সিলেটের খবর ডেস্ক: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আরো পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকবে ডানপন্থি কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন। এদিকে এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশেও জয়ের আমেজ। কারণ, এতে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন নারী। জয়ী তিনজন হলেন রুশনারা আলী, বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক এবং রূপা হক।
তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, আলোচনা-আড্ডাতেও তাদের জয় নিয়ে কথা হচ্ছে।রুশনারা আলী দ্বিতয়িবারের মতো এমপি নির্বাচিত হলেও, টিউলিপ ও রূপা এবারই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজেদের স্থান করে নিলেন। বলা বাহুল্য, জয়ীদের একজন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি হওয়ায় এ খবরে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমও সরগরম। জয়ের খবরের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়ে চলেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এরই মধ্যে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে টিউলিপসহ জয়ী তিন নারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। টিউলিপ জয়ের খালাত বোন। তাই এতে প্রতিক্রিয়া আসছে শত শত। তারাও টিউলিপকে অভিন্দন জানানোর পাশাপাশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বোনের মেয়ে টিউলিপের জয়ে বেজায় খুশি, খুশি বাংলাদেশের তিন কন্যার জয়ে।
লন্ডনে টিউলিপের মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার জীবনে প্রথমে আমার বাবা সংসদে ছিলেন, এরপর আমার বোন আর এখন আমার মেয়ে। এর থেকে গর্ব আর কী হতে পারে?’
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী শেখ রেহানা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মতো এ রকম দুই দেশের পার্লামেন্টে একই বংশের প্রতিনিধি থাকার নজির পৃথিবীতে খুব কমই আছে।
তিনি বলেন, ‘আমি গর্বিত পিতার সন্তান, গর্বিত বোনের ছোটবোন আর এখন টিউলিপের মা। টিউলিপ যেখানেই থাকুক, যাদের সঙ্গেই থাকুক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী সবার জন্যই সে কাজ করে যাবে।’
এদিকে এ নিয়ে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্য নুরজাহান হক মুক্তা ডয়চে ভেলে-কে বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা রাষ্ট্র পরিচালনাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। তারা এগিয়ে আসছেন। আমার আশা, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তিন নারীও যুক্তরাজ্যে তাদের নেতৃত্বে দক্ষতার পরিচয় দেবেন, আমি তাদের জয়ে খুবই খুশি।’আরেকজন সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি ডয়চে ভেলে-কে বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা একদিন বিশ্বজয় করবেন। এই তিন নারী সেই পথে আমাদের পথিকৃৎ।’তিন বিজয়ী নারীর মধ্যে রুশনারার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটে। তার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। ১৯৭৫ সালে জন্ম নেয়া রুশনারা প্রথমবার যুক্তরাজ্যের এমপি নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষা বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকের জন্ম লন্ডনে। তিনি কিংস কলেজ থেকে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৫ বছর বয়স থেকে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে বসবাস করছেন তিনি। পড়েছেন এই এলাকার স্কুলে। ২০১০ সালে স্থানীয় ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।আর রূপা হক কিংস্টন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। ১৯৭২ সালে লন্ডনের ইলিংয়ে জন্ম নেয়া রূপার আদি বাড়ি বাংলাদেশের পাবনায়।
টিউলিপ সিদ্দিক জয়ের পর লন্ডনে তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কঠিন দায়িত্ব পেয়েছি৷ তাই সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনে সবার সহযোতিা চাই।’এবারের নির্বাচনে যুক্তরাজ্যের প্রধান তিনটি দল থেকে মোট ১১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী এমপি পদে লড়েছেন। তাদের মধ্যে লেবার দল থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল থেকে তিনজন ও কনজারভেটিভ দল থেকে একজন। এই ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে বিশেষ করে রুশনারা, টিউলিপ ও রূপার দিকে সবার দৃষ্টি ছিল প্রথম থেকেই।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
