অবশেষে উদ্ধার করা হলো সিলেটের সীন্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার সরকারি ফতেহপুর চা-বাগানের ভূমি। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অবৈধ স্থাপনাও। দীর্ঘদিন থেকে দখলদারদের কারণে বাগানটি বন্ধের উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছিল। ইজারাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও শতাধিক পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে দখলদারের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়েও ব্যর্থ হয়। এমনকি অভিযানের শেষ পর্যায়ে দখলদার মিনহাজ উদ্দিন বুলডোজারে পেট্রোর বোমা ছুড়ে মারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, চা-শিল্পকে ঠিকিয়ে রাখতে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর অভিযান করা হয়েছে। প্রথমে মাইকের ঘোনায় অনেকে ভুল বুঝলেও পরে গ্রামবাসী উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করে।
জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ফতেহপুর চা-বাগানের আওতাধীন ফতেহপুর মৌজার বিভিন্ন খন্ডে ৫শ ২১ একর ভূমি রয়েছে। বাগানটি ওসামন গনি প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্টান ১৯৯৮ সালে বাগানের ব্যবস্থপনার দায়িত্ব নেয়। ২০১২ সালে তারা ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বাগান ব্যবস্থাপনার পর স্থানীয় একটি ভ’মিখোকে চক্র নানাভাবে উৎপাত শুরু করে।
বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর সর্বশেষ সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনির হোসেন ১০ জানুয়ারি উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে অবগত করেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উচ্ছেদে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রাস্তায় বিপুল পরিমান পুলিশ ও বুলডোজার দেখে দখলদার পক্ষ মসজিদের মাইকে গ্রামবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জড়ো করার চেষ্টা করে এবং রাস্তা কেটে ও গাছ ফেলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। উচ্ছেদ অভিযানকারী দল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বাগানের ৬ষ্ট খন্ড এলাকায় মিনহাজের দখলে থাকা বসতবাড়িসহ ১৯ একর ভ’মি এবং ৭ম খন্ডে তানজিরের দখলে থাকা ৩০ একরের মধ্যে প্রায় ১৫ একর ভূমি উদ্ধার করে। বাগান ম্যানেজার জুনায়েদ চৌধুরী জানিয়েছেন, একদিনে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কথা নয়। পর্যায়ক্রমে অন্য ভ’মি উদ্ধার করা হবে।
অভিযানকালে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ছাড়াও ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা কল্যানব্রত চৌধুরী, সার্ভেয়ার জীবন চন্দ্র ও পুলিশ কর্মর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
