গোলজার আহমদ হেলাল : ৯০’এর দশকে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সক্রিয় হয়।দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলে কিছুসংখ্যক ইসলামী ছাত্র সংগঠন অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মান্ধতায় রুপ নিতে থাকে।ফলশ্রুতিতে দেশের জনমানুষ এর কাছে এদের ভিন্নরূপে চিত্রায়ন করে মিডিয়া মহল।আলী নামক এক ইসলামী ছাত্র নেতাকে হক নামের আরেক ইসলামি দলের কর্মী এক জুনিয়ার সমর্থকের সাথে আলাপ করার কারনে অশুভ আচরণ করে হক আলীর সাথে।এরকমভাবে বহু ঘটনা আর ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাস আজো সাক্ষী আছে।রাজনীতিতে সহনশীলতা আর পরমতসহিষ্ণুতার ঘাটতি সুবিচারমুলক রাষ্ট্র গঠনের অন্তরায়।জাতি আজ অনুধাবন করছে।আমরা যখন ক্লাস করতাম, বিশেষ করে বিকালবেলার ক্লাস।উপস্থিতি কমে যেত। ছাত্র-ছাত্রী মিলে হাতেগোনা ক’জন।কিন্তু, অপরিসীম আনন্দ লাগত।পড়ন্ত বিকেলের লাল রোদ্রের শ্রেণীকক্ষ আর শিক্ষাগুরুর সহাস্য বচন উত্তর কালেই আমাদের পাথেয় হয়েছে।শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গনিত বিভাগের হান্নান স্যারের বিদায় সংবর্ধনা নিয়ে বিবদমান দু’মেরুর দু’আদর্শিক ছাত্রসংগঠনের দ্বন্ধ’র কারনে অনুষ্টানটি একান্ত ঘরোয়া ভাবে করতে হয়েছে।যা আজো আমাকে পীড়া দেয়।শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কতটুকু কষ্ট পেয়েছেন জানি না।তবে সেদিন আমরা জুনিয়ার রা অনেক অনেক আঘাত পেয়েছিলাম।একদল চেয়েছিল অনুষ্টানের প্রারম্ভে কুরআন পাঠের পর গীতা ও ত্রিপিটকও পাঠ করতে হবে।আর একদল অনড় শুধু কুরআন পাঠ চলবে।
আর কিছু নয়।এ নিয়ে অনুষ্টান পন্ড হওয়ার উপক্রম প্রায়।তাই প্রিন্সিপাল মহোদয় ও বিভাগের চেয়ারম্যান -শিক্ষকদের অনবদ্য প্রচেষ্টায় খুব কম সময়ে ঘরোয়া ভাবে দায় আদায় করতে হয়েছিল।আর সে সময় অনুষ্টান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। সৌভাগ্যক্রমে সেই প্রোগ্রামে আমার বক্তৃতা করার সুযোগ হয়েছিল।আমার বক্তৃতা শুনে প্রথমেই আমাকে শুভাশীর্বাদ জানায় জেসমিন নাহার চৌধুরী।আমার ক্লাসমেট। ঐতিহ্য বাহী বনেদী পরিবারের মেয়ে।রুপে -গুনে,চলনে- বলনে আভিজাত্যের ছাপ।চেহারা সুরত,আচার আচরণ অসম্ভব ঈর্ষান্বিত। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করত সে।কিন্ত, তার মাঝে কোন হীনমন্যতা ছিল না।ছিল না কোন সংশয়বোধ।বিরোধী মত কিংবা পথের ছাত্রদের সাথে ছিল তাঁর সু-সম্পর্ক।জেসমিনের আক্ষেপ ছিল একটাই অনুষ্টান নিয়ে এত হাড্ডাহাড্ডির দরকার ছিল না।উভয় পক্ষ সংযত হওয়া উচিত ছিল।
প্রিয় সহপাঠি জেসমিন এখন একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার বড় কর্তার পদে আসীন।সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।বাম ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনা লালন কারী বাম রাজনীতির অন্যতম কর্মী সে।পাঠচক্রে তাঁর জ্ঞাানগর্ভ ও তুলনামুলক বিশ্লেষণ প্রচন্ড আলোড়ন সৃষ্ঠি করত।মার্কসবাদী সমাজ ও অর্থনীতির দারুণ বিশ্লেষন সকলকে মোহিত করত।তবে জেসমিনের প্রবল আকর্ষণ শক্তি ও একটি ভাল গুণ ছিল-সত্যকে অকপটে স্বীকার করা।তাই ইসলামী অর্থনীতির পাঠচক্রে অভূতপূর্ব আলোচনা করে প্রমাণ করেছে এখানে মার্কসীয় মতবাদ অচল।আমার এখনও মনে আছে।তাঁর জীবনের মঙ্গল কামনা করি।
একসময় আদর্শিক ছাত্র সংগঠন করাটাকে ছাত্ররা গর্ববোধ করত।হোক তা বাম অথবা ইসলাম পন্থী।কারণ দুটো-১.উভয় ধরনের আদর্শিক ছাত্র সংগঠনে শতভাগ মেধাবীরা থাকত।আর মেধাবীদের মেধাবীরা থাকত নেতৃত্বে।২.এ ধরনের ছাত্র সংগঠনে লেজুরবৃত্তিতা ছিল না।ক্ষমতার পালাবদলে এগুলো ব্যবহৃত হত না।অপরদিকে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনে ঠিক উল্টো রথ ছিল।
এদেশে সেই পুরনো ছাত্র রাজনীতির খেই অনেক আগে হারিয়ে গেছেে।বাম আদর্শ আর ইসলামী আদর্শ বলেন কিংবা বুর্জোয়া শ্রেণীর কথা বলেন সকলের ক্ষেত্রেই ইহা ভাবনার বিষয়।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
