গোলজার আহমদ হেলাল : ১৯৯৯ সাল।আমার জীবনের ভয়াবহতম একটি অধ্যায় তখন অতিবাহিত হয়েছে।Enteric Fever নামে দূরারোগ্য এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলাম আমি।মহান আল্লাহ’র কৃপায় স্বল্পতম সময়েই সূস্থ্য হয়ে উঠি।রিকাবীবাজারস্থ মেট্রোপলিটন হাসপাতালে প্রায় মাসখানেক ভর্তি ছিলাম।এ সময় আমার পাশে সার্বক্ষণিক ছিলেন জনাব রেহান উদ্দিন রায়হান চেয়ারম্যান,আমার একান্তপ্রিয় ভাই ফ্রান্স প্রবাসী আবু সাঈদ মো. সাফিউল ইসলাম,স্নেহের কামাল আহমদ আম্বিয়া(বর্তমানে রসময় স্কুলের শিক্ষক),শামীম আহমদ(vice-principal,Al-amin jamea),শাহরিয়ার আলম,UK প্রবাসী আমিনুর রহমান লিলু প্রমুখ।
অসুস্থ্যকালীন তাদের সেবা ভূলার মতো নয়।বিশেষ করে প্রিয় ভাই কামাল আহমদ আম্বিয়া Hospital থেকে hostel এ ফিরে যাওয়ার পর প্রতিবার খাবার এবং খাওয়ার পর ঔষধের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করতেন।আর একান্ত স্নেহভাজন আবু সাঈদ ভাই প্রতিদিন সকালে হাসপাতাল থেকে ছাত্রাবাসে একজন Medical assistant কে মোটরবাইকে নিয়ে যেতেন ইনজেকশন পুশ করানোর জন্য।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের সেবাকে কবুল করুন।
আমি ছিলাম এম সি কলেজ ১ম ছাত্রাবাসের (মুসলিম ছাত্রাবাস) আবাসিক ছাত্র।সুস্থ্য হয়ে উঠতে না উঠতেই আমার অনার্স ও সাবসিডিয়ারী ২য় পার্ট পরীক্ষা চলে আসলো।মানে হাসপাতাল থেকে ফেরার প্রায় সপ্তাহ খানেকের মাঝে পরীক্ষা।অনেকেই পরীক্ষা না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।কিন্তু আমি অনঢ় মনোবল নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিলাম।
আমার মনে পড়ছে আমার শ্রদ্ধাভাজন স্যার আমাদের ১ম ছাত্রাবাসের তত্তাবধায়ক জনাব ইসলাম উদ্দিন কে(রসায়ন বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক),তিনি সাবসিডিয়ারী ব্যবহারিক (পদার্থবিদ্যা) পরীক্ষার দিন রিক্সায় করে আমাকে পরীক্ষা হলে পৌঁছিয়েছিলেন।এবং কর্মরত হল পরিদর্শককে বলে আসছিলেন,সে অসুস্থ বিধায় খাতায় শুধু নাম ও theory of experiment লিখে চলে যাবে।
আমি আর্শ্বয্য হলাম,৩০মিনিট পর হল থেকে বেরিয়ে দেখি,স্যার বাইরে দাঁড়ানো। যথারীতি তিনি আমাকে ছাত্রাবাসে নিয়ে গেলেন।
ছাত্র-শিক্ষকের কি মধুর সম্পর্ক ।এ যেন পিতৃত্বসুলভ আচরণ।এ যেন সন্তানের প্রতি পিতার অসীম দায়িত্ববোধ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে উল্লেখ করতে চাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে আমি খুব হালকা-পাতলা ছিলাম।পরবর্তীতে মোটা হয়ে যাই।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক -দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
