পশ্চিম তীরের আহিয়া ফাঁড়ির অবৈধ বসতির বাসিন্দা রাফায়েল মরিস (২০) কোনো রাখঢাক না রেখেই বলল যে কয়েক বছর ধরে সে ‘ধর্মযুদ্ধে’ জড়িত আছে। ইসরাইল থেকে অ-ইহুদিদের এবং অবৈধ ইহুদি সবসতি বাড়াতে সে ‘লড়াই’ করে যাচ্ছে। জর্ডান নদীর তীরের পশ্চিম তীর (বাইবেলের ভাষ্যমতে যা জুডিয়া অ্যান্ড সামারিয়া নামে পরিচিত) প্রাচীন ইসরাইল রাজ্যের অন্তর্গত বলে তাদের বিশ্বাস।
ছয় বছর আগে মরিস এবং অন্য দশজন কিশোর এখানে এসে বসতি নির্মাণ শুরু করেন। ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার কৌশল ছিল এটি। ‘আরব আর আমরা এক নই’ বলছিল মরিস।
পশ্চিম তীরের এই জায়গায় বহু ফাঁড়ি তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন গোঁড়া ইহুদি তরুণরা। এরা ‘হিলটপ তরুণ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
এই্ সম্প্রদায়ের লোকেরা ইহুদিবাদী জঙ্গিবাদের যে ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়াচ্ছে তার জেরে ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে হামলার ঘটনা বেড়েছ আহিয়া এলাকাটি ডুমা গ্রাম থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত যেখানে ৩১ জুলাই গভীর রাতে দুটো আরব বসতিতে বোমা নিক্ষেপ করে ইহুদিবাদী জঙ্গিরা।
এর মধ্যে একটি বাড়ি ছিল জনশূন্য। কিন্তু অন্য বাড়িটিতে একটি বেডরুমে একই পরিবারের চারজন ঘুমাচ্ছিলেন।
হামলার পরপরই মারা যান ১৮ মাস বয়সী আলি সাদ দাওয়াবশাহ। এর দুই সপ্তাহ পরে মারা যায় শিশুটির বাবা সাদ দাওয়াবশাহ। তার শরীরের ৮০ ভাগই দগ্ধম হয়েছিল।
শিশুটির মা রেহাম এবং তার চার বছর বয়সী পুত্র আহমাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা বাঁচবে বলে পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করছেন না। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির দেয়ালে লেখা দেখতে পাওয়া যায় ‘প্রতিশোধ’ এবং (হযরত) ‘মুসা (আ.) দীর্ঘজীবী হউন’।
এই বর্বর হামলার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য রাজনীতিকরা ‘ইহুদিবাদী সন্ত্রাসের’ নিন্দা জানালেও এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে যখনই ইসরাইলি সরকার পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনের আন্দোলনে লাগাম টানতে চায় তখনই ফিলিস্তিনিদের জীবন ও সম্পতির ওপর আঘাত নেমে আসে। একে বলা হয় ‘প্রাইস ট্যাগ’ মুভমেন্ট।
ইসরাইলি আদালত পশ্চিম তীরের বেত এলে দুটি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়ার পরই ডুমায় হামলার ঘটনা ঘটে। অবশ্য আদালতের নির্দেশের পরপরই নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন যে সেখানে ৩০০ নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হবে।
‘ইয়েস দিন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার হিসেবে, ফিলিস্তিনিদের ওপর যত ইহুদিবাদী হামলার ঘটনা ঘটছে তার মধ্যে মাত্র ৮ ভাগ ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ডুমায় হামলার দুসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেনি ইসরাইলি সরকার।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনের দিক থেকে কোনো সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে গণসাজার ব্যবস্থা করে।
ইহুদিবাদী হামলার মধ্যে রয়েছে মসজিদ ও গির্জায় ভাঙচুর, অলিভ গাছ উপড়ে ফেলা অথবা ডুমার মত ঘটনা যাতে জীবনের ক্ষতি বা হত্যার জন্য সরাসরি আক্রমণ করা হয়।
অনেক সময় হামলার জন্য কিশোরদের পাঠানো হয় যাতে আইনি ফাঁকফোকরের কারণে তাদের সাজা দেয়া সম্ভব না নয়।
সূত্র: ডেইলি বিস্ট
