১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর থেকেই পূর্ববাংলার মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের কবলে পড়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে এদেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে। পশ্চিম পাকিস্তানিদের সে অপচেষ্টা পূর্ববাংলার ছাত্র-জনতা রুখে দেয়। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সফলতার মধ্য দিয়েই রোপিত হয়েছিল এ অঞ্চলের স্বাধীনতার বীজ। ভাষা আন্দোলনের রক্ত পিচ্ছিল পথ বেয়েই এসেছিল ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম।
১৯৭০-এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রমনা রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভা থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে এদেশের মানুষ। জনগণের আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আলোচনার ফাঁদ পাতে। শেখ মুজিবুর রহমান সে ফাঁদে পা দেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত আলোচনার নাটক করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গোপন নীলনকশা বাস্তবায়নের চক্রান্ত করে। সে নীল নকশা অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাতে সশস্ত্র পাক হানাদার
হঠাৎ আক্রমনে কিংকর্তব্যবিমঢ় হয়ে পড়ে গোটা জাতি। আক্রমনের শুরুতেই পাক হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন শেখ মুজিবুর রহমান। অন্যান্য নেতারা আত্মগোপন করেন। জাতিকে আশ্বস্ত করার মতো কাউকেই পাওয়া যায় না। সে মুহূর্তে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেন। জাতি সম্বিৎ ফিরে পায়। শুরু হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তির লড়াই। লাখো শহীদের আত্মদান ও মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অবশেষে আসে সে শুভদিন। ’৭১এ ভোরে বাংলাদেশের পূর্ব দিগন্তে যে সূর্যটি স্নিগ্ধ আলো ছড়ায়, তা বয়ে নিযে আসে স্বাধীনতার শুভবার্তা।
দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ময়দানে পাক বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। তিনি মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের এক আলোকিত দিন। এ দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা। স্মরণ করিয়ে
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দৈনিক পত্রিকাগুলো সম্পাদকীয়, বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। রেডিও ও টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
কর্মসূচি : আজ সরকারি ছুটির দিন। সূর্যোদয়ের সময় এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।
সূর্যোদয়ের ক্ষণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শ্রদ্ধা জানাবেন সকাল ৭টায়।
সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বাদক দল রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করবে।
দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
সিলেটেও মহান বিজয় দিবস পালনে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে।
