গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সামনে অব্যাহত শিক্ষার্থী হত্যা, পটুয়াখালিতে বিজয় দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাঁধা এবং জাহাঙ্গীরনগর ছাত্র ইউনিয়ন নেতা অমর্ত্য রায় ও ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি মনীষা ওয়াহিদের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের কর্মী আশরাফুল ইসলাম নাদিম। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাশরুখ জলিল, ঢাকা মহানগর সংসদের অন্যতম নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন, সিলেট জেলা সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক প্রান্তিক দীপম প্রমুখ।
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি মনীষা ওয়াহিদ বলেন, “অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তবর্তীকালীন সরকার ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে, অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন। রাস্তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের লাশ রেখে উপদেষ্টারা নানারকম তামাশা দেখাচ্ছেন, অদ্ভুত সব দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে দিচ্ছেন। এইসব হত্যাকান্ডের দায়ভার অন্তবর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে।”
জেলার সাধারণ সম্পাদক মাশরুখ জলিল বলেন, “পতিত স্বৈরাচারের দোসর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শেখ মুজিবুর রহমানের একটি পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালচিত্রের উপর ধর্ষণবিরোধী গ্রাফিতি আঁকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আমাদের সহযোদ্ধা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অমর্ত্য রায় এবং সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলীকে একইসাথে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চাপিয়ে দেওয়া হয় এই দুই ছাত্রনেতার নামে। এই ঘটনা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট চরিত্রকেই ধারণ করেনা, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিপরীতমুখী অবস্থান ও ধর্ষকামী চরিত্রেরও পরিচায়ক। সেই মামলায় ওয়ারেন্ট জারির মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসনের ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ পায়। অবিলম্বে এই অন্যায্য মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।”
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের যে ঐক্য চেতনা তার ব্যতয় না ঘটানোর জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
