পুষ্পিতা
২০১২ সালের দিকে বাংলাদেশের ইসলাম ও ইসলামী রাজনীতি যে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল তা ১৯৭১ সালের পর আর হয়নি। ইসলামী রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি জামায়াত যখন চরম চাপের মুখে, কেউই যখন তাদের পক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণের সাহস পাচ্ছিল না, মাওলানা নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদ সহ ইসলামী রাজনীতির দিকপালরা যখন সবাই কারাগারে এবং ফাঁসির মঞ্চে, শাহবাগকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের সকল ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি যখন চূড়ান্ত আঘাত হানা শুরু করেছিল, তখন বাস্তবেই কোন জায়গা থেকে আশার আলো দেখা যাচ্ছিল না। কেউই কোন কথা বলছিল না, কোথাও একটু দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক ওই সময় শাহ আহমদ শফি ও জুনায়েদ বাবুনগরী তথা কওমী আলেমদের নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি সাহায্য হিসেবে নাযিল হয়েছিল। চরম হতাশায় পতিত জাতি পরিপূর্ণ আশার আলো খুঁজে পেয়েছিল তাদের মাধ্যমে।
হেফাজতে ইসলাম ২০১২/১৩ সালে এদেশের সকল শ্রেণি, দল, মত বিশেষ করে সাধারণ মানুষকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিল তা বিগত এক শতাব্দীতে আর কেউই পারেনি। জাতিকে এতটা সাহস আর কেউই যোগাতে পারেনি। তাদের অভাবনীয় ও অকল্পনীয় প্রতিরোধ শাহবাগের সকল ষড়যন্ত্র বালির বাঁধের মতো ধ্বসে পড়েছিল। জাতি পেয়েছিল নতুন পথের দিশা।
পরবর্তীতে কি হয়েছে না হয়েছে তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু ২০১২/১৩ সালে এক দিশাহীন জাতিকে যেভাবে অসীম ও দুর্দান্ত সাহস যোগানোর প্রয়োজন ছিল তার সবটুকুই করেছে হেফাজতে ইসলাম। এই একটি কারণে, শুধুমাত্র এই কারণে বাংলাদেশের ইসলাম, ইসলামী রাজনীতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে হেফাজতে ইসলাম, শাহ আহমদ শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী সহ কওমী আলেম ও মাদ্রাসার নাম।
সময়ের দাবী বা প্রয়োজন পূরণের সাহস, যোগ্যতা সবার হয় না, সবাই পারে না। বাংলাদেশের হেফাজতে ইসলাম সহ কওমী আলেমরা পেরেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা তারা পুরোপুরি করেছিল সে সময়। যুগে যুগে এদেশের মানুষ শাপলা চত্ত্বরকে মনে রাখবে, শহীদদের স্মরণ করবে এবং বলবে, বাংলাদেশে ইসলামের চরম দুর্দিনে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেভাবে আবার এগিয়ে আসুন। সমসাময়িক ইসলামী নেতৃত্বকে জনগণ বারবার উদাহরণ দিয়ে বলবে, অনেক প্রলোভন ও ভয়কে উপেক্ষা করে হেফাজতে ইসলাম যেভাবে জাতিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিল, আপনারাও আসুন।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি ২০১২-১৩ সালে, সময়ের যতটুকু প্রয়োজন ছিল তার সবটুকু দায়িত্বই হেফাজতে ইসলাম পালন করেছে। পরে কি হয়েছে সে জন্য তাদের ২০১৩ সালের অসীম সাহসী ভূমিকার কথা জাতি ভুলে যাবে না। তাই আমার মতে ২০১৩ সাল ছিল ইসলাম ও ইসলামী রাজনীতির জন্য এক বিশাল সন্ধিক্ষণ। সেই ঐক্যের উপর ভিত্তি করে ইসলামী রাজনীতি এগিয়ে যেতে পারে।
আল্লাহ যেন শাহ আহমদ শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী সহ শাপলা চত্ত্বরের সকল শহীদদের উত্তম মর্যাদা দান করেন সেই কামনা করি।
লেখক:চিকিৎসক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
