ডেস্ক রিপোর্ট:ভারতীয় ক’টনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে না যুক্তরাষ্ট্র। এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে ভারতের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন কি এ ব্যাপারে দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হবে না।
তাদের দাবি, এটি এখন ‘আইনপ্রয়োগযোগ্য ইস্যু’, জানিয়েছে এনডিটিভি।
ভারত জানিয়েছে, মুখপাত্রের করা মন্তব্যের ব্যাপারে ভারত কিছু বলবে না। এটি শুধুমাত্র দিল্লি ও ওয়াশিংটনের উ”চতর পর্যায়ে আলোচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেন, “আমার এ ধরনের অভিযোগ খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকি। প্রতিবছর প্রতিটি দেশের ক’টনীতিক যারা এখানে অবস্থান করছে তাদের আমরা খুব পরিষ্কারভাবে ক’টনৈতিকবার্তায় জানিয়ে দেই, কাজ করার জন্য যাদের তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। আর এই বিধিনিষেধগুলো আমরা খুব পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দেই যে, এসব বিষয় মানা না হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারি”।
দেবযানীকে গ্রেপ্তার ও তার সঙ্গে করা আচরণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি প্রিট বারারার সাফাই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা উইন্ডি সারমেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং-এর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা করেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব মন্তব্য করলেন।
যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেননের মধ্যকার টেলিফোন আলাপের ধারাবাহিকতারই অংশ সারমেন ও সুজাতার ফোনালাপ।
এর আগে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির মামলা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় ভারত। দেবযানীকাণ্ডে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দুঃখ প্রকাশকেই যথেষ্ট বলে মনে করছে না তারা।
ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে ১২ ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে হেনস্তার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে ক্ষুব্ধ হয় ভারত সরকার। ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।
দেবযানীকে নিউ ইয়র্কে বিবস্ত্র করে তল্লাশির পর কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শেষ পর্যন্ত ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন।
কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট নয় ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ বলেছেন, দেবযানীর সঙ্গে একজন সাধারণ অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। আর তাই তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকাটাও মেনে নেয়া যায় না।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কি ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে তার একটা ব্যাখ্যা চাই আমরা। আর তার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়া এবং অবিলম্বেই তা করার অনুরোধ জানাচ্ছি”।
ভিসা জালিয়াতি ও গৃহপরিচারিকাকে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না দিয়ে বেশি কাজ করানোর অভিযোগে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানীকে গ্রেপ্তারের পর আড়াই লাখ ডলারে জামিন দেয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে ভিসা আবেদনে ভারতীয় গৃহকর্মীর বিষয়ে ভুয়া তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এ ভারতীয় কূটনীতিকের।
বুধবার দেবযানীর মামলা নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জন কেরি। এ সময়ই তিনি দেবযানীকে নিয়ে ঘটে যাওয়া কর্মকাণ্ডে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন।
কিন্তু ভারতের সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, ভারতের ক্ষোভ প্রশমনে কেরি খুব বেশিকিছু করেননি।
ভারতের পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী কমল নাথ বলেন, “তাদের পরিষ্কারভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত এএবং তারা যে ভুল করেছে তা স্বীকার করে নেয়া উচিত। কেবলমাত্র তখনই আমরা সন্তুষ্ট হব।”
নূন্যতম পদক্ষেপ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজে থেকেই দেবযানীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
