ইসলামী চিন্তা-চেতনা, ইসলামী মন-মানসিকতা ও ইসলামী চরিত্রসম্পন্ন ব্যক্তিকেই বলা হয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব।একজন ইসলামী নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তি যদি মৌলিক মানবীয় গুণেও সমৃদ্ধ হন, তিনি হন যোগ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব। ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য এই ধরনের বহু সংখ্যক ব্যক্তির বিদ্যমানতা অত্যাবশ্যক। কোন ভূ-খণ্ডের জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশের ইসলামী চিন্তা-চেতনা, ইসলামী মন-মানসিকতা ও ইসলামী চরিত্রসম্পন্ন রূপে গড়ে ওঠার নাম ইসলামী গণ-ভিত্তি। এই গণ-ভিত্তি গড়ে না ওঠা পর্যন্ত কোনভূ-খণ্ডে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়া স্বাভাবিক নয়। আলকুরআনের সূরা আর রা‘দের ১১ নাম্বার আয়াত সেই কথারই ইংগিত দেয়। اِنَّ اللهَ لاَ يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتّى يُغَيِّرُوْا مَا بِاَنْفُسِهِمْ.
উল্লেখ্য যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহ্বানে সাড়া দিয়ে যাঁরা মুমিন হতেন তাঁরাও সংগে সংগেই ইসলামের মুবাল্লিগ বা দা‘য়ী ইলাল্লাহ হয়ে যেতেন। তাঁরাও আলকুরআনের জ্ঞান বিতরণ এবং আলকুরআনের জ্ঞানের ভিত্তিতে চরিত্র গঠনের জন্য লোকদেরকে উদ্বুদ্ধকরণের কাজেআত্মনিয়োগ করতেন।মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিপ্লব সাধনের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেননি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবির্ভাবকালে আলআরাবীয়ার প্রত্যেক ব্যক্তি নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র বহন করতো। অর্থাৎ তখন অস্ত্র রাখা ও অস্ত্র বহন করা বৈধ ছিলো।
মুশরিকদের হামলায় হারিছ ইবনু আবী হালাহ (রা), ইয়াসির (রা), সুমাইয়া (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াসির (রা) শাহাদাত বরণ করেন। অনেকেই হন আহত। কিন্তু বৈধ অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাথীরা এই যুল্মের প্রতিকারের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেননি। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ ছিলো “কুফ্ফু আইদিয়াকুম” (তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখ) অর্থাৎ অস্ত্র ব্যবহার করো না। এই নির্দেশ এসেছিলো ওহী গায়রে মাতলূ-র মাধ্যমে। পরবর্তী কালে সূরা আন্ নিসার ৭৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন এই বিষয়টি উল্লেখ করেন। ইসলাম-বৈরী শক্তি হামলার পর হামলা চালাতে থাকে। আর আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বিভিন্ন সূরা নাযিল করে মুমিনদেরকে বার বার ছবর অবলম্বন করার তাকিদ দিতে থাকেন। উল্লেখ্য যে, ছবরের বহুবিধ অর্থের কয়েকটি হচ্ছে নিজের আবেগ সংযত রাখা, রাগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ না করা, বিপদ-আপদে ঘাবড়ে না যাওয়া, ত্বরা-প্রবণতা পরিহার করা, কাংখিত ফল পেতে দেরি দেখে অস্থির না হওয়া, অশোভন আচরণে উত্তেজিত না হওয়া,প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকা। আরো উল্লেখ্য যে, কোন নবীই ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য সশস্ত্র তৎপরতা চালাননি। আর নবীরা তো আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের ইচ্ছারই প্রতিনিধিত্ব করতেন।
নবুওয়াতের একাদশ সনে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐআকাবাতেই ইয়াসরিব থেকে আগত বারো জন ব্যক্তির সাথে আলাপ করেন। তাঁরা মনে প্রাণে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সর্বাবস্থায় ইসলামের ওপর অবিচল থাকার অংগীকার করেন। এই ঘটনাকেই বলা হয় প্রথম বাই‘আতে আকাবা।
