আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (৭)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল :  সম্ভবত ১৯৮৭ সাল।কোন একদিন ,তারিখটা আমার মনে পড়ছে না।আমাদের হাই সকুল তথা সেন্ট্রাল জৈন্তা হাইস্কুলে মঞ্চস্থ হলো সাড়া জাগানো নাটক “লক্ষীসিংহ”।ইহা প্রাচীনতম জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাসের উপর নির্মিত। জৈন্তা, মেঘালয় পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সর্বাধিক কালের স্বাধীনতার গর্বিত পতাকাধারী এক ঐতিহাসিক জনপদের নাম। এ রাজ্য নিয়ে অনেক পৌরাণিক কাহিনী,সর্বোপরি এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে।

১৮৩৫ সালে ব্রিটিশরা ষড়যন্ত্র করে স্বাধীনতা কেড়ে নেয়।শিক্ষা,সংস্কৃতি ও সভ্যতায় জৈন্তাপুরের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে।ইতিহাসের এমনিতর অধ্যায়ে গভীর শ্রদধার সাথে স্মরণ করতে হয় বৃহওর জৈনতার এক গুণী ব্যক্তিত্ব ,শিক্ষানুরাগী,সমাজসেবক ও মানবহিতৈষী মহান পুরুষ মরহুম ছিকনদর আলী স্যার কে।যিনি সেদিন এলাকাবাসীকে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা করেন। স্কুলে নাটক মঞ্চায়নে অনৈতিক ও অনৈসলামিক কার্যক্রম হবে,এ ভেবে এলাকার আলেম সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।তারা জনগণের কিছু অংশকে উসকিয়ে রণসাজে সজজিত হয়ে স্কুল গেটে আসতে থাকে।অবস্থা বেগতিক দেখে শ্রদ্ধেয় ছিকনদর স্যার ও হেড স্যার সহ এলাকার মুরববীরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন।ফলে শান্তিপূর্ণভাবে স্কুল আঙ্গিনায় জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস সংবলিত নাটক “লক্ষীসিংহ” মঞ্চস্থ ও পরিবেশিত হয় এবং জনগণ রাতভর ইহা উপভোগ করে।

যতটুকু মনে পড়ে ঐ নাটকে র অভিনয়ে ছিলেন যথাক্রমে জৈন্তার শেষ স্বাধীন রাজা লক্ষীসিংহ-মুদাচ্ছির ভাই(জৈন্তা কলেজে কর্মরত),রাজা বীরসিংহ-হেলাল ভাই(sylhet gasfield এ আছেন),কাঁদন লস্কর-ডেমার মোশাহিদ ভাই প্রমুখ।প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতে হয়,কালচারালি আমাদের এলাকা অনেক এগিয়ে।উপজাতিদের (বিশেষ করে খাসিয়াদের) জীবনাচার,সনাতন ধমালম্বীদের পূজা পার্বণ,সূন্নী ও কাওমী প্রভাবিত বিধায় মুসলিমদের ঈমান-আকীদার সঠিক অনুশীলন জাতিসত্বা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া সামাজিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে ও অবদান অসামান্য।আশি’র দশকের সর্বদলীয় ছাত্রসংগঠন জৈন্তা কেন্দ্রিয় ছাত্র পরিষদের মুখপত্র “কাগজ”,সাহিত্য সাময়িকী “অনির্বাণ” সংস্কৃতির প্রাণ ছিল।জৈন্তা কলেজ প্রতিষ্টায় পরিষদ ছিল মাইলফলক।

আমার মনে পড়ছে,আমরা ছোটবেলায় ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের নায়ক রুবেল রানা,অমিত হাসানদের সাথে বাড়ীর পাশে খেলার মাঠে ফুটবল খেলেছি এবং নায়িকা দিতি,দিলদের সাথে সারী নদীর তীর ,নদীর ধূ ধূ বালুচরে খেলেছি।তাদের রঙ্গমঞ্চ আমরা শিশু-কিশোররা উপভোগ করতাম।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং পর্যটন খ্যাত জৈন্তার লালাখাল,শ্রীপূর,হরিপূর,সারী গাং,রাজবাড়ী,ফল বাগান ইত্যাদি অঞ্চল অনাদিকাল সংস্কৃতির চারণভূমি হিসাবে খ্যাতি ছড়াবে।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি:সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment