গোলজার আহমদ হেলাল : হযরত উমর (রাঃ) এর রাজ্যশাসন ও জনহিতকর উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড:০৭(সাত)
নহরে আমিরুল মুমিনীন/নহরে সাদ/নহরে……
নহরে আমিরুল মুমিনীন জনকল্যাণের দিক দিয়া হযরত ওমরের বিরাট কীর্তি।এ নহরের সাহায্যে মিশরের সুপ্রসিদ্ধ নীল নদকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়।অতি প্রয়োজনে তা করা হয়।হিজরী ১৮ সনে আরবে ভীষন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।ইহা মোকাবেলা করতে হযরত সব জায়গা থেকে আরবে শস্য্ প্রেরণের নির্দেশ দেন।সিরিয়া ও মিশর হতে আরবে শস্য পৌঁছতে বিলম্ব হয়।স্থলপথে মিশর হতে আরবের রাস্তা দুরবর্তী ও দুর্গম ছিল।এ বিষয়টি লক্ষ্য করে মিশরের শাসনকর্তা হযরত আমর ইবনুল আসকে মিশরের একদল বিশিষ্ঠ নাগরিকসহ দারুল খেলাফত মদীনায় ডেকে পাঠান।আমর ইবনুল আস সদলবলে সেখানে পৌঁছলে আমিরুল মুমেনীন ওমর বললেন-‘স্থলপথে মিশর হতে আরবে কোন কিছুু আনয়ন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।সুতরাং নীল নদ হতে খাল খনন করে সোজা লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করে দিতে পারলে চিরদিনের জন্য আরবের দুর্ভিক্ষের আশংকা দুরীভূত হবে।’এমন পরামর্শ পেয়ে গভর্ণর মিশরে প্রত্যাবর্্তন করেই কাজ আরম্ভ করে দিলেন।
কায়রো হতে ১০মাইল দুরবর্তী ফুসতাত থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত নহর খনন কার্য হয়ে গেল।এর দ্বারা ফুসতাত হতে নীলনদ লোহিত সাগরের সাথে এসে সংযুক্ত হল।ফলে বিরাট (৬০,০০০শস্য বোঝাই প্রথমে) শস্য জাহাজ ফুসতাত হতে রওয়ানা দিয়ে অতি সহজে লোহিত সাগরে এসে পৌঁছে।এবং সোজা এসে মদীনার জলবন্দরে নোঙর করে।৬৯মাইল দীর্ঘ এ খালটির খনন কাজ ৬মাসে সম্পন্ন হয়।
ভেবে অবাক হতে হয়,শাসক আমর ইবনুল আস খাল কেটে লোহিত সাগর ও ভুমধ্যসাগরের সংযোগ সাধনের(বর্তমান সুয়েজখাল) পরিকল্পনা নেন।প্রাথমিক প্র্রস্তুতি সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল।উভয় সাগরের দুরত্ব ছিল ৭০ মাইল।কিন্তু এই পরিকল্পনা হযরত ওমরের গোচরীভূত হলে বাতিল করে দেন।কারণ এই সংযোগের ফলে গ্র্রীকদেশীয় জলদস্যুগণ সর্বদা হাজীদের জাহাজ লুটতরাজ করবে।যদি সে সময়ে মিশরের শাসনকর্তা আমর খনন করার অনুমতি পেতেন তাহলে আরবগণই সুপ্রসিদ্ধ সুয়েজখাল খননের গৌরব অর্জন করতেন।
লেখক:সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
