# আবুল হোসেন #
ইসলামের শাশ্বত বাণী হলো- আল্লাহ পাক এ পৃথিবীতে মানব জাতি সৃষ্টি করেছেন, তথাপি তাদেরকে প্রেরণ করেছেন “একমাত্র তাঁহার (আল্লাহর) ইবাদতের জন্য। মানব জাতির আদি পিতা আদম (আঃ) কে সৃষ্টির পূর্বে অসংখ্য অগণিত ফেরেশতারা আল্লাহ তালার ইবাদত করতেছিল। তারপরও আল্লাহ পাক মানুষ (আদম) সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করলেন, এবং ফেরেশতাদের ডেকে তাদের সামনে আল্লাহ পাক নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে পরামর্শ চাইলেন। কিন্তু ফেরেশতাগণ তখন উত্তরে বলেছিলেন আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। এরা দুনিয়াতে ফেৎনা ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবে। তাছাড়া আমরা তো আছিই, আপনার ইবাদত করছি। তখন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছিলেন “ইন্নি আ’লামু মাআলা তায়ালামুন”- অর্থাৎ নিশ্চয় আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। সুতরাং বলা চলে মানব জাতিকে সৃষ্টি করা এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহ পাক তাহার আনুগত্যতা প্রকাশের একান্ত ইচ্ছা থেকেই আমাদের এ ধরাতেই আগমন। আমরা সহ¯্রবার আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া আদায় করি যে, মাবুদ আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত করেছেন। এবং সর্বোপরি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)’র উম্মত হিসেবে মর্যাদাবান করেছেন।
আমরা জানি মসজিদ আল্লাহ ঘর। মুসলমানরা প্রথম থেকেই মসজিদুল আকসা, মসজিদুল হেরাম এছাড়া নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)’র হিজরতে পর মসজিদে নববীতে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ইসলামী দুনিয়ায় একটি সুন্দর ও শান্তিময় আবহের সৃষ্টি করেছে। মসজিদ ভিত্তিক আল্লাহর তালার ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি দ্বীনের দাওয়াতী কার্যক্রম, মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্র/ পাঠাগার, কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, মাদরাসাগুলোতে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী মসজিদ তৈরী করে মুসলমানগণ ইবাদত বন্দেগী করতেছেন। রাসুল (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে শুরু করে ইসলামী শাসকদের বেশির ভাগ নীতি নির্ধারনী কার্যক্রম ছিল মসজিদ কেন্দ্রিক। অর্থাৎ মসজিদ হচ্ছে সম্মিলিত ভাবে আল্লাহ পাকের ইবাদত বন্দেগী করার একটি সুব্যবস্থা। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, বিভিন্ন দেশে থাকলেও আমাদের দেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের নামাজের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা নেই। হযরত শাহজালাল (রঃ) ও শাহপরান (রঃ) সহ অসংখ্য বুজুর্গানে দ্বীনের স্মৃতি বিজড়িত এই সিলেট তথা বাংলাদেশের অসংখ্য চাকুরীজীবী, কর্মজীবী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রীরা তথাপি মা-বোনেরা আমাদের শহরে প্রয়োজনে চলাফেরা করতে হয়। কিন্তু নামাজের যখন সময় হয় তখন সহযোদ্ধা পুরুষ ব্যক্তি নিকটবর্তী মসজিদে গেলেও মহিলাকে কোথাও দাঁড়িয়ে বা বসে থেকে সময় অতিবাহিত করতে হয়। যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। অবশ্যই এটি হয়েছে মসজিদে মহিলাদের নামাজের জায়গা না থাকার দরুন।
যাই হোক আমাদেরকে এই অবস্থা থেকে একটু বেরিয়ে আসার জন্য একটি উদ্যোগই যথেষ্ট। তাই আমি উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মানব কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ আলহাজ্ব ড. রাগীব আলী সাহেবকে যিনি এই সিলেট তথা বাংলাদেশের কল্যাণে এবং আল্লাহকে খুশি ও রাজি করার নিমিত্তে অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু উনি যদি তাহার প্রিয়তম সহধর্মীনি মহিয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর নামে সিলেট নগরীতে একটি মহিলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন তা হলে আমাদের মা-বোনেরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের একটি সমূহ সুযোগ পাবে এবং উনার স্ত্রী যার বদৌলতে আল্লাহ পাকের জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন হবেন। নিজেও এর ফায়দা দুনিয়া ও আখেরাতে পাবেন।
দক্ষিণ সুরমার সিলাম হাজী ছালেহা খাতুন মহিলা মাদরাসা মুহতামীম আলহাজ্ব গোলাম সোবহান খানের সাথে সম্প্রতি মাদরাসায় এক দোয়া মাহফিলে দেখা হয়েছিল। আমার সাথে ছিলেন সিলেট প্রেসকাবের সদস্য ও দক্ষিণ সুরমা প্রেসকাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম. আহমদ আলী। তখন মুহতামীম হুজুর রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর নামে যে কোন জায়গায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য রাগীব আলী সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম. আহমদ আলীসহ আমাদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং আল্লাহর ওয়াস্তে এই স্বপ্নময় অনুরোধটুকু তার পক্ষে রাগীব আলী সাহেবের কাছে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাই আল্লাহ তায়ালাকে খুশী ও রাজি করার জন্য আল্লাহর বান্দীদের শহর কেন্দ্রিক নামাজ পড়ার সুযোগ করে দিতে প্রখ্যাত দানবীর আলহাজ্ব রাগীব আলী সাহেবের সহধর্মীনি মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর নামে একটি মহিলা মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য রাগীব আলী সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক- শিক্ষক, বৈরাগী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, জালালপুর, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট। ০১৭৩৯ ২৪৮৪৮২
