বইমেলায় সাংবাদিক আহমেদ নূরের ‘ওয়ান-ইলেভেন: কারারুদ্ধ দিনগুলো’

by News Room

নিউজ ডেস্ক: একুশে বইমেলায় এসেছে স্বনামধন্য সাংবাদিক আহমেদ নূর’র গ্রন্থ ‘ওয়ান-ইলেভেন : কারারুদ্ধ দিনগুলো’। বইটির প্রেক্ষাপট ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী অনিশ্চিত সময়ে লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্বিসহ ঘটনা ও সেই সময়ে দেশের আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে। কারাগারের ভেতরে থেকে নিজের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সেই ঘটনাবহুল দিনগুলো ঘনিষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন লেখক। সেই দেখা থেকেই তিনি মলাটবন্দি করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচিত এক অধ্যায়কে।  সময়টা ছিল ২০০৭ সালের এপ্রিলের। আহমেদ নূর তখন একাধারে দৈনিক সিলেট প্রতিদিনের সম্পাদক আবার সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। দেশে তখন চলছিল ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন। সময়টা ছিল কঠিন, অধিকারহরণের, রাজনৈতিক ভেলকিবাজির, গণতন্ত্রের সংকটের। অনিশ্চয়তায় মোড়া এমনই এক সন্ধ্যায় নিজের কর্মস্থল থেকে দৈনিক সিলেট প্রতিদিন এর সম্পাদক আহমেদ নূরকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। তারপর নির্যাতন-মামলা, পাঁচ মাস কারাভোগ। কারাগারের সেই দুঃসহ দিনগুলো, মুক্তিপরবর্তী নানা ঘটনা, ওয়ান-ইলেভেনের আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনাবলির নির্মোহ বর্ণনা আছে বইটিতে।  প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ভাষায়, ‘পাঁচ মাসের কারাভোগ। নির্যাতনজনিত অসুস্থতা, নানান অসুবিধা, এক ডাক্তারের বৈরী আচরণ। আদালতে যাওয়া এবং আসা, এর মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখাটা দায়। হতাশার হাতে নিজেকে ছেড়ে দেয়ার কথা। কিন্তু আহমেদ নূরের মনোবল তাঁকে পথে রাখল। কথায় বলে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। নূর কারাগারে গিয়ে ধানভানা বজায় রাখলেন, অর্থাৎ একজন সাংবাদিকের অন্তর্দৃষ্টি ও কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে দিনপঞ্জি লেখা শুরু করলেন। এই দিনপঞ্জিতে কী নেই; নিজের অসহায়ত্ব আর অপমান, তাঁর ওপর নির্যাতন, স্বাধীনতাহরণ নানান বঞ্চনা- এসব তো আছেই, তার ওপর আছে সিলেট কারাগার নিয়ে তাঁর গবেষণা কারাগারের যত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সুবেদার সিন্ডিকেট থেকে নিয়ে এর প্রহরা ব্যবস্থার বর্ণনা, এর ভেতরে প্রচলিত নানা শব্দ-পদ, দীর্ঘদিনের জেলবাসিন্দা ফজলু মিয়া অথবা ডাকাতসর্দার মজিদের কাহিনি এবং কোর্ট-হাজতের হাল-হকিকত। কিন্তু সময়টা তো ছিল কঠিন, অধিকারহরণের, রাজনৈতিক ভেলকিবাজির, গণতন্ত্রের সংকটের। সাংবাদিক নূর কারাগারের ভেতরে থেকেও একটা কান পেতে রেখেছেন বাইরে। কারাগারে পাওয়া তিনটি পত্রিকা থেকে তিনি তুলে নিয়েছেন চলমান নানা ঘটনার চুম্বক। ভাবতে অবাক লাগে, নিজের বিপন্ন অবস্থাতেও নূর বড় কোনো ঘটনা থেকে চোখ ফেরাননি। তিনি ব্যক্তিগত মত দেননি এসব ঘটনা সম্পর্কে, শুধু সেগুলো একজন সাংবাদিকের মতো লিখে গেছেন দিনপঞ্জির খাতায়। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে প্রচলপন্থি এবং সংস্কারপন্থি রাজনীতিবিদদের নানা কার্যকলাপ। এসব আমাদের জানা, মাত্র সাত বছর আগেই তো সেসব ঘটেছে। কিন্তু নূর যেভাবে সেগুলোকে সাজিয়েছেন তাতে যেন একটা বিস্ময়ের চিহ্ন লেগে থাকে খবরগুলোর পরে। যেমন, সাইফুর রহমান এবং ওসমান ফারুক রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের অবসান চাইছেন, আমু-সুরঞ্জিত-রওশন এরশাদও চাইছেন সংস্কার। লুৎফুজ্জামান বাবর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিসের সম্মানে আয়োজন করেছেন নৈশভোজ। সেই ভোজে শরিক হয়েছেন নানান বিখ্যাতজন। কিছুদিনের মধ্যেই বাবর গেছেন কারাগারে, বিখ্যাতজনের অনেকেও। অনেকে আবার পালিয়েও গেছেন।  নূর বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ২১ আগস্ট ২০০৭ সাল থেকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাল অবস্থা। কয়েকজন শিক্ষককে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনা। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে দড়ি টানাটানি হলো, তার বর্ণনাও লিখে রেখেছেন নূর।  কারাগারে বই পড়েছেন, হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছেন, এবং লিখেছেন এক আশ্চর্য জোছনা রাতের কথাও। সাংবাদিকরা যে মাঝে মাঝে কবি হয়ে যান, এই ছোট্ট বর্ণনাটি তারই প্রমাণ।  সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গ্রন্থটির ভূমিকায় বলেছেন, ‘আহমেদ নূরের বর্ণনা পাঠককে টেনে ধরে। তাঁর বর্ণনায় শক্তি আছে, প্রগলভতা নেই; ঘটনার সত্যতা আছে, অতিরঞ্জন নেই। তাঁর ভাষাটি ঝকঝকে। বইটি হাতে নিলে পড়া শেষ না করে রাখা যাবে না।  একটা কঠিন সময়ের কড়চা লিখেছেন আহমেদ নূর। বইটা পড়লে বোঝা যাবে জাতি হিসেবে আমাদের দুর্বলতাগুলো কোথায়, শক্তিটা কোন জায়গায়।  বইয়ের মুখবন্ধে লেখক বলেছেন, ১৫০ দিনের কারাবাস এবং সেই সময়ের ঘটনাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে অনেকে জানলেও আদ্যোপান্ত কাউকেই বলা হয়নি- বলা সম্ভবও ছিল না। সেই ‘না বলা’ বা ‘বলতে না পারা’ কথাগুলো তিনি বইয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। বইটি পড়লে পাঠক কারাগারের দৈন্যদশায় বেঁচে থাকা মানুষের যন্ত্রণা ও সীমিত অধিকারের দুঃসহ বেদনা উপলব্ধি করতে পারবেন।  ৫৬০ পৃষ্ঠার বিশাল এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে কমলাফুলি প্রকাশন। প্রচ্ছদ এঁকেছেন অশোক কর্মকার। বইটি পরিবেশন করছে উৎস প্রকাশন। একুশে বইমেলায় উৎস প্রকাশনের স্টলে (১১৬-১১৮) পাওয়া যাচ্ছে বইটি। ৫ ফেব্র“য়ারি থেকে সিলেটের অভিজাত লাইব্রেরীগুলোতে বইটি পাওয়া যাবে।

একুশে বইমেলায় এসেছে স্বনামধন্য সাংবাদিক আহমেদ নূর’র গ্রন্থ ‘ওয়ান-ইলেভেন : কারারুদ্ধ দিনগুলো’। বইটির প্রেক্ষাপট ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী অনিশ্চিত সময়ে লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্বিসহ ঘটনা ও সেই সময়ে দেশের আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে। কারাগারের ভেতরে থেকে নিজের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সেই ঘটনাবহুল দিনগুলো ঘনিষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন লেখক। সেই দেখা থেকেই তিনি মলাটবন্দি করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচিত এক অধ্যায়কে।

সময়টা ছিল ২০০৭ সালের এপ্রিলের। আহমেদ নূর তখন একাধারে দৈনিক সিলেট প্রতিদিনের সম্পাদক আবার সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। দেশে তখন চলছিল ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন। সময়টা ছিল কঠিন, অধিকারহরণের, রাজনৈতিক ভেলকিবাজির, গণতন্ত্রের সংকটের। অনিশ্চয়তায় মোড়া এমনই এক সন্ধ্যায় নিজের কর্মস্থল থেকে দৈনিক সিলেট প্রতিদিন এর সম্পাদক আহমেদ নূরকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। তারপর নির্যাতন-মামলা, পাঁচ মাস কারাভোগ। কারাগারের সেই দুঃসহ দিনগুলো, মুক্তিপরবর্তী নানা ঘটনা, ওয়ান-ইলেভেনের আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনাবলির নির্মোহ বর্ণনা আছে বইটিতে।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ভাষায়, ‘পাঁচ মাসের কারাভোগ। নির্যাতনজনিত অসুস্থতা, নানান অসুবিধা, এক ডাক্তারের বৈরী আচরণ। আদালতে যাওয়া এবং আসা, এর মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখাটা দায়। হতাশার হাতে নিজেকে ছেড়ে দেয়ার কথা। কিন্তু আহমেদ নূরের মনোবল তাঁকে পথে রাখল। কথায় বলে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। নূর কারাগারে গিয়ে ধানভানা বজায় রাখলেন, অর্থাৎ একজন সাংবাদিকের অন্তর্দৃষ্টি ও কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে দিনপঞ্জি লেখা শুরু করলেন। এই দিনপঞ্জিতে কী নেই; নিজের অসহায়ত্ব আর অপমান, তাঁর ওপর নির্যাতন, স্বাধীনতাহরণ নানান বঞ্চনা- এসব তো আছেই, তার ওপর আছে সিলেট কারাগার নিয়ে তাঁর গবেষণা কারাগারের যত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সুবেদার সিন্ডিকেট থেকে নিয়ে এর প্রহরা ব্যবস্থার বর্ণনা, এর ভেতরে প্রচলিত নানা শব্দ-পদ, দীর্ঘদিনের জেলবাসিন্দা ফজলু মিয়া অথবা ডাকাতসর্দার মজিদের কাহিনি এবং কোর্ট-হাজতের হাল-হকিকত। কিন্তু সময়টা তো ছিল কঠিন, অধিকারহরণের, রাজনৈতিক ভেলকিবাজির, গণতন্ত্রের সংকটের। সাংবাদিক নূর কারাগারের ভেতরে থেকেও একটা কান পেতে রেখেছেন বাইরে। কারাগারে পাওয়া তিনটি পত্রিকা থেকে তিনি তুলে নিয়েছেন চলমান নানা ঘটনার চুম্বক। ভাবতে অবাক লাগে, নিজের বিপন্ন অবস্থাতেও নূর বড় কোনো ঘটনা থেকে চোখ ফেরাননি। তিনি ব্যক্তিগত মত দেননি এসব ঘটনা সম্পর্কে, শুধু সেগুলো একজন সাংবাদিকের মতো লিখে গেছেন দিনপঞ্জির খাতায়। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে প্রচলপন্থি এবং সংস্কারপন্থি রাজনীতিবিদদের নানা কার্যকলাপ। এসব আমাদের জানা, মাত্র সাত বছর আগেই তো সেসব ঘটেছে। কিন্তু নূর যেভাবে সেগুলোকে সাজিয়েছেন তাতে যেন একটা বিস্ময়ের চিহ্ন লেগে থাকে খবরগুলোর পরে। যেমন, সাইফুর রহমান এবং ওসমান ফারুক রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের অবসান চাইছেন, আমু-সুরঞ্জিত-রওশন এরশাদও চাইছেন সংস্কার। লুৎফুজ্জামান বাবর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিসের সম্মানে আয়োজন করেছেন নৈশভোজ। সেই ভোজে শরিক হয়েছেন নানান বিখ্যাতজন। কিছুদিনের মধ্যেই বাবর গেছেন কারাগারে, বিখ্যাতজনের অনেকেও। অনেকে আবার পালিয়েও গেছেন।

নূর বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ২১ আগস্ট ২০০৭ সাল থেকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাল অবস্থা। কয়েকজন শিক্ষককে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনা। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে দড়ি টানাটানি হলো, তার বর্ণনাও লিখে রেখেছেন নূর।

কারাগারে বই পড়েছেন, হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছেন, এবং লিখেছেন এক আশ্চর্য জোছনা রাতের কথাও। সাংবাদিকরা যে মাঝে মাঝে কবি হয়ে যান, এই ছোট্ট বর্ণনাটি তারই প্রমাণ।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গ্রন্থটির ভূমিকায় বলেছেন, ‘আহমেদ নূরের বর্ণনা পাঠককে টেনে ধরে। তাঁর বর্ণনায় শক্তি আছে, প্রগলভতা নেই; ঘটনার সত্যতা আছে, অতিরঞ্জন নেই। তাঁর ভাষাটি ঝকঝকে। বইটি হাতে নিলে পড়া শেষ না করে রাখা যাবে না।

একটা কঠিন সময়ের কড়চা লিখেছেন আহমেদ নূর। বইটা পড়লে বোঝা যাবে জাতি হিসেবে আমাদের দুর্বলতাগুলো কোথায়, শক্তিটা কোন জায়গায়।

বইয়ের মুখবন্ধে লেখক বলেছেন, ১৫০ দিনের কারাবাস এবং সেই সময়ের ঘটনাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে অনেকে জানলেও আদ্যোপান্ত কাউকেই বলা হয়নি- বলা সম্ভবও ছিল না। সেই ‘না বলা’ বা ‘বলতে না পারা’ কথাগুলো তিনি বইয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। বইটি পড়লে পাঠক কারাগারের দৈন্যদশায় বেঁচে থাকা মানুষের যন্ত্রণা ও সীমিত অধিকারের দুঃসহ বেদনা উপলব্ধি করতে পারবেন।

৫৬০ পৃষ্ঠার বিশাল এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে কমলাফুলি প্রকাশন। প্রচ্ছদ এঁকেছেন অশোক কর্মকার। বইটি পরিবেশন করছে উৎস প্রকাশন। একুশে বইমেলায় উৎস প্রকাশনের স্টলে (১১৬-১১৮) পাওয়া যাচ্ছে বইটি। ৫ ফেব্র“য়ারি থেকে সিলেটের অভিজাত লাইব্রেরীগুলোতে বইটি পাওয়া যাবে। – See more at: http://www.sylhetview24.com/news/details/Sylhet/22867#sthash.MgY15cZT.dpuf

You may also like

Leave a Comment