আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (৫৭)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল :: ২৫ অক্টোবর ১৯৮৯ সাল। আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃহত্তর জৈন্তিয়ার আশার আলোকবর্তিকা সেন্ট্রেল জৈন্তা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে।বিকেলে বাড়ী ফেরার সময় চলে যাই আমার সহপাঠী আবুলের বাড়ীতে। আবুল খয়রাত মোহাম্মদ আহমদ। হরিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধাভাজন হোসাইন আহমদ সাহেবের ছেলে ও জৈন্তিয়ার কিংবদন্তী তূল্য শিক্ষক মরহুম মাস্টার  ছিকন্দর আলী সেক্রেটারি স্যারের নাতি সে। আমার ক্লাসের সেকেন্ড বয়। আমি তাদের আতিথেয়তা গ্রহণ করি। সম্ভবত ঐদিন খরিলহাট মাদ্রাসার জলসা ছিল। আবুলের বাড়ী দরবস্তের খলাগ্রামে। আমি, আবুল, আরেক সহপাঠী মাসুক এবং আমাদের সিনিয়র জাকারিয়া ভাই(পরবর্তীতে চিকনাগুল ইউপি চেয়ারম্যান) সহ আমরা অনেক আনন্দ উপভোগ করলাম। আবুলের আব্বা, আম্মা, চাচারা সহ বাড়ীর সবাই আমাদের অনেক মায়া করতেন। ফয়েজ স্যার।আবুলের চাচা।  জৈন্তাপুর প্রবাসী গ্রুপের অন্যতম নেতা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দেশের জন্য কাজ করছেন।আমাকে খুব স্নেহ করতেন।সত্যিকার অর্থে ছিকন্দর আলী স্যার ও তাঁর পরিবার এতদঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে মহীরূহের মত ভূমিকা পালন করছেন। জৈন্তিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা, সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে সেক্রেটারি স্যারের জুড়ি মেলানো ভার।

 

এদিকে বাড়ীতে মা অপেক্ষা করছেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। আমার কোন খবর নেই। এখনকার যুগের মত মোবাইল ফোনও ছিল না। সচরাচর আমি স্কুল শেষ করে বাড়ী ফিরে হারিগুলে ফুটবল খেলতে যাই। বাড়ীতে মা ভাবছেন, হয়ত আমি খেলতে লেগেছি। পরে যখন রাতে আমার বন্ধু সেলিম আহমদ (সুরুজ) বাড়ীতে গিয়ে বলল আমি আসব না। তখন মায়ের অপেক্ষার প্রহর ও চিন্তার উদ্রেকের অবসান ঘটে।

 

৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম সে বছর। সিলেট সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। আমাদের গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক প্রতিভাধর শিক্ষক নগেন্দ্র নমশূদ্র আমাদের কে সিলেট শহরে নিয়ে আসলেন। আমি, আবুল, শামীম, সোহেল, সালেহা আমরা পরীক্ষা দিতে যাই। লাতুর সোহেলের বড় ভাই হেলাল ভাই কলেজে পড়তেন। আমাদের সাথে ছিলেন সব সময়। সালেহা না সোহেলের বাবাও মনে হয় ছিলেন। আমরা প্রথমে মিরাবাজার কাদির খান সাহেবের বাসায় যাই পরীক্ষার আগের দিন।মৌলভী এম এ কাদির খান জৈন্তা তথা সিলেটের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। তাঁর বাবা মৌলভী আব্দুল করিম ছিলেন বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি। তিনি ছিলেন খান বাহাদুর উপাধি প্রাপ্ত।  পরে ঐদিন বন্দর বাজার হোটেল তায়েফে আমরা অবস্থান করি। হোটেল বহুতল বিশিষ্ট ছিল বলে নগেন্দ্র স্যার আমাদের সাথে থাকেন নি। স্যার বললেন, আমি বিল্ডিং ভয় পাই। নগেন্দ্র স্যার একজন ধীমান শক্তি সম্পন্ন মেধাবী ও চৌকষ শিক্ষক ছিলেন। ছাত্রজীবনে বোর্ড স্টেন্ড ধারী। বিজ্ঞানের জটিল জটিল বিষয় গুলো সহজেই বুঝাতেন। অংক সাবলীলভাবে বুঝিয়ে দিতেন। গ্যলভানাইজিং, গতিসুত্র, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণসহ ভৌত বিজ্ঞানের যাবতীয় বিষয় তিনি সহজেই হৃদয়াঙ্গম করাতে পারতেন। স্যার কে নিয়ে অনেক কিছু লিখা যাবে।

 

পরীক্ষার দিন ভোরবেলা বন্দরবাজার হোটেল আলবেলায় আমরা নাস্তা করি। কনকনে শীতের সকালে আলবেলার আখনীর স্বাদটাই আলাদা। যেমন সুস্বাদু, তেমন মজাদার।

 

সিলেট সরকারী পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। আমরা বৃত্তিপরীক্ষায় অংশ নেই। শিক্ষকদের সহযোগিতা ও প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ভূলার মতো নয়।

 

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট। 

সহ সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment