ইয়াবায় আসক্ত তরুন সমাজ

by News Room
মোঃ তানভীর হোসেন তুহিন: ইয়াবা যার ছদ্ন নাম বাবা অথবা গুটি। নিমিষেই পাওয়া যায় স্বল্প মূল্যে সাথে রয়েছে ফ্রিতে হোম ডেলিভারি। ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এই মরণ বড়ি। দশম শ্রেনি থেকে শুরু হয় এই মরণ বড়ি সেবন, সেবন করেন সমাজের সকল পেশার মানুষের কিছু কিছু মানুষ যেমন ডাক্তার, পুলিশ,ওয়ার্ড কাউন্সিলার,আরো অনেকেই।এটি অত্যন্ত ছোট্ট একটি ট্যাবলেট। মানি ব্যাগ এবং নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগেও এটি সহজে বহন করা যায়।
অনলাইনে অর্ডার দিলে পৌঁছে যায় বাড়িতে। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার দেওয়া যায়। এঠি সেবনের ফলে সেবন কারীর শরীর চাঙা হয়। রাতের পর রাত জেগে থাকা যায়। যৌন উদ্দীপনা বেড়ে যায় তখন বিচরণ করে কল্পনার রাজ্যে। সমাজ এখন এমন এক পরিস্থিতির শিকার যেখানে ছোটে বড় কোনো ভেদাভেদ নাই যেখানে যাকে যেভাবে মোটিভেশন করা দরকার তার কাছে সেভাবেই ইয়াবা তুলে দেওয়া হচ্ছে। যেমন শিক্ষার্থীদেরকে বলছে যে, এটা খেলে তুমি রাত জেগে পড়তে পারবে। কেউ মোটা হলে তাকে বলা হচ্ছে শরীর শুকিয়ে যাবে। গানের শিল্পীকে বলছে, ইয়াবা খেলে গলার কাজ ভালো হবে।
ইয়াবার কারণে পুরোপুরি বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। এই পরিবর্তনটা হয় খুব দ্রুত গতিতে। ইয়াবা সেবনের ফলে দিনে সে ঘুমাচ্ছে, রাতে জেগে থাকছে। পরপর কয়েকদিন সে ঘুমাচ্ছে না কিন্তু আবার একটানা ঘুমাচ্ছে। ফলে মেজাজ অত্যন্ত চরমে উঠে যাচ্ছে। কয়েকদিন পর দেখা যায় পরিবারের সবার সাথে তার ঝগড়াবিবাদ গণ্ডগোল লেগে যায়। আশেপাশের আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। তার মনে হয় সবাই খারাপ। তিনি একাই শুধু ভালো। কিছুদিন পর দেখা যায় যে প্যারানয়েড হয়ে গেছে। সে ভাবতে থাকে যে সবাই তার শত্রু বা সবাই তার পেছনে লেগেছে। সে সন্দেহ করতে শুরু করে যে তাকে কেউ মেরে ফেলবে, বিষ খাওয়াবে। তারপর ধীরে ধীরে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইয়াবা সেবনের ফলে সেবনকারীর তার পরিবারের প্রতি একরোখা হয়ে যায়,পরিবারের সদস্যের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়। ইয়াবা খেয়ে শিক্ষার্থীরা রাতে বেশিক্ষণ জেগে থাকলেও কোন লাভ হয় না। কারণ পড়ালেখায় তার মনোযোগ থাকে না। মোটা মানুষকে ইয়াবা চিকনও করে না। এটা খেলে তার খিদে কমে যায়। তখন সে কম খায়। তার পেশীকে ক্ষয় করে ফেলে। মাংসপেশি শুকিয়ে গেলে একটু শুকনা মনে হয়, গাল ভেঙে যায়। কিন্তু চিকন হওয়ার তথ্য পুরোপুরি ভুল।”অনেকে ইয়াবা গ্রহণ করে যৌন উদ্দীপক হিসেবে। প্রথম দিকে সেটা কাজ করে যেহেতু এটা খেলে শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার যৌন ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার, কিডনি থেকে শুরু করে শরীরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ইয়াবা খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয়। লিভার সিরোসিস থেকে সেটা লিভার ক্যান্সারেও পরিণত হতে পারে,ফুসফুসে পানি জমে,কিডনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়,লিভার সিরোসিস থেকে ক্যন্সারও হতে পারে, মস্তিষ্কের সরু রক্তনালী ছিঁড়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তপাতও হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইয়াবা খেলে শরীরে একটা তাপ তৈরি হয় যা কিডনিরও ক্ষতি করতে পারে। মেজাজ চড়ে যায়, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, নিষ্ঠুর হয়ে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়, মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।
” “রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না প্রেমিকা, বউ ,বন্ধু -বান্ধব এর সাথে খারাপ আচরণ করা শুরু হয়। নিষ্ঠুর নির্মম হয়ে যায়। আমাদের ব্রেনের ফ্রন্টাল একটি লোপে যেখানে বিচার বিবেচনার বোধ তৈরি হয়, যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, পরিকল্পনা করি সে জায়গাটা কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ পাষণ্ড হয়ে যায়, হিংস্র হয়ে যায়। মায়ের গলায় ছুরি ধরে টাকার জন্যে। মা বাবার বুকে বসে ছুরি চালাতে তার বুকও কাঁপে না। তরুন সমাজকে বাঁচাতে হলে দেশের সরকারের সাথে সাথে আপনাকে ও এগিয়ে আসতে হবে নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে দেখতে হবে আমার ছেলে মেয়ে কোথায় যায় কাদের সাথে মিশে খেয়াল রাখতে হবে তাদের আচরন চলাফেরার।
লেখকঃ তরুণ ব্যবসায়ীও সমাজ সেবক।

You may also like

Leave a Comment