বিবিসিকে হিন্দু নেতা সুব্রত জামায়াত করছে এটা স্লোগান, বাস্তবে হামলায় আ.লীগের লোকজনও জড়িত

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ওপর দায় চাপানো হয়। তবে একজন হিন্দু নেতা বলেছেন, অনেক জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের লোকজনও জড়িত রয়েছে।

বিবিসি বাংলা-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় একজন নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এখন যেমন বলা হচ্ছে জামায়াত-শিবির এটা করেছে। এটা একটা স্লোগান হয়ে গেছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সব জায়গায় জামায়াত-শিবির করেছে বিষয়টি এ রকম না। অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের লোকজনও জড়িত হয়েছে- সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি।’তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জামায়াত-শিবিরই হামলা করে থাকে তবে সরকার কেন তাদের বিচার করছে না? হামলার ঘটনা বন্ধ করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

বিবিসি জানায়, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা হয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার জন্য সরকারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এসব ঘটনার সঙ্গে সরকার দলীয় সমর্থকরাই জড়িত।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময় আক্রমনের ঘটনায় এ রকম পাল্টা বক্তব্য দেখা গেলেও হামলাকারীদের শাস্তির নজির খুব একটা নেই। হিন্দুদের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো বিভিন্ন সময় দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো পরষ্পরকে দায়ী করেছে। কিন্তু বিচার নেই। মানবাধিকারজীবী জেড আই খান পান্না মনে করেন, বিভিন্ন সময় হিন্দুদের ওপর আক্রমনের ঘটনাগুলো রাজনীতির আবর্তে হারিয়ে গেছে।

পান্না বলেন, হিন্দুদের ওপর যে হামলা হয় তার প্রতিটির পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দুদের ওপর আক্রমনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১৩ সাল এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর আক্রমনের ঘটনা।

পান্না বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হয় বলে এর কোনো বিচার নেই। নিন্দা জানানো এক বিষয় আর বিচার করা ভিন্ন বিষয়।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার জিরো টলারেন্স বা কোনো ছাড় না দেবার নীতি অনুসরণ করবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামালউদ্দিন আহমেদ জানান, হিন্দুদের ওপর হামলাগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

You may also like

Leave a Comment