জিন্দাবাজারের সরকারি কিন্ডারগার্টেন দেশের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়

by News Room

নিউজ ডেস্ক:জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পদক জিতেছে সিলেটের জিন্দবাজারস্থ সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেশের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাটাগরীতে স্কুলটি অর্জন করেছে প্রাথমিক শ্রেষ্ট পদক-২০১৮। সিলেট জেলার মধ্যে এই প্রথম কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় এমন গৌরব অর্জন করতে পেরেছে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন স্কুলের ক্ষুদে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গভর্ণিং বডির সদস্যবৃন্দ।

রবিবার সকালে পদক জেতার এমন খবর পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে বিদ্যালয়টির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলের শিক্ষিকাদের সহযোগীতায় স্কুল ক্যাম্পাস থেকে একটি র‍্যালি বের করেন। র‍্যালিটি স্কুল ক্যম্পাস থেকে শুরু হয়ে জিন্দাবাজার পয়েন্ট ঘুরে আবার স্কুল ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। আগামী ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের পদক গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার চৌধুরী।

১৯৩১ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি তৎকালীন সময়ে দুই বাংলার প্রথম ইংরেজী মিডিয়াম স্কুল হিসেবে মাত্র ১৬ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে সরকারি কিন্ডারগার্টেন নামে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে স্কুলে ৬৫২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে আছেন প্রধান শিক্ষিকাসহ আরো ৭ জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা।

বিদ্যালয়ে পরম যত্নসহকারে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদেরকে খেলাধুলা সহ-শিক্ষামূলক কাজে উৎসাহিত করা হয়। স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে শিক্ষাণীয় স্লোগানের পাশাপাশি মহানুভবতার দেওয়াল, সততার মেলার দোকান, পত্রিকা দেওয়ালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রৈমাসিক পত্রিকাও (ম্যাগাজিন) নিয়মিত প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।

স্কুলের এমন সাফল্যে খুশী স্কুলের সকল শিক্ষক। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার চৌধুরী জানালেন, স্কুলের সহকারী শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। স্কুলের গভর্ণিং বডি, অভিবাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগীতা ছাড়া আমরা এমন সাফল্য অর্জন করতে পারতাম না বলে মন্ত্যব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টিমওয়ার্ক করে কাজের ফলাফল স্বরুপ আমাদের এই অর্জন। তিনি জানালেন, দেশসেরা হয়ে আমরা থেমে থাকতে চাই না। সাফল্যের এই ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো উন্নত পরিবেশ, পাঠদানসহ তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করে এই বিদ্যালয়কে বিশ্বসেরা বিদ্যালয়ের উপাধি জয় করতে চান বলে জানালেন তিনি।

You may also like

Leave a Comment