মুসলমানদের সেকাল একাল:মুজিবুর রহমান

by News Room

আগেকার  মুসলামনাদের বড় অদ্ভূত সব আমল আর সখ ছিল।তাদের সব চেয়ে বড় আমল ছিল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।ঘোড়া আর তরবারি ছিল সবচেয়ে সখের বস্তু।লড়াইয়ের ময়দান থেকে বিজয়ী বেশে ফিরে তারা সবচেয়ে বেশি সম্মান অর্জন করতে পারত।শাহাদাত তাদের কাছে পরম সৌভাগ্যের বিষয় ছিল।

বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ কারীদের বিসিএস ডিগ্রি ছিল।তাদের মর্জাদা সব চেয়ে বেশি।
কুরান ভালো করে জানলে তারা মাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতো।তায়েয়েফের বালক উসমানকে এ গুণের কারণে দলপতি নিযুক্ত করা হয়।

তারা আমাদের মতো এতো গণতন্ত্র বুঝতো না।আবুবক্র রা.কে তারা মাতামাতি করেই খলিফা বানিয়ে ফেলে।

তাদের জ্ঞান খুব সীমিত ছিল।কমিউনিজমের সাম্যবাদ,প্লেটোর সাম্যবাদ,দার্শনিক রাজা,পুজিবাদ,গণতন্ত্র,জাতীয়তাবা,ধর্মনিরেপেক্ষ শাসণ,ইত্যাদি জীনব্যবস্থা তারা মানতো না ফলে তারা ম্লেচ্ছ মুসলমানই থেকে যায়।

তাদের মাত্র দুটি জ্ঞানে পারদর্শীতার নজির পাওয়া যায়।কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ।যা অধুনিক মুসলমানদের খুব একটা দরকার পড়ে না। কারণ, দেশ শাসন, রাষ্ট্র পরিচালনা,শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য উপরোক্ত জীবন ব্যাবস্থা বা ধর্ম ( গণতন্ত্র,ধর্মনিরেপক্ষতা,পুজিবাদ,কমিউনিজম) ইত্যাদিকে তারা আয়ত্ত করে ফেলেছে।এখন সেকেলে ইসলামকে টেনে আর ঝামেলা বাড়াতে চায়না।

অবশ্য আগেকার মুসলমানেরা হয়তো ভুলবসতই  আধুনিক বিজ্ঞানকে পথ  খোলে দিয়েছিল।সক্রেটিস,প্লেটো,এরিস্

টটল,এদের বইয়ের বিনিময়ে তারা কর মাফ করে দিত।খলিফা মামুন তো  সাহিত্যের বিনিময়ে কিছু রাষ্ট্রে বার্ষিক কর মাফ করে ছিলেন।

তারাই সর্বপ্রথম মেডিকেল বিশববিদ্যালয় স্পেনে স্থাপন করেছিল যা ইউরোপে নিষিদ্ধ ছিল।তোপ কামান,বন্দুক ইত্যাদি আবিষ্কার করেছিল তাদের প্রয়োজনেই।প্রয়োজন পড়েছিল বিধায় রসায়ন,পদার্থ,বীজগিণিত,জ্যামিতি ইত্যাদির উৎকর্ষ সাধন করে। যুক্তিবিদ্যায় তাদের চেয়ে বেশি কেউই চর্চা করেনি।ফলে অনেকেই তখনকার সময়েও মুক্তমনা হয়ে গিয়েছিল।কেউ তো বিশব জয়ে বের হয়েছিল।ভুগোল আলদ্রিস ও সিরাজী তো সর্বপ্রথম দুনিয়ার মানচিত্র একে ফেলেন।আর ইবনে খালদুন বেচারা বসে বসে ইতিহাস আর সাহিত্য লিখতেই থাকেন।

বাদশারা এতো মুর্খ ছিল সোনাদানা মহরের বিনিময়ে তারা শুধু বই আর বই লেখাত।নিজেদের দরবারে পৃথিবীর বিখ্যাত সব পন্ডিতদের সমাদর করে রাখতো।

আস্তে আস্তে মুসলমানদের জ্ঞান হলো। জিহাদ ও দাওয়াত ছেড়ে দিল।রাষ্ট্র শাসন ছেড়ে দিলো।তারা তারা অন্যকে দিয়ে সব করাত।ইরাকে তো নিজের বউকে পর্যন্ত তাতারিরা ইউজ করতে পারতো।নিজের দেশ তারা বিধর্মীদের দিয়ে চালাতে শিখলো।নিজেরা বসে বসে দেখে দিন পার করতে লাগলো।
এভাবেই মুসলমানদের আরামের  দিন শুরু হলো। শাসক শ্রেণী তাদের বুঝালো তোমরা উৎপাদন করো। আমরা যুদ্ধ করব, দেশ পরিচালনা করব।মুসলমান মুর্খদের আবিষ্কার করা প্লেটোর আদ্র্শ রাষ্ট্রের দর্শন,  মুসলমানেরা বাস্তবায়ন করে দিল।তারা সবচেয়ে প্রান্তিক জনগণ বা উৎপাদক হয়ে সুখে থাকলো।

সবচেয়ে আফসোসের সংবাদ হলো দিকে দিকে কিছু মডারেট মুসলিম মুর্খ হতে চাইছে।ফলে তারা আবার ক্ষমতায় যেতে চায়।কি যে অবস্থা পৃথিবীর হবে আল্লায় ভালো জানে।হাল ছাড়িয়ে ঢাল ছাড়িয়ে পথের ভিখেরি
খাপের মধ্যে বন্দী প্রিয় বন্ধু তরবারি

You may also like

Leave a Comment