কুয়ালালামপুর: যত সময় যাচ্ছে ততই জটিল হচ্ছে মালয়েশিয়ার বিমান অন্তর্ধান রহস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্ভবত এই ঘটনা প্রথম যেখানে একটি বিশালাকায় যাত্রীবাহী এয়ারবাসের কোনো হদিশই নেই দশ দিন ধরে। দৈত্যাকার বিমানটি যেন হাওয়ায় উবে গিয়েছে।
ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, রাশিয়া, লাওস, আমেরিকা, কাম্বোডিয়া সহ ২৫টি দেশের বায়ুসেনা ও নৌ সেনা ভারত মহাসাগর ও আন্দামান সাগরের ইঞ্চি ইঞ্চি তল্লাশি চালিয়েও এখনও কোনো সূত্র পায়নি।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, যেকোনো দেশের সামরিক রাডারের নজরদারি এড়াবার জন্য বিমানটিকে পাঁচ হাজার ফুট নীচ দিয়ে উড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে মালয়েশিয়ার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল। এই ঘটনার খুঁটিনাটি তদন্ত করছে মালয়েশিয়ার সরকার। তবে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, চীন সরকার একমত, বিমানটি ছিনতাইকরে উল্টো অভিমুখে উড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি কখন কোথায় কেন ভেঙে পড়ে বা সেটির আদৌ কি হয়েছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।
এদিকে, নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, নিখোঁজ মালয়েশিয়ান এয়ারবাস এমএইচ ৩৭০ কে অনেক নীচু দিয়ে উড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল যাতে তা ভারত সহ কোনো দেশেরই সামরিক রাডারে ধরা না পড়ে। পরে সেটিকে আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত এলাকার উপর দিয়ে উড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে সেটি আফগানিস্তানের কোনো তালেবান ঘাঁটির মধ্যেই লুকানো রয়েছে বলে সন্দেহ প্রবলতর হচ্ছে। কারণ বিমানের ব্ল্যাক বক্স সহ সবরকমের সঙ্কেত ও যোগাযোগ পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট ও বন্ধ করা হয়েছিল অনেক আগেই। দুই পাইলটকে কব্জা করে ককপিটের দখল নেয় একাধিক কোনো জঙ্গি। এমনটাই নিশ্চিত মালয়েশিয়া, চীন, ভিয়েতনামের সামরিকবাহিনী। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বিমানটি কোনও জঙ্গি সংগঠন বা তালেবানের কব্জায় আছে কি না।
মালয়েশিয়ান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জানিয়েছে, তাদের কাছে পাইলটের ককপিট থেকে শেষ বার্তা ও কণ্ঠস্বর এসেছিল, “অল রাইট, গুড নাইট।” তারপর যোগাযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এই বার্তার ১৪ মিনিট পরেই বিমানের ট্রান্সপন্ডারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বিমানটির শেস মুহূর্তের হদিশ পেতে নিজেদের উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশনগুলি থেকে পাওয়া ছবি ও বার্তা বিশ্লেষণ করে দেখছেন চীন, আমেরিকা, ভারত, ফ্রান্স ও রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। বিমান ছিনতাইয়ের সঙ্গে আল কায়দা, চিনের উইঘুর মুসলিম জঙ্গি বা আফগানিস্তানের তালেবানের হাত থাকা নিয়েও খুঁটিনাটি তদন্ত হচ্ছে। তবে এই নিয়ে কোনো সূত্রই মেলেনি।
এমনটাও রটেছে যে, চীন বা রাশিয়ার দুই বা তিনজন সিক্রেট এজেন্ট এমনকোনো প্রযুক্তি বা জিনিস ওই বিমানে করে রাশিয়া বা চীনে পাচার করছিলেন যেটা আটকাতে মরিয়া হয়ে বিমানটি ধ্বংস করে দেয় বিমানের মধ্যে থাকা কোনো আমেরিকার কোনো সিআইএ এজেন্ট। কোনো মার্কিন এজেন্টের এটা আত্মঘাতী হামলা নয়তো? তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদ জানিয়েছেন, বিমানটি ছিনতাই করে ভারতের কোনো শহরে ৯/১১ কায়দায় বড়সড় হামলা চালানো হত বলে যে খবর রটেছে তা ভিত্তিহীন। এই নিয়ে প্রাক্তন মার্কিন বিদেশসচিব স্ট্রোব ট্যালবট যে দাবি করেছেন তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও ওটা তার ব্যক্তিগত মত। ভারত সরকারের কাছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা সূত্র আসেনি।– সংবাদ সংস্থা।
