গণমাধ্যমের বিবর্তন : ভূমিকা ও স্বাধীনতা

by News Room

নূহ-উল-আলম লেনিন :গণমাধ্যম শব্দটি সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। ইংরেজি ‘মিডিয়া’ কথাটি আমাদের পূর্ব পরিচিত। এক সময় ‘সংবাদপত্র’ই ছিল গণযোগাযোগের মাধ্যম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর কেবল ‘প্রিন্ট মিডিয়া’ বা কাগজে ছাপা সংবাদপত্রই গণযোগাযোগের মাধ্যম নয়। সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট এমনকি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত হাতের সেলফোনটিও এখন গণযোগাযোগের মাধ্যম। অবশ্য তথ্যপ্রযুক্তি আবিষ্কারের আগে সিনেমা এবং তথ্যচিত্রও অংশত গণমাধ্যম হয়ে উঠেছিল। তবে সিনেমা ছিল মূলত বিনোদনের মাধ্যম। এ জন্য পাশ্চাত্যের মতো আমাদের দেশেও সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রচলিত ধারার পরিবর্তন হয়। আমাদের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাংবাদিকতা বিভাগ ছিল সেটি এখন হয়েছে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগ। সেই সঙ্গে ঢাকা ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু হয়েছে টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ।

গণমাধ্যমের এই সম্প্রসারিত ব্যবস্থা একদিকে যেমন সবার জন্য তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, অন্যদিকে সেই সুবাদে তথ্য জানাকে একটি মৌলিক অধিকারে পরিণত করেছে। উন্নত অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রণীত হয়েছে ‘তথ্য অধিকার আইন’ এবং আইনি অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। তথ্য অধিকার এখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

আরো একটি মৌলিক পরিবর্তনও কারো দৃষ্টি এড়ায় না। অতীতে প্রিন্ট মিডিয়া বা সংবাদপত্রের আদিযুগে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম শিল্প ছিল না। বর্তমানে তা শিল্প হয়ে উঠেছে।

বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে চীনে। অবশ্যই তা ছিল হস্তলিখিত। তবে আধুনিক সংবাদপত্রের জন্ম, মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের সঙ্গে- ইউরোপে। উনিশ শতকে সংবাদপত্র হয়ে ওঠে ইউরোপ-আমেরিকার গণজাগরণের হাতিয়ার। একই সঙ্গে তা ছিল বিভিন্ন ভাবাদর্শ ও রাজনৈতিক চিন্তাচেতনার বাহন। ভারতীয় উপমাহাদেশেও সংবাদপত্রের সূচনা উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে। ধর্ম, মতাদর্শ ও জনগণের নানা রকম সমস্যা-সংকট এবং কর্মকাণ্ড ছিল সংবাদপত্রের উপজীব্য। কী ইউরোপে, কী ভারতে- বাংলাদেশে প্রাথমিক যুগে সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। ঔপনিবেশিক আমলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে সংবাদপত্র হয়ে ওঠে বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দল ও ধারার মুখপত্র। সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে উনিশ শতকেই ‘সেন্সরশিপ’ চালু করা হয়েছিল। ইংরেজি ভাষায়, ইংরেজ পরিচালিত নিরীহ গোছের ‘কোলকাতা গেজিটিয়ার বা বেঙ্গল গেজেট’-এর মতো সাময়িকীও সেন্সরশিপের শিকারে পরিণত হয়।

সেন্সরশিপের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতি সচেতন মহলে সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হতে থাকে। রাষ্ট্রীয় যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণকে প্রথমত মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিমালার বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি নতুন ব্যঞ্জনা লাভ করে। ইংল্যান্ড ও ইউরোপে আধুনিক বুর্জোয়া গণতন্ত্রের যে পড়হপবঢ়ঃ এবং ভাবাদর্শগত ভিত্তি গড়ে ওঠে, সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের, লেখনির, সংগঠিত হওয়ার (দল করার), সভা-সমাবেশ করার, ভোটাধিকার এবং পছন্দের স্বাধীনতা (ঈযড়রপব ড়ভ ঋৎববফড়স) প্রভৃতি পরস্পর পরিপূরক অনুষঙ্গ বা পড়সঢ়ড়হবহঃ ড়ভ ফবসড়পৎধপু হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার এই ধারণাটি আরো সম্প্রসারিত হয় শ্রমিক শ্রেণির ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের স্বীকৃতির ভেতর দিয়ে। ইংল্যান্ডের চার্টিস্ট আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, আমেরিকার শ্রমিক আন্দোলন (১৮৭৬) এবং ফরাসি বিপ্লব এবং প্যারি কমিউন প্রভৃতি রাজনৈতিক আলোড়নের মধ্যেও ‘স্বাধীনতা; স্বাধীন সংবাদপত্র এবং গণতন্ত্রের সীমানা সম্প্রসারিত হয়। এ জন্য সংবাদপত্রকে বার্ড স্টেট হিসেবেও আখ্যায়িত করা হতো।’

আমাদের মতো ঔপনিবেশিক দেশগুলোতে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি কেবল মত প্রকাশের বা ব্যক্তি স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি হয়ে ওঠে পরাধীনতা থেকে মুক্তির দ্যোতনা। স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম যত জোরদার হয়, গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদপত্রও ততই এই সংগ্রামের বাহন হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতো বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদপত্রগুলো স্ব-স্ব অবস্থান থেকে স্বাধীনতার পক্ষে মত প্রকাশ করতে থাকে। পরাধীন ভারতে, এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত ‘সংবাদপত্র’ ঠিক শিল্প হয়ে ওঠেনি। সংবাদপত্র ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক হাতিয়ার। যার জন্য সরকারি মালিকানায়, ক্ষমতাসীনদের মতাদর্শ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদপত্র প্রকাশ হতে দেখা যায়। আবার সরকারবিরোধী সংবাপত্রও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হতো। সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে মুনাফার চেয়েও রাজনৈতিক অঙ্গীকারই বেশি কাজ করেছে।

রেডিও মাত্র কিছুদিন আগেও ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানায়। টেলিভিশনও তাই। সিনেমা বা তথ্যচিত্র ছিল রেডিও-টেলিভিশনের মতো বিনোদন মাধ্যম। তবে টেলিভিশন ও রেডিওর বর্ধিত ভূমিকা ছিল রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম (গণমাধ্যম নয়) হিসেবে।

ইউরোপ-আমেরিকায় সংবাদপত্র অনেক আগেই ওহফঁংঃৎু বা শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শিল্পের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ‘মুনাফা’। অধিক মুনাফার জন্য প্রয়োজন অধিক বিনিয়োগ। ‘সংবাদ’ বা ‘খবর’ পরিণত হয় পণ্যে। বেসরকারি মালিকানায় রেডিও এবং টেলিভিশন ছেড়ে দেয়ার পর, কেবল সংসদই নয়, নাচ-গান, সিনেমা, নাটক, খেলাধুলা প্রভৃতি সব কিছুই এক ধরনের পণ্যে পরিণত হয়। এসব পণ্য যতটা আকর্ষণীয় হবে, পণ্য পরিবেশনে যতটা বৈচিত্র্য আনা যাবে, পণ্যটির বাহক সংবাদপত্র, রেডিও টেলিভিশন ততটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্য পরিবেশক সংবাদপত্র, রেডিও বা টিভি চ্যানেলটির টিকে থাকা নির্ভর করবে তার পরিবেশিত পণ্যের উৎকর্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোক্তার নানামুখী চাহিদা পূরণ। আর এ জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। অতীতের মতো কোনো এক ব্যক্তি, একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে তাই এখন আর এ ধরনের কর্পোরেট শিল্প (তা সে সাংবাদপত্র/টিভি যা-ই হোক) স্থাপন প্রায়

অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আমাদের দেশে অতীত থেকে চলে আসা কয়েকটি সংবাদপত্র ব্যক্তি বিশেষের মালিকানায় থাকলেও, রাষ্ট্রীয় বিশেষ আনুক‚ল্য (জমি বরাদ্দ, বিজ্ঞাপন, ব্যাংক ঋণ প্রভৃতি) ছাড়া টিকিয়ে রাখা বা লাভজনক রাখা দুরূহ হতো। কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় কর্পোরেট শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোই সংবাদপত্র, টেলিভিশন প্রভৃতি গণমাধ্যমের মালিক হয়ে উঠছে। ইউরোপ-আমেরিকা বা প্রতিবেশী ভারতের মতো অনেকেই টাইকুন বা মিডিয়া মোগল হয়ে উঠছেন।

বিগত শতাব্দীর আশির দশক থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিস্ময়কর উন্নতির ফলে সংবাদপত্র, টিভি, রেডিওর পাশাপাশি সাইবারনেটিকস গড়ে তুলেছে মানবেতিহাসের বৃহত্তম গণযোগাযোগ মাধ্যম। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন পরস্পর সংযুক্ত। কেবল কথা বলা নয়, ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে নতুন ‘সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম’। টুইটার, ফেসবুক, ব্লুগ, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, স্কাইফি এবং ই-মেইল মানুষে মানুষে যোগাযোগকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। ছোট্ট একটি সেলফোন হয়ে উঠেছে সামাজিক গণযোগাযোগের মাধ্যম এবং ই-গভর্নেন্স-এর চালিকা কেন্দ্র।

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বশেষ আবিষ্কার গণমাধ্যমের প্রচলিত সংজ্ঞা, পরিধি, ভূমিকা, দায়িত্বশীলতা এবং উপযোগিতাকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।

এখানে আমি কেবল সংবাদপত্রের কথাই বলব। সংবাদপত্র এখন আর আগের মতো পাঠকনির্ভর নয়। যত বেশি সংবাদপত্র বিক্রি হবে, তত বেশি মুনাফা, এ ধারণাটি এখন একপেশে এবং পরিত্যাজ্য। বরং মূল্যের বিনিময়ে অথবা বিনামূল্যে একটি সংবাদপত্র যত বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছবে, তত বেশিই পত্রিকাটির মুনাফা স্ফীত হবে। এটি একটি ধাঁধার মতো। আসলে সংবাদপত্র অথবা টেলিভিশন- যাই বলুন, তার টিকে থাকা এবং মুনাফা নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের ওপর। সংবাদ এখনো পণ্য- তবে সবচেয়ে কম দামি পণ্য। অতীতে গণমাধ্যম ‘সংবাদ’কে পণ্যে পরিণত করে তারই বিপণন করত সংবাদপত্রের (টেলিভিশনেরও)

মাধ্যমে। এখন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং কর্পোরেট অর্থনীতির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করেই বিশাল মুনাফা শিকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ আমেরিকায় তাই, অনেক জনপ্রিয় সংবাদপত্র এখন বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশেও এটা সম্ভব। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন ভারাক্রান্ত পত্রিকাগুলো (আমার ধারণা, প্রথম আলো, ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রভৃতি) যদি বিনামূল্যে বিতরণ করে, তারপরও ওইসব সংবাদপত্র যথেষ্ট মুনাফা করবে।

একথা সত্য, সংবাদপত্র বা টিভির মালিক/কর্পোরেট হাউসগুলোর সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবাদর্শগত অবস্থান এবং নিজস্ব এজেন্ডা থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ মতাদর্শ বা রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য বা সহানুভূতি থাকাও বিচিত্র নয়।

তবে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের উৎস ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে সংবাদপত্রটির স্বাধীনতার এবং সামাজিক অঙ্গীকারের সীমা। বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমের ‘স্বাধীনতা’কে নতুন ডাইমেনশন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ‘সংবাদ’ পরিবশেন বা বিজ্ঞাপন পাওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনো কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র/টিভি চ্যানেলটি কদাচ করবে। আমাদের দেশের অনেক পত্রিকাই ‘লুটেরা ধনীকদের’ বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভীষণ সোচ্চার। কিন্তু বিজ্ঞাপন হারানোর ভয়ে কোনো কোনো ভূমিদস্যু, কর্পোরেট হাউস এবং দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তাদের সোচ্চার হতে দেখি না।

অতএব, গণমাধ্যমের চিরায়ত নৈতিকতা, সৎ সাংবাদিকতা অথবা বস্তুনিষ্ঠতা এখন প্রায়শই গণমাধ্যমটির অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রকৃতির নির্ভর করছে।দু’একটি উদাহরণ দিয়ে প্রবন্ধের ইতি টানছি। বাংলাদেশে ১/১১-এর পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের চরিত্র হনন ও নির্যাতনের নীতি গ্রহণ করেছিল। এমনকি সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী একাধিক সংবাপত্রকে বিশেষ বিশেষ রাজনীতিবিদদের (যেমন শেখ হাসিনার কথিত দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল ডেইলি স্টার) দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরীক্ষিত বা অপ্রমাণিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বাধ্য করেছিল। সম্প্রতি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম তা স্বীকারও করেছেন। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান নিজ নামে ‘দুই নেত্রীকে যেতে হবে’ শিরোনামে মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সৎ সাংবাদিকতার ধ্বজা ধারণ করেন, তারা কেন সাহস করে সেই চাপ মোকাবিলা করলেন না? তারা ‘সংবাদ মাধ্যম’-এর ঊর্ধ্বে গিয়ে অনেকের অথবা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের সম্পাদিত সংবাদপত্রকে যে ব্যবহার করলেন তা সাংবাদিকতার নৈতিকতায় কতটা সিদ্ধ? অথবা কোনো দলীয় মুখপত্র না হয়ে, নিরপেক্ষতার কথা বলে তারা কি নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে ব্যবহার করতে পারেন?

একটি সংবাদপত্র জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিধ্বনি অবশ্যই করতে পারে এবং গণআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ যদি তার পদচ্যুতি দাবি করে, তাহলে সংবাদপত্রটি তা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারে। স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে জেনারেল এরশাদের পতনের দাবি ছিল, সর্বজনীন। অবশ্যই দায়িত্বশীল পত্রিকা এই সর্বজনীন দাবিটির পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এজেন্ডাটি কার? আপনার না জনগণের। সত্য বটে জনগণের নামে আপনিও সে এজেন্ডা উত্থাপন বা প্রচার করতে পারেন। যদি তা করেন, গণমাধ্যম বা সংবাদপত্র হিসেবে আপনি কি আপনার দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন করলেন না?

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংবাদপত্রের ও সম্পাদক/সাংবাদিকদের ভূমিকার তো তারতম্য থাকবে। নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল সংবাদপত্র রাজনৈতিক দলের বা রাজনীতিবিদদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন না। গণমাধ্যমকে অবশ্যই কতগুলো সর্বজনীন বা বিশ্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নৈতিক মানদণ্ড, স্বাধীনতার সীমা এবং দায়িত্বশীলতার পরিধি মেনে চলতে হবে।

লেখক: রাজনীতিক,সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

You may also like

Leave a Comment