। জাতীয় রাজনীতির সর্বনাশা খেলায় শিক্ষার্থীদের জীবন ব্যাহত হয়ে পড়ছে। স্কুল কলেজ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ। দিনের পর দিন স্কুল কলেজে যেথে পারছেনা শিক্ষার্থীরা। সময় মতো পরীক্ষা দেওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছে তাদের শিক্ষা জীবন। দুই পক্ষই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। বার বার মানুষের ব্যালট বিপ্লবে রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এলেও জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার তারা পূরণ করেননি। সরকারি দল বলছে জনগণ তাদের পক্ষে আবার বিরোধী দল বলছে জনগণ তাদের পক্ষে। তাদের সর্বনাশা খেলঅয় মানুষ যে অতীষ্ট তা তারা তারা বুঝতে চাচ্ছেন না। তাদের আজ রক্ত চাই। পোড়া লাশ প্রয়োজন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু মানুষ রাজনীতিবিদদের বলছে, আমরা আর পারছিনা। তোমরা আমাদের ক্ষমা করো। আমাদের মুক্তি দাও, মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে দাও হে রাজনীতিবিদগন।
