তিনি যাতে দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন সে জন্য নিজের স্বামী দলীয় চেয়ারম্যানকে ‘আটক’ রাখার পরামর্শ দেন। উল্লেখ, ২০০৬ সালের জুন মাসে তিনি জাতীয় পার্টিকে দ্বিখণ্ডিত করে নিজেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি মহাজোট গঠন করার পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি ২২ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে দলের নেতাকর্মীরা তাকে বর্জন করায় আবার এরশাদের নেতৃত্বাধীন মূল দলে ফিরে আসেন।
বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এইচএম এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি লাঙ্গল প্রতীক কোনো প্রার্থীকে বরাদ্দ না দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন। সে সময় এরশাদ বলেন, এদেশের মানুষ আমাকে অনেক দিয়েছে, সম্মান করেছে। জনগণের কাছে আমি ঋণী। শেষ বয়সে জনগণের বিপক্ষে যাব না। জনগণের ইচ্ছার বাইরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় বিপাকে পড়ে যায় নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা। তারা সরকারকে বোঝায় এরশাদকে বাইরে রাখলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না (ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে দুই দলের সংস্কারবাদী নেতারা এরকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন)।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থী এবং সুবিধাবাদী নেতারা রওশন এরশাদকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে থেকে যায়। নির্বাচনের সময় দলের নির্বাচনে অংশ নেয়া নেতারা সবকিছু রওশনের নেতৃত্বে হচ্ছে প্রচার করলেও রওশন এরশাদ অসুস্থতার কথা নীরব থাকার কৌশল গ্রহণ করেন। পাতানো নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে এসে ঘোষণা দেন এরশাদের নির্দেশে তিনি ভোটে গেছেন। যদিও সুবিধাবাদী নেতারা ছাড়া সর্বস্তরের নেতারা রওশনের এ দাবি এখনো মেনে নিতে পারছেন না।
সূত্রের দাবি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকা সফরে এসে এরশাদকে যে প্রস্তাব দেন সেটা প্রকাশ করায় সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ওপর দিল্লির শিব শঙ্কর মেনন গং ক্ষুব্ধ। তারা সরকারকে জানিয়েছেন এরশাদকে বিশ্বাস করা যায় না। বিশ্বাস করে তাকে (এরশাদ) বিরোধীদলীয় নেতা করা হলে তিনি যে কোনো সময় পদত্যাগ করে সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারেন। দিল্লির এই মনোভাব বুঝতে পেরে সরকার রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতা বানানোর পক্ষ্যে।
আর দলের অন্যান্য নেতাদের (যারা পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিনা ভোটে এমপি হয়েছেন) আশঙ্কা এরশাদ মুক্তি পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সে জন্যই এরশাদকে আাটক রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে হলেও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিরোধীদল গঠন করতে চাচ্ছেন তারা। এর মধ্যেও কয়েকজন আবার মন্ত্রিত্ব ছাড়তে চাচ্ছেন না। তারা বিরোধী দলে থাকতে চাচ্ছেন এবং সরকারে থেকে মন্ত্রিত্ব (গাছেরটা খাবেন নিচেরটাও কুড়াবেন) রাখতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে দলে বিরোধ চলছে। তবে রওশন এরশাদ সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন দলের মূল নেতৃত্ব তিনি কব্জা করতে পারলে সবার ইচ্ছা পূরণ করবেন।
রওশন এরশাদের মুখে এ ধরনের কথা শুনে জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, ওনি (রওশন) স্বামীর সুবাদে রাজনীতিতে কীভাবে এসেছেন আমরা জানি। ওনার কী কোনো গ্রহণযেগ্যাতা আছে? উনি নিজের নামে নির্বাচন করে কী জামানত রক্ষা করতে পারবেন? এরশাদের সুবাদে রাজনীতিক হয়ে তিনি এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করতে চাচ্ছেন। ওনার এবং ওনার ভাইবোনদের দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ’৯০-এ এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। এরশাদের নামে রাজনীতিতে এসে এখন এরশাদকে মাইনাস করতে চাচ্ছেন। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে এক সময় তিনিই নিজেই রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবেন। সূত্র: ইনকিলাব
