সিলেটের খবর ডেস্ক: সুযোগ পেলে শতকরা ৩০ ভাগ ইসরাইলি দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছে বলে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের এক ভয়াবহ যুদ্ধের পর এ জরিপটি পরিচালিত হয়।
জনমত জরিপে অংশ নেয়া লোকজনের বরাত দিয়ে ইসরাইলের চ্যানেল টু টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসরাইলের এসব মানুষ আরেকটা যুদ্ধ দেখার মতো অবস্থায় নেই।
জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ ইসরাইলি এখনো দেশত্যাগের কথা ভাবছে না। অন্যদিকে ৪ শতাংশ ইসরাইলি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় বছরে তিনটি যুদ্ধ দেখার পর লোকজন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করছে। তবে এ জনমত জরিপে বলা হয়নি কতজন এতে অংশ নিয়েছিল।
কিছুদিন আগের এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে- গত দুই দশকে অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে অন্তত দশ লাখ ইসরাইলি চলে গেছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অব্যাহত সহিংসতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইসরাইল থেকে মধ্যবিত্ত লোকজনের দেশ ছাড়া এখন কোনো লজ্জার বিষয় নয়।
সম্প্রতি যেসব লোক চলে গেছে তারা অকপটেই বলেছে, ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতা ও জীবনযাত্রার উঁচু মাত্রার খরচের কারণে তারা ইসরাইল ছেড়েছে।গত ৮ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গাজায় আগ্রাসন চালিয়েছে ইসরাইল।
এ সময় ইসরাইলি হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও হামাসের রকেট হামলায় গাজা উপত্যকা সংলগ্ন ইসরাইলি এলাকাগুলোতে এক বিভীষিকাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসব এলাকা থেকে হাজার হাজার ইসরাইলি অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ শেষ হলেও তারা এখনো নিজ বাড়িঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।
৫০ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় ২,১৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১১,০০০ লোক আহত হয়।
অন্যদিকে হামাসের হামলায় ৬৬ ইসরাইলি সেনা ও ৬ বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল।
২০০৬ সালে লেবাননে হেজবুবল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ১১৯ ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর এটাই ছিল ইহুদিবাদী সেনাদের সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি।
সূত্র: প্রেস টিভি, ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
