সিলেটের খবর ডেস্ক:বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন বলে এবার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর আজিমপুরে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় এ অভিযোগ করেন।
এর আগে গত রবিবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বঙ্গবন্ধু হত্যায় জাসদকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। পরের দিন বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে, ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের তদন্ত দাবি করে।
এরপর গতকাল সোমবার বিকেল জাসদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম এবং বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের ‘একই ভাষা’র যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
একই সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সমস্যার তৈরি করবে জানিয়ে জোটের মূল দলকে সতর্ক করে জাসদ।
এ ঘটনার পরের দিন হানিফ বলেন, ‘জাসদ ও ন্যাপসহ যারা বাম রাজনীতি করতেন, ’৭২ থেকে ’৭৫-এ তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। কেন করেছিলেন, তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে ছিল যে, একটা সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা যা করণীয়, তারা তা-ই করেছিলেন। আর তারাই ওই সময় তৈরি করেছিলেন জাতির পিতাকে হত্যার প্রেক্ষাপট।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের নেতা শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলানোর যে অভিযোগ করা হচ্ছে, এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যে যেখান থেকে দেখুক না কেন, ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য হাটবাজার লুটপাট, ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা, এমনকি ঈদের নামাজের জামাত শেষে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা পর্যন্ত করেন তারা।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এ সমস্ত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল একটাই- বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করা। সেই কারণেই কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল।’
হানিফ বলেন, ‘আজকে ওই বাম সংগঠনের অনেক নেতা ইতোমধ্যেই স্বীকারও করেছেন এবং তাদের অনেকে বলেছেন- ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় তারা যা করেছিলেন তা ভুল করেছিলেন। কিন্তু সেই ভুলের মাশুল জাতিকে দিতে হয়েছে চড়া দামে।’
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র এখনো হচ্ছে। বিএনপি ও খালেদা জিয়া আবার দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছেন। গত তিন-চার বছর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য নানা ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বিএনপি নেতার মেয়ে ফারাজানা জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ আটক হয়েছে। এই ফারাজানারা একজন নয়। বিএনপি-জামায়াতের সংগঠনের নেতৃত্বে এ ধরনের অসংখ্য গ্রুপ আছে, যাদের খুঁজলে দেখা যাবে জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে, সহায়তা করছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার বেগম, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।
