রিমা বেগম পপি ;–আযানের ধ্বনি শোনে বিন্দুর ঘুম ভেঙ্গে গেল।ফযরের আযানের একটা মধুরতা আছে।বিন্দু ফযরের নামায পড়ে তেলাওয়াত করে বারান্দায় বসে বসে ভাবছে।
ঘরের সবাই ঘুমিয়ে আছে।শুধু বিন্দু জেগে জেগে নিজের জীবনের কথা ভাবছে।আর ভাবেনাই বা না কেন?এখনকার সময়র আর আগেরকার সময় কত তফাৎ।
বিন্দু অনাস ১ম বষের ছাত্রী ছিল।এখন লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে।বিন্দুর একটা ভাই আছে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।বাবার ব্যবসা আছে।ব্যবসার কাজে বাবা প্রায়ই বাইরে থাকেন ।এখন বিন্দুর জন্য পাএ খুজছেন।বিন্দুকে তিনি খুব ভালাবাসেন।বিন্দু যখন এইচ এস সি ১ম বষে তখন থেকেই একটা ছেলে বিন্দুকে ডিস্টাব করত।
এখনকার যুগে মোবাইলে ডিষ্টাব খুবই কমন বিষয়।প্রথম প্রথম বিন্দুতেমন পাত্তা দিতনা।
পরে একটা সময় হলো ফোনে কথা বলতে বলতে ওই ছেলে সাগরের প্রতি বিন্দুর একটা টান হয়ে গেল।প্রতিনিয়ত ফোনে কথা হতো।কখন কোথায় যাচ্ছে,কি খাচ্ছে,কি পড়ছে
কলেজে কি হলো ,পরিক্ষায় কত পেল ইত্যাদি ইত্যাদি।দিনের পর দিন,রাতেরপর রাত এভাবেই কাটিয়ে দিত। দেখতে দেখতে তাদের দুই বছর কেটে গেল।হঠাৎ একদিন সাগর বলল,তোমার বাবা কখনইআমাদের সম্পক মেনে নেবেন না। আমি যদি বিয়ের প্রস্তাব দেই তাহলে আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। বিন্দু বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। আমি তোমাকে হারাতে চাইনা,তুমি আমার প্রাণআমি তোমার মত মেয়েকে জীবন সঙ্গী করতে চাই। আমি মনে মনে চাইতাম আমাকে ন্রম একটা মেয়ে ভালবাসবে,নামাযী মেয়ে হবে। আমি তোমাকে পেয়েছি। আমি আধুনিকা মেয়ে পছন্দ করিনা। তোমার মত পরিপাঠি,সহজ,সরল মেয়েকে চাই। তোমাকে আমার ঘরের বউ বানাবো সপ্ন দেখি আমি। এক কাজ করি বিন্দু,আমারাতো কেউ কাউকে ছাড়া বাচবোনা। চল আমরা দুজনে বিয়ে করে ফেলি।
পরে তোমর মা বাবাকে জানাব।
তখন দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন বিষয়টি লুকিয়ে রাখবো। বিন্দু সাগরের কথায় মোহে পড়ে রাজি হয়ে গেল। কিন্তূ এদিকে বিন্দুর বাবা-মা ও বিন্দুর বিয়ে ঠিক করলেন। তাই বিন্দুর কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। এদিকে সাগর বিয়ের সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে শুধু সাইন দেওয়াটা বাকি। বহূ কষ্ট করে বিন্দু তার ভাইকে নিয়ে বেরিয়েছে।
সেই সুযোগে ভাইয়ের আড়ালে গিয়ে বিয়ের কাবিনে ন করে দিল।বিন্দুর মনে ছিল এক সময় মা বাবা রাজি হবেন। তাদের মেনে নেবেন। বিয়ের কয়েকদিন পরেই সাগরের বাইরে যাবার অফার এলো।
কিন্তূ সাগর প্রথমে বিন্দুকে ছেড়ে যেতে চাইলনা। কিন্তূ অনেক বুঝিয়ে তাকে যাবার কথা বলল। সাগর চলে গেল। আর বিন্দু একদম একা হয়ে গেল।
এদিকে সাগর বাইরে যাবার দুই-তিন মাস পর বিন্দুর বিয়ে পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেল। বিন্দু মা-বাবাকে বলল এ বিয়ে হবেনা। হতে পারেনা। বাবা-মা কারণ জানতে চাইলে, বিন্দু বলে আমি সাগর নামে একটা ছেলেকে ভালবাসি এবং কয়েকমাস আগে তাকে বিয়ে করে ফেলেছি। বতমানে সে বিদেশে আছে। সাগর দেশে এলেই আমাকে নিয়ে যাবে। আমাকে ক্ষমা দাও-বাবা মা। আমি তাকে খুবই ভালবাসি। তাকে ছাড়া বাঁচবোনা বাবা।জীবনে যা চেয়েছি তাই তুমি আমাকে এনে দিয়েছ।নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে সাগর। তাই আমি বিয়ে করে ফেলেছি সাগরকে।বিন্দুর মা-বাবা হতবাক।
প্রায় দশ থেকে পনের দিন বিন্দুর সাথে তারা কেউই কথা বলেন নি। তারপর আস্তে আস্তে স্বাভাবিক পরিস্হিতি ফিরে এলো। অল্প অল্প করে কথা বলা শূরূ হলো।সাগর বিন্দুর মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাইলো।
এবং বিন্দুকে দেশে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ে যাবে। কিন্তূ সাগর তার কথা রাখেনি।এক বছর হতে নাহতেই সাগরের মন পাল্টে যেতে লাগলো। সাগর আগে প্রতি দিনই ফোন দিত বিন্দুকে। এখন মাসে একবার দেয় আবার কখন দেয়না। এভাবে কয়েকমাস চলে গেল। বিন্দু কারণ জানতে চাইল। তখন সাগর বলল,বিন্দু তুমি আমাকে ভুলে যায়। আমার জন্য দেশে খুবই সুন্দর ও স্মাট মেয়ে পছন্দ করেছেন। আমি ফিরে এসে তাকেই বিয়ে করবো।
তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও। আমাকে ক্ষমা করে দিও বিন্দু। আমি আর তোমাকে ফোন দেবনা। দিলে শুধুই কষ্টই পাবে। বিন্দু সাগরকে বলল,ভুলে যাওয়াটা সহজ নয় সাগর। তুমি বলেছিলে তুমি আধুনিকা মেয়ে পছন্দ না। এখন সেই তুমি বদলে গেলে।আসলে তোমার কোন দোষ দেবনা।এখনকার যুগে আমার মত আন কালচারের চেয়ে স্মাট মেয়েকে বিয়ে করলে তুমি সুখি হবে।
আমিতো জিন্স পরে তোমার সামনে আসতে পারবনা। স্মাট মেয়েরা পারবে। তোমার সিদ্ধানতই সঠিক।এই ছিল সাগরের সঙ্গে বিন্দুর শেষ কথা। এই কথাগুলো বিন্দু কাউকে বলেনি।এমনকি মা বাবাকে ও না।
বিন্দু শুধু অপেক্ষায় থাকে। সাগর আসবে। সেই থেকে আজ অবদি বসে থাকে বিন্দু,সাগর আসবে এই বলে মনকে সান্তনা দেয়। আজ ও বসে বসে ভাবছে সাগর তার অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। তার স্বপ্ন সত্যি হবে। আসবে ভেবেই তার ভালবাসর অপেক্ষায় সময় কাটায় বিন্দু। বিন্দু এই অপেক্ষা কত দিনের কত মাসের অথবা কত বছরের তার অবসান কেউ ঘটাতে পারবেনা। কারণ কি ফিরে আসবে তার কাছে নাকি মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করবে……………..?
বিন্দুর অপেক্ষা
248
previous post
