ইরাকে জাতীয় ঐক্যের সরকার চাইছে আমেরিকা

by News Room

নিউজ ডেস্ক: সঙ্কট মোকাবেলায় সাহায্য করতে আমেরিকা, ইউরোপ ও জাতিসঙ্ঘকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরাকের মালিকি সরকার, যার মধ্যে বিমান হামলার অনুরোধও জানানো হয়েছে। অমেরিকা ইরাকি সরকারের অনুরোধ সম্পর্কে এখনও কিছু বলে নি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মি. মালিকি, তার সুন্নি প্রতিপক্ষ এবং কুর্দি এক নেতাকে ফোন করে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য চাপ দিয়েছেন।

ইরাকে একটা রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউজ বুধবার থেকেই জোর চেষ্টা শুরু করে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বুধবার হোয়াইট হাউসে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে তিনি ইরাক প্রশ্নে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

এই বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ওবামার দিক থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সহসাই কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে। বরং হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জে কার্নি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরাকের মাটিতে যুদ্ধ করতে মার্কিন সেনা পাঠানোর কোনো চিন্তা প্রেসিডেন্ট ওবামার নেই।

মি. কার্নি বলেন, “ইরাকের এই পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রেসিডেন্ট সব ধরণের পদক্ষেপই তার বিবেচনায় রেখেছেন, কোনো কিছুই তিনি বাদ দিচ্ছেন না। কিন্তু লড়াই করার জন্য মার্কিন সেনা পাঠানোর কোনো প্রশ্ন উঠে না। প্রেসিডেন্ট ওবামা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইরাকের এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, এটা রাজনৈতিক সমস্যা, এর রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।”

আর এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরাকী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকীকে ফোন করেন। মি বাইডেন সুন্নি এবং কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

এসব টেলিফোন আলাপে ইরাকে একটা জাতীয় ঐক্যের ওপরই তিনি বেশি জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সেনেটর জন ম্যাককেইন আরও একধাপ এগিয়ে নুরি আল মালিকিকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ওবামা প্রশাসনও আসলে এরকমটাই চাচ্ছে। ওবামা প্রশাসন মনে করে নুরি আল মালিকি ইরাকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র করেছেন, এবং তার নীতির কারণেই আইসিসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে।

ওয়াশিংটনের এই মনোভাবে স্বাভাবিকভাবেই অখুশি নুরি আল মালিকির সমর্থকরা। তার দলের মুখপাত্র জুয়াহের আল নাহার অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যত ইরাককে পরিত্যাগ করেছে।
তিনি বলেন, “ইরাককে যেন সবাই পরিত্যাগ করেছে, ইরাকের নেতাদের মধ্যে এমন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।”

ইরাকে জরুরি ভিত্তিতে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।– বিবিসি।

You may also like

Leave a Comment