তৌহিদ জিহান চৌধুরী : চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল নয়। পথের দূরত্ব যতই হোক সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করতে চাই না আমরা কেউই।
তারপরও কিছু ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে সম্পর্কের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হয়। অতীতের আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা ধরে রাখতে।
সম্পর্ক গড়তে সময় লেগে যায় অনেক, কিন্তু সে সম্পর্কটা ভাঙতে সময় লাগে খুবই কম। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনেক যত্ন নিতে হয় পরস্পরের।
সম্পর্ক যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন অনেক সময়ই তা একঘেয়েমি হয়ে যায়। এই একঘেয়েমি থেকেই দুরুত্ব বাড়তে থাকে সম্পর্কের।
সম্পর্কের মাঝে থেকেও একে অপরের জীবনে কী চলছে না জানা, খবর না রাখা অস্বাভাবিক বটে । কারও সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে হলে কথা বলা বন্ধ করে দিই আমরা প্রথমেই । মনোবিদরা বলে থাকেন, কমিউনিকেশন বন্ধ করে দেওয়া যে কোনও সম্পর্ক নষ্ট করার প্রধান অস্ত্র। তাই যদি দেখেন দু’জনের মধ্যে কথার আদান-প্রদান কমে আসছে, যোগাযোগ কমে গেছে , তা হলে বুঝতে হবে দূরত্ব বাড়ছে।
ভালোবাসার মানুষদেরকে আমরা যেমন প্রাধান্য দিয়ে থাকি, ঠিক তেমনই তাদের কাছ থেকে গুরুত্ব পেতে চাই আমরা বেশি। সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হলে একে অপরের কাছে প্রাধান্য কমে যেতে শুরু করে। যদি বুঝতে পারেন আপনার সঙ্গীর জীবনে আপনার প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে, তা হলে বুঝে নিন একে অপরের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হওয়ার সময় এসেছে।
কাছাকাছি থেকেও দূরত্ব বেড়েছে নিজেদের মধ্যে? যদি এমন মনে হয় তবে সম্পর্ক নিয়ে সচেতন হোন একটু বোঝার চেষ্টা করুন পরিস্থিতি। আগেই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে যাবেন না।
এই করোনার সময় অনেকেই কাজ হারিয়ে মানসিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার মনের অবস্থায় এসববের প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক। যদি এমন কিছু হয়, তবে তার পাশে থাকুন।
কাজের প্রয়োজনে অল্প বা বেশি দিনের জন্য যদি দু’জনকে আলাদা থাকতে হয়, তবে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে দেবেন না। কি করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কি কি দেখছেন সব শেয়ার করুন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। ফেরার সময় তার জন্য ছোট হলেও একটি উপহার নিয়ে আসুন। ছোট ছোট কাজগুলোই কিন্তু সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল উঠতে দেয় না।
