আর ধর্ষণ কে ছুঁড়ে ফেলে দেই অন্ধকূপে..

by News Room

অরণি সেমন্তি খান:আমার দেশের যে নিরাপত্তাহীন অবস্থা, তা আমাদের নারীদের জন্য যে আরো ভয়াবহ, এরই প্রমাণ ভর সন্ধ্যায় মেইন রোড দিয়ে হাঁটার সময় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা। এই দেশে আছে অনেক মজনু, এবং আছে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, যে ব্যর্থ নারীদের নিরাপত্তা দিতে, তাই সমাজে অবক্ষয় হতে হতে আজ এ নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা।

আজকে আর বেশি কী ঠিক কী ভুল বলব না, আপনাদের মনে করিয়ে দিব না এই মজনু যেহেতু ‘কেউ না’ তাই তাকে এভাবে সাজা দেয়া গেলো। এদিকে যাচ্ছি না, ন্যায়বিচারের একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই রায়। আর আমাদের এখান থেকে নেয়ার আছে অনেক কিছুঃ

মেয়েটির পরিবার বন্ধুবান্ধব কাছের সবাই তার পাশে থেকেছে, তারা লড়েছে। মেয়েটি নিজে লড়েছে। দৃঢ় স্তম্ভের মতন দাঁড়িয়ে থেকেছে তারা ঝড়ের ভিতর। বেশি নাটকীয় লাগতে পারে শুনতে তবে, তিনি ধর্ষণকে জয় করেছেন।
ধর্ষণ শারীরিক এবং মানসিকভাবে ধ্বংস করে দেয় আমাদের, সে তা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমার পৃথিবী যতই ছোট হোক, আমি এক কথায় বলবো এই মেয়েটা পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মেয়ে।
এই কয়েক মাস ধরে সাহসী থেকেছেন তিনি, তারা! আর ধর্ষণের বড় আরেকটা ধাক্কা আমাদের উপর, সেটা হল সামাজিক। এটাই আসলে সবচেয়ে কঠিন, বছরের পর বছরের এই কারণেই ধর্ষকরা মাথায় উঠেছে, জন্ম নিয়েছে। কিভাবে বের হবেন এর থেকে?
সহজ উপায়! এই মেয়েটি এবং তার পরিবারের মতন শক্ত থাকবেন, তোয়াক্কা করবেন না এসবকে। যে ধর্ষক তাকে ছি ছি করেন, লাগলে তাকেই এক ঘরে করেন! মেয়েকে কেন? এভাবেই আমরা বেরিয়ে আসা শুরু করবো ধর্ষণ থেকে।
মেয়ের পরিবার, মেয়ের বন্ধুরা, আসেন আমরা আমাদের মেয়েদেরকে সাহস দেই, পাশে থাকি। ধর্ষণ ছুঁড়ে ফেলে দেই। মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিকভাবে এই মেয়েগুলোকে বাঁচতে দিই আমরা, ধর্ষণকে বাঁচতে না দেই, মানুষ বাঁচাই, আমাদের মেয়েদের বাঁচাই, জীবন বাঁচাই, ছেলেদেরকেও বাঁচাই তাদের পশু হিসাবে বড় না করে।
আর ধর্ষণ কে ছুঁড়ে ফেলে দেই অন্ধকূপে..

You may also like

Leave a Comment