অন্যদিকে, এ ঘোষণায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বিজেপিকে ভোটের আগে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তথাগত রায়ের বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেছে। ভারতে আসলেও তসলিমা পশ্চিমবঙ্গে থাকার সুযোগ পাবেন কিনা- সেটি তৃণমূল নেতারা তার দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা ব্যানার্জির হাতে রাখতে চাইছেন। তবে তাঁরা এটাও বলছেন, বিজেপির এমন ঘোষণা কেবল ভোটের আগে একটি সম্প্রদায়কে আঘাত করে অন্য একটি সম্প্রদায়কে খুশি করা।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থী হয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির শীর্ষ নেতা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারে গেলে তাকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে আসা নির্যাতিত হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই নীতি নেবে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও হিন্দুদের ভাবাবেগে মকবুল ফিদা হুসেইন আঘাত করেছেন বলে দাবি করলেও তাকে ভারত থেকে বিতারিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির এ ঘোষণা শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইদ্রীশ আলী। কালের কণ্ঠ অনলাইনকে দেওয়া প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বিজেপি ভোটের আগেই সাম্প্রদায়িক উস্কানী শুরু করেছে। তসলিমা নাসরিন ভাল লেখিকা নন। তিনি প্রচারের জন্য একটি ধর্মের প্রধানকে হেয় করে লিখেছেন। তিনি ভাল লেখিকা হলে এ কাজ করতেন না। তা ছাড়া বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসবে এ গ্যারান্টি কেউ দেয়নি। আর দলটি কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় আসলেও পশ্চিমবঙ্গে তসলিমার ঠাঁই হবে কিনা- তা দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা ব্যানার্জিই ঠিক করবেন। কেননা তিনি ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি। রাজ্যে হিন্দু-মসলমান সবাই এক হয়ে থাকি আমরা। এই রাজ্যে কোন বিভেদ নেই।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বিজেপির সেলিব্রেটি প্রার্থী বাপি লাহিড়ি গান গেয়ে সুর করে নিজের এবং দলীয় প্রচারে নেমে পড়েছেন। নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বলে দাবি করেন বাপি লাহিড়ি। এ ছাড়া তৃণমূলের আরেক প্রার্থী হালের হার্টথ্রুব অভিনেতা দেব বা দীপক অধিকারীও গত কয়েক দিন ধরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঘাটালে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, মমতা ব্যানার্জি তাকে এনেছেন তরুণ প্রজন্মকে ভোট দেওয়ায় অনুপ্রাণিত করতে।
