মুনির উদ্দিন মাষ্টার:
দুনিয়ার কোন দেশে হঠাৎ করে এক রাত্রে প্রায় ১৫ লক্ষ লোক হত্যা করা হয়নি। বাংলাদেশে হত্যাকরা হয়েছে ১৯৭১ সনের পঁচিশে মার্চের রাতে। পরে দীর্ঘ ৯ মাসের মধ্যে বাকি আরও ১৫ লক্ষ লোক হত্যা করা হয়েছে। পশ্চিমা হায়নারা ধোকা দিয়ে সমস্ত রাজনীতিবিদকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ক্ষমতা দেওয়ার বাণী শুনিয়ে ২৩ মার্চ ঢাকায় সামরিক শাসন জারি করেছিল, যার মূল্যমান (অপারেশন সার্চলাইট)। তাই সকল মানুষ ওই গণহত্যা বিরুদ্ধে আবারও দাঁড়াতে হবে। ইয়াহিয়া ভুট্টোর প্রতারণায় মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। আরো ২ বৎসর পর স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পালিত হবে। কিন্তু জনগণ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। জনগণ যথই স্বাধীনতার বুলি দিয়ে চিৎকার করুক না কেন, তারা মুক্ত হতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের ঘন্টা জনগণই বাজিয়ে ছিল তারা মৃত্যুর শিকার হয়েছিল। কিন্তু বৃটিশ পাকিস্তানী প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিবর্তন করতে পারেনি। দুনিয়ার সব মানুষ মনে করে বাংলাদেশের একজন মেয়ে বা পুরুষ সকলই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু কিছু মানুষ মনে করে গোটা কতেক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছে আসলে তা সত্য নয়। ৩০ লক্ষ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছিল, ২ লক্ষ মা-বোনেরা ইজ্জৎ দিয়েছিল ও শত শত হাজার হাজার কৃষক শ্রমিক বুদ্ধিজীবী হত্যার কারণে এই দেশে সংঘটিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের স্মরণ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধ বলে যতই চেচামেচি করা হোক না কেন কিন্তু এদের মধ্যে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা সবাই নয়। বেশির ভাগ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ। তাই এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কে বের করে আনতে হবে এবং বাংলাদেশের সব বেকার মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিতে হবে। রাজাকার আলবদর, আল-শামছ, যোদ্ধাপরাধি ছাড়া সকলেই মুক্তিযোদ্ধা। যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে তারা এখনই নিজেরা বা তাদের আত্মীয়-স্বজন দ্বারা জনগণকে শোষণ-নির্যাতন করছে। দেউলিয়া করে রাখছে এ সমাজকে। আজকে সময় এসেতেছে মানুষ তাদের অত্যাচার সহ্য করতে পরবেনা। অনেক মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে গণহত্যার শিকার হয়েছে। মা-বোনদের সমুখে ধর্ষণ করে আবার হত্যাও করছে, তার বুরি বুরি প্রমাণ আছে। এরা কি ভাতা পাবেনা? আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধাকে এতে ছোট করছি কেন? শুধৃুই কি ক্ষমতার লালসে এ গর্হীত রাজনীতি করছিনা? রাজনীতিকে বাংলাদেশের সকল মানুষের নীতিতে পরিণত করতে হবে। গণতন্ত্র সকল মানুষের তন্ত্র। এখনও কি আমরা বুঝতে পারছি না? এদেশের মানুষ একটি প্রগ্রতিশীল অর্থনীতি প্রয়োগ করতে না পারলে দেশের মানুষ বাঁচবেনা। একদিন রশাতলে যাবে সকল ক্ষমতা। খেটে খাওয়া মানুষই এক হাতে লগি-বৈঠা ও অন্য হাতে অ¯্র ধরেছিল এবং পাঞ্জাবীকে হটিয়ে ছিল তা অস্বীকার করার কোন কারণ নাই। বড়লোকেরা ভেগে ভেগে মুক্তিযোদ্ধকে এড়িয়ে চলেছিলেন আমরা কি দেখি নাই? কিন্তু কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ নিজের মাটিকে কামড় দিয়ে ধরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। আমরা দেখেছি গ্রামে-গঞ্জে, গুলা-বারুদ বহণ করেছে রাস্তা ঠিক করে দিয়েছে। পেক কাদায় বাস গাছ ফেলে রাস্তা করে দিয়েছে। অনেককে খানিও দিয়েছে। নিজের গায়ের শীতের কাথা-বালিশ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দিয়েছে। আজকে তারা ভাতা পাবেনা কেন? তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মুল্যায়ন করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়িয়ে দিয়ে সকল বেকার মানুষকে ভাতা প্রদান করতে হবে।
শুধু কেন মুক্তিযোদ্ধাদের লিষ্ট করা হয়? যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকার মুক্তিযোদ্ধের লিষ্ট করে। রাজাকারদের লিস্ট কোথায়? তাই বর্তমানে সরকারেরই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, এখনও হাজার হাজার আলবদর, রাজাকার, আল-শামছ, যুদ্ধাঅপরাধি দালাল চক্র আছে। সরকার মদদে বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছে। তারা সরকারের মোটা অংশ নিয়ে শিয়ারে আছে। সেটা এই সমাজের মানুষ বুঝতে আছে। কৃষক শ্রমিক গরিক মেহনতি মানুষ কেন দেশ প্রেমিক হয়? তারা যে কোন সময় দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকে। কারণ তাদের কাছে টাকা থাকে না। গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিদেশ গিয়ে তারা আশ্রয় নিতে পারে না। তাই তারা দেশ প্রেমিক না হয়ে পারেনা। তার পর্ণ কুটিরের মায়া থাকে, করাণ সে অন্য কোন কুটির পাবেনা। বড় লোকেরা একদিগে ফেলে যায় অবৈধ সম্পদ অন্য দিকে অবৈধ দখল করে।
সকল মানুষ কে অনুরোধ করে বলছি, চিন্তা করে দেখতে হবে মুক্তিযোদ্ধা কারা করেছিল? তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যতয় বলা হোক না কেন তা বুুলি মাত্র। কার্যকর কিছুই নাই। যে বৃটিশ, সেই পাকিস্তান, সেই আবার বাংলাদেশ। নামের পরিবর্তন হয়েছে ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন হয়নি। সমাজ এখনও সেই সেকেলেই রয়ে গিয়েছে, তাই চিন্তা করতে হবে। মানুষ বাড়তে, বাড়তে, আরো ২ কোটি বেড়ে গেলেই মানুষ জেগে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। ভুয়া কথায় পেট ভরবেনা। মানুষকে একটি কাজ দিয়ে, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিয়ে শাসন করতে হবে। যে যেভাবেই ক্ষমতাই জাননা কেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার দিয়ে শাসন করতে হবে। মানুষের প্রয়োজন বিবোচনায় না এনে উল্টা শাসন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। করণ অপরাধই দুনিয়াতে দায়ী, অপরাধী নহে। স্বাধীন দেশের আমাদের প্রশসকরা বোঝা উচিৎ।
লেখক- বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী ও কলামিষ্ট।
