জনকণ্ঠের দুই সম্পাদকের রুলের রায় বৃহস্পতিবার

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়েছে।

 

আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।

 

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করে।

বিচার বিভাগ নিয়ে ‘কুৎসা রটনামূলক’ উপসম্পাদকীয় প্রকাশের ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৯ জুলাই জনকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দেয় আপিল বিভাগ।

 

রুলে তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

এরপর গতকাল রবিবার সকালে তাদের উপস্থিতিতে রুলের শুনানি শুরু হয়। জনকণ্ঠের পক্ষে আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন তিনটি আবেদন দাখিল করেন।

এর মধ্যে প্রথম আবেদনটি ছিল প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের বেঞ্চ পুনর্গঠন করে রুল শুনানি করা। শুনানি শেষে এ আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত।

 

এরপর রুলের শুনানি শুরু হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টায় বিরতির পর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই হিয়ারিংটি আমরা লার্জার বেঞ্চে করব।’

 

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইনটেগ্রিটির প্রশ্ন জড়িত। বিচার বিভাগের ইনটেগ্রিটি কাচের দেয়ালের মতো নয়। যে একটি ইট ঠুকে মারলে সেটা ঝনঝন করে পড়ে যাবে। এ বিবেচনায় আমরা এটা লার্জার বেঞ্চে শুনব।’

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা। পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এর লেখক পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

 

এ কলামে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ২৯ জুলাই তাদের তলব করে আপিল বিভাগ।

 

ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠে, যাতে বিচার বিভাগ সম্পর্কে কুৎসা রটনামূলক লেখা হয়েছে। এটা আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। এ কারণে আদালত তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করেছেন।

 

জনকণ্ঠের ওই কলামের বলা হয়, ‘৭১’র অন্যতম নৃশংস খুনী সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালি রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপিল বিভাগেররায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে?’

 

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনো কোনো বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোনো কোনো বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন।’

You may also like

Leave a Comment