ঐশি এখন কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন জন বলেন, ঐশীর মধ্যে কোন অনুশোচনা লক্ষ করা যাচ্ছে না। আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবেই তার দিন কাটছে। অন্য বন্দিদের সাথে সে নিয়মিত গল্প খেলাধুলা করছে, কারাজীবনকে ঐশি একরকম মানিয়েও নিয়েছে। জেলে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম তাকে মাদকের নেশায় পেয়ে বসলেও পরে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাকে আর ঐ সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে না।
পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার অভিযোগে তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলেই ঐশীর বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মেডিকেল বোর্ড হত্যকা-ের সময়ে ঐশীর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছে। চারটি ধাপে পরীক্ষার সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে, ঐশী রহমানের ছোট ভাই ওহী রহমান তার চাচা মশিউর রহমানের ময়মনসিংহের বাসায় রয়েছে। চাচা মশিউর রহমান ঢাকাটাইমসকে জানান, ওহীকে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আগামী বছর তাকে স্থানীয় একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেনিতে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ওহীর মধ্যে বাবা-মায়ের অভাবটা প্রবলভাবেই দেখা যাচ্ছে। তবে সে খুব চাপা স্বভাবের হওয়ায় কারো কাছেই সেভাবে কিছু প্রকাশ করছে না। তবে মাঝে মধ্যে ঐশীর কথা জিজ্ঞাসা করে। আপু কেমন আছে কোথায় আছে? সে সময়ে আমরা তাকে বলি ঐশী অসুস্থ থাকায় তাকে ঢাকায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ঢাকার চামেলীবাগে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৭ আগস্ট তার একমাত্র মেয়ে ঐশী থানায় গিয়ে নিজেই বাবা-মাকে খুনের কথা স্বীকার করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
