সিলেটের খবর ডেস্ক: জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’কে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন সিনিয়র আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন এ আদেশ দিয়েছেন।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গ্রেপ্তার তিন আইনজীবী হলেন- ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)। এদের মধ্যে শাকিলা ফারজানা ও লিটন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বাপন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী। বুধবার তাদের গ্রেপ্তারে খবর জানায় র্যা ব। মঙ্গলবার রাতে তাদেরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে র্যাব।
চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানার রহমতগঞ্জ-২০৬ এলাকার বাসিন্দা মো. বাহার উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। অ্যাডভোকেট লিটন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া থানার কুচিয়ামোড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর ১০ এলাকায় ব্লক-সি, লাইন ১২’র ২ নম্বর বাসায় থাকতেন। বাপন ঢাকা জর্জকোর্ট মিরপুর ২ এর বড়বাগ এলাকায় ৩১/৩-বি এর বাসিন্দা মৃত মফিজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।র্যাব পরিচালক জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিভিন্ন নেতাদের অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী দিয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া আল্লামা লিবাদি নামে দুবাইয়ের একজন নাগরিকও টাকা দিয়েছেন।
তার দাবি, ‘আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে শহীদ হামজা ব্রিগেড নেতাদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন মোট ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। অ্যাডভোকেট লিটন ৩১ লাখ টাকা ও অ্যাডভোকেট বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা দিয়েছেন।’
গত ফেব্রুয়ারিতে হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হামজা ব্রিগেডের ২৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করার দাবি করে র্যাব।
এই সংগঠনটি এনজিওর আদলে কাজ গোছানোর পরিকল্পনা করছিল বলে র্যাব কর্মকর্তাদের দাবি।র্যাব জানিয়েছিল, শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিন, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।
নতুন জঙ্গি সংগঠনের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউণ্টের সন্ধান পাবার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
