গোলজার আহমদ হেলাল : এখন আমাদের কক্সবাজার যাওয়ার পালা।তাই কাল বিলম্ব না করে খালু আর খালাম্মা’র কাছে বিদায় নিয়ে চট্রগ্রাম শহরের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হলাম।জিয়া ভাই আমাদের অগ্রপথিকের ভুমিকা পালন করছেন।চট্রগ্রাম নগরীতে এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করে বিকেলবেলা কক্সবাজারের গাড়ীতে উঠলাম।এবার বাস ভ্রমন।চিটাগাাং শহর থেকে কক্সবাজার ১১০ কি.মি. দুরে।রাস্তাও সরু।এমনিতেই ৪/৫ঘন্টা লেগে যায়।যানজজট পেলে তো রক্ষা নেই।
বাস ছাড়ল কক্সবাজারের পথে।আমরা সবাই এ পথের নতুন যাত্রী।অপলক দৃষ্টিতে আমাদের সবাই বাহিরের দৃশ্য অবলোকন করছেন।নগর পাড়ি দিয়ে পটিয়ায় যখন প্রবেশ করলাম।মনোমুগ্ধকর দৃশ্য্য।চোখ জুড়ানো,মন মাতানো নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।বাস চলছে অবিরাম গতিতে ।আমরা কেউ ঘুমাচ্ছি ,কেউ বা গল্প করছি।লোহাগড়ায় বাস যাত্রা বিরতি করল।আমরা সেখানে হালকা চা নাস্তা করলাম।
লোকমুখে প্রচলিত আছে, ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল শাহজাদা শাহ সুজা মীর জুমলার তাড়া খেয়ে আরাকান রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন। আরাকান যাওয়ার পথে তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মাঝামাঝি ছায়াঘেরা টিলাসমেত একটি জায়গায় (বর্তমান চুনতি গ্রাম) কিছুদিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় চিহ্নস্বরূপ একটি লোহার খুঁটি গেঁড়ে দিয়ে যান। স্থানটিতে লোহার খুঁটি গাঁড়ার কারণে লোহাগাড়া নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।লোহাগাড়া এক সময় সাতকানিয়া উপজেলার অধীনে ছিল। ১৯৮১ সালে লোহাগাড়া থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।এখানে মোট ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে।
আবার গাড়ী ছুটলো কক্সবাজার অভিমুখে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতের অন্ধকারে ছেয়ে গেল।প্রচন্ড ঠান্ডাও লাগছে।আমাদের মন এখন গন্তব্যের দিকে।কখন আমরা পৌছব যথাস্থানে।
দীর্ঘ যাত্রার পর আমরা পৌছলাম কক্সবাজার শহরে।রাত বেজে ১০টা।শীতের রাত।আমাদের গাড়ীটা কলাতলী পয়েন্টে না গিয়ে শহরেই আমাদের যাত্রা সমাপ্ত করে দেয়।সেখান থেকে রিক্সায় আমরা সৈকত সংলগ্ন রেষ্ট হাউসে যাই।পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত,স্বাস্থ্যকর স্থান বলে খ্যাত ও পর্যটন সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক কক্সবাজার ভুখন্ডের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথে শরীর এক অন্যরকম পুলকিত হয়।
আনন্দ এবং খুশীতে হৃদয় মন উদ্বেলিত হতে থাকে।শহর থেকে রিক্সা যোগে সমুদ্রতীর অভিমুখে যাওয়ার প্রাক্কালে যা মনে হলো শহর টা অনেক পুরনো।কিছু কিছু প্রাচীন স্থাপত্যকলা এর পরিচয় বহন করছে।সাগর পাড়ের দিকে পর্যটকরা সমাগম করে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহর কে একটু অবহেলাই করছে মনে হলো।একদিকে পাহাড় অন্যদিকে সমুদ্রের অথৈ জলরাশি।এরই মধ্যে মনুষ্য বসবাস।প্রকৃতির অপরুপ কান্ড।বিস্ময়কর লীলা।ভাবতে অবাক লাগে।
আমরা যখন রিক্সায় যাচ্ছি আলো আধাঁরে রাস্তার পাশের গাছগুলোর নড়াচড়া প্রত্যক্ষ করলাম।মুহুর্তেই কানে বাজলো শাঁ শাঁ শব্দ ।মনে হচ্ছে কালবোশেখী ঝড় শীঘ্রই আঘাত করবে।রিক্সা চালক কে বললাম দ্রুত চালাও।বৃষ্টি আসতেছে।সে বলল না না ভাই ,বৃষ্টি না।এ শব্দগুলো সমুদ্রের গর্জন।আপনারা প্রথম আসছেন বোধ হয়।বললাম জি।সিলেট বাড়ী কি না জিজ্ঞেস করল।আমাদের কথা শুনলেই বলতে পারে ওরা।আমরা হকল সিলেটী।সমুদ্রের তর্জন গর্জন শুনে সাগর দেখার ইচ্ছা অনেক বেড়ে গেল। আমরা হোটেলে গিয়ে দেরী না করে সাগর পাড়ে চলে আসি।আল্লাহর অনবদ্য সৃষ্টি সাগর -মহাসাগর।সাগরের অথৈ জল রাশি,প্রবল ঢেউ,হুংকার,জোয়ার- ভাটা এগুলো অবলোকন করলেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালবাসা এমনিতেই বেড়ে যায়।আল্লাহ যে এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেন নি।এগুলো স্রষ্টার নিদর্শন।পাশাপাশি সমুদ্রে লুকিয়ে আছে অজস্র সম্পদ রাজি।মানুষের রিজিক।পরিবেশ ও দুনিয়ার ইকোলজিকেল সিস্টেমের ভারসাম্য আনয়নের অনেক উপাদান।তাই সমুদ্র ভ্রমন জ্ঞান আহরনের এক তীর্থক্ষেত্র।শুধুমাত্র বিনোদন কিংবা অবকাশ যাপনের জন্য নয়।
বিস্ময়কর বিষয় হল ,প্রচন্ড শীতেও সমুদ্র তীরে উষ্ঞতা অনুভুত হয়।শীত সেখানে পালিয়ে যায়।আমরা সমুদ্র অবলোকন করে লটিয়া মাছ আর কোরাল মাছ দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে রুমে চলে যাই।
কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত, যার দৈর্ঘ্য ১২২ কি.মি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান। একসময় কক্সবাজার পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন নাম হচ্ছে পালঙ্কি।
নবম শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে ১৬১৬ সালে মুঘল অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত কক্সবাজার-সহ চট্টগ্রামের একটি বড় অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। মুঘল সম্রাট শাহ সুজা পাহাড়ী রাস্তা ধরে আরাকান যাওয়ার পথে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং এখানেই ক্যাম্প স্থাপনের আদেশ দেন। তার যাত্রাবহরের প্রায় একহাজার পালঙ্কী কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা নামের স্থানে অবস্থান নেয়। ডুলহাজারা অর্থ হাজার পালঙ্কী। মুঘলদের পরে ত্রিপুরা এবং আরকান তার পর পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
কক্সবাজার নামটি এসেছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে। কক্সবাজারের আগের নাম ছিল পালংকি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৭৭৩ জারি হওয়ার পর ওয়ারেন্ট হোস্টিং বাঙলার গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তখন হিরাম কক্স পালংকির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। ক্যাপ্টেন কক্স আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইনদের মধ্যে বিদ্যমান হাজার বছরেরও পুরানো সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেন। এবং শরণার্থীদের পুণর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেন কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ করার আগেই মারা (১৭৯৯) যান। তার পূর্নবাসন অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এর নাম দেয়া হয় কক্স সাহেবের বাজার। কক্সবাজার থানা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।
কক্সবাজার চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি.মি.। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র। দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক এবং আকাশপথে কক্সবাজার যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার অবধি রেললাইন স্থাপনের প্রকল্প চলমান রয়েছে।আশা করা যাচ্ছে ২০২২সালের মধ্যে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই বিশটি পাঁচতারা হোটেল রয়েছে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম – বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট।এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র ফিস একুরিয়াম । আরো রয়েছে প্যারাসেলিং,ওয়াটার বাইকিং,বিচ বাইকিং,কক্স কার্নিভাল সার্কাস শো,দরিয়া নগর ইকোপার্ক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিমির্ত অসংখ্য স্থাপত্য, ফিউচার পার্ক,শিশুপার্ক,এবং অসংখ্য ফোটোসুট স্পট।এখানে আরো আছে টেকনাফ জিওলজিক্যাল পার্ক।এখানে উপভোগের জন্য রয়েছে নাইট বিচ কনসার্ট ।সমুদ্র সৈকতকে লাইটিং এর মাধ্যমে আলোকিত করার ফলে এখানে রাতের বেলায় সমুদ্র উপভোগের সুযোগও রয়েছে।এখানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিমির্ত হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সী-একুরিয়্যাম। ক্যাবল কার এবং ডিজনি ল্যান্ড।
কক্সবাজারে বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাস করে যা শহরটিকে করেছে আরো বৈচিত্র্যময়। এইসব উপজাতিদের মধ্যে চাকমা সম্প্রদায় প্রধান। কক্সবাজার শহর ও এর অদূরে অবস্থিত রামুতে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বৌদ্ধ মন্দির। কক্সবাজার শহরে যে মন্দিরটি রয়েছে তাতে বেশ কিছু দুর্লভ বৌদ্ধ মূর্তি আছে। এই মন্দির ও মূর্তিগুলো পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণই বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে বিখ্যাত।
কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় আছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।এছাড়া হিমছড়িও বিখ্যাত। শহর থেকে ১২ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে সাগরের দৃশ্য অপার্থিব মনে হয়।অর্থাৎ এখান থেকে সম্পূর্ণ সমুদ্র এক নজরে দেখা যায়। হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার ক্রিসমাস ট্রি। সম্প্রতি হিমছড়িতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট।
ইনানী সমুদ্র সৈকতও অবলোকন করার মত।দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারে সৈকত সংলগ্ন আরও অনেক দর্শনীয় এলাকা রয়েছে যা পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণের বিষয়। সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনানী সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে রাস্তায় মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত।
পরের দিন আমরা টেকনাফ যাব।নারিকেল জিন্জিরার দ্বীপ সেন্টমার্টিন ঘুরে আসব।আমাদের অভিযাত্রী দলের সিনিয়র সদস্য লিটু ভাই গুরুত্বপুর্ণ একটা পরামর্শ দিলেন।আমিরুল হক চৌধুরী লিঠু ভাই।সিলেট শহরের রায়নগর দর্জিবন্ধ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।১৯৯৩ সাল থেকেই পরিচয় ।একজন সদালাপী,সত্যবাদী,মিশুক,খোদাভক্ত ও চরি্ত্রবান যুবকের এক প্রতিচ্ছবি তিনি।ম্যাথম্যাটিকস এর কৃতি ছাত্র।সফরসঙ্গী হিসেবে তাকে পেয়ে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।নামাজের ব্যাপারে তিনি খুব সচেতন ছিলেন।লিটু ভাই বললেন আমরা যেহেতু অনেক লং জার্নি করব কাল।সফরকালীন সময়ে কিংবা বাস জার্নি তে প্রাকৃতিক কাজ সেঁড়ে নেয়াটা খুব দুরূহ বিষয়।তাই আমরা ব্রেড কিনে ফেলি।ফজরের নামাজ পরে পাউরুটি খেয়ে ফেললে প্রাত:কাজটা হোটেলেই করে ফেলব।দেন রাস্তায় কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।আসলে লিটু ভাই’র আইডিয়া চমৎকার ছিল।আমরা ফলও পেয়েছি।তাঁর উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষন শক্তি সত্যিই অতুলনীয়।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক,দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
