আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (১৭)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : আমি খুঁজছি সেই চাচাকে যিনি আমাকে স্কুল থেকে ফেরার পথে একটি ইদ্রিছ মার্কা ছাতা কিনে দিয়েছিলেন সারীঘাট (গোয়াইন রাস্তার মুখ) বাজার থেকে,আমি খুঁঁজছি সেই ভাইটিকে(সারিঘাট কওমী মাদ্রাসার ছাত্র) যিনি ধর্মঘটকালীন হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সময় আমাকে পাঁঁচ টাকা দিয়ে রিকসায় যেতে সহায়তা করছিলেন,আমি খুঁঁজছি সেই বড় ভাইকে(জাসদ রাজনীতি করতেন)যিনি আমাকে অনেক দিন দুপুরে নাস্তা করিয়েছেন যখন ছিল ক্ষুধার চাহিদা প্রবল।

প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি।কালবৈশাখীর তান্ডবে লন্ডবন্ড জনপদ।মুষলধারে দিনের পর দিন বৃষ্টি হওয়ার ফলে খাল-বিল ,নদী-নালা পানিতে থৈ থৈ করছে।রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে পানির নিচে।উজান গাঙের নাইয়ারা ভাটিয়ালমুখী।

বাড়ির পাাশ দিয়ে বহমান জলকন্যায়(সাারীনদী) বিপদসীমার উপর দিয়ে পাানি প্রবাহিত হচ্ছে।গ্রামের লোকজন উজান থেকে পানিতে ভেসে আসা গাছ ধরতে চরম প্রতিযোগিতা করত।

আমাদের রহমান চাচারা এই সময় গাছ ধরে বিক্রি করে প্রচুর টাকা উপার্জন করতেন।বলতে গেলে গ্রামের অনেক লোক এই বানের সময় গাছ ধরে বিক্রি করে সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

কবি সুফিয়া কামাল যথার্থই লিখেছেন:”গাছে ফুল-ফল,নদী ভরা জল/পাখির কন্ঠে গান,সকলি তোমার দান।”আমার মনে পড়ছে,আমি ও আমার নানিজী আমরাও জ্বালানীর জন্য ছোট ছোট লাকড়ী সংগ্রহ করতে সেই সময় নদীর কূলে যেতাম।

বর্ষার অথৈ জলরাশি যখন চারিদিকে থৈ থৈ করছে সেই সময় স্কুলের টিনে গর গর বৃষ্টির শব্দের সাথে স্যারদের লেকচারের দারুণ মিতালী ছিল।এসময়ও সরকারী পরিদর্শক সকুলে আসতে অবহেলা করতেন না।আমরা স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার পথে সহপাঠিরা মিলে উজাইর মাছ ধরতাম।খাল-বিলের উপচে পড়া পানির সাথে মাছগুলো আবাদী জমির পানিতে চলে আসত।

শুধু তাই নয় অনাবাদী জমিতেে কিঞ্চিত পানিতে মাছের বিচরণ সত্যিই রোমাঞ্চকর।পেশাদার মৎস্যজীবি ছাড়াও সে সময় অনেক লোক শখ করে জাল,অশু মাছ ধরার বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে মাছ আহরণ করত।

সত্যিকার অর্থে ঐ সময় আমিষ জাতীয় খাদ্যের জন্য গ্রাম বাংলার সাধারণ জনগণ কোন চিন্তাই করত না।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment