গোলজার আহমদ হেলাল : ১৯৯২ সাল। এস.এস.সি পরীক্ষার বছর। আমার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল উপজেলা শহরে অবস্থিত জৈন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। আমার সার্বিক সুবিধার জন্য আমার আব্বা উপজেলা শহরের চুনাহাটি গ্রামে মরহুম নুরুল হক সাহেবের বাড়ীতে লজিং এর ব্যবস্থা করলেন। মরহুম নুরুল হক ছিলেন এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুপরিচিত সফল ব্যবসায়ী। ধন-মান, গৌরব-আভিজাত্যে তিনি এক সেরা ব্যক্তিত্ববান পুরুষ।
আমার বন্ধু আজিজুল হক ও স্নেহের এনামুল হকের গর্বিত বাবা। তৎকালীন সময়ে সকাল-বিকাল পরীক্ষা থাকত। আমার মনে পড়ে আমরা পরীক্ষার ১ম দিন সকালে বাংলা ১ম পত্র ও বিকালে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা দিয়েছি। আমি যখন গ্রাম থেকে পরীক্ষার জন্য লজিং এ যাই, তখন আমার আব্বা আমার সবকটি বই টুকরিতে জমা করে কাঁধে ভার করে নিয়েছিলেন। আমরা আমাদের গ্রামে পশ্চিম পার্শ্বের কাঁচা রাস্তা দিয়ে বড়গাং অতিক্রম করে সেদিন জৈন্তায় গিয়েছিলাম।
নুরুলহক চাচা আমাকে তাঁর পুত্রের মতো ¯স্নেহ করতেন। আমি এবং আজিজুল আমরা বাসার দু’তলায় থাকতাম। সেখানে ২টি কক্ষ ছিল। পশ্চিমের কক্ষে আমি থাকতাম। সাথে এটাচড বাথরুম। পাশে বারান্দাও। সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নিরবিচ্ছিন্ন গতিতে পড়াশোনা চালাতাম।
নুরুল হক চাচা পরীক্ষাকালীন সময়ে আমাদের জন্য (আমি ও আজিজুল হক) নিয়মিত (ডিম, দুধ, মোরগের মাংস ইত্যাদি) ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতেন। খালাম্মা অত্যন্ত কষ্ট করে ও যত্নের সহিত আমাদের সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার তৈরী করতেন।
বিকালবেলা আমরা প্রাকৃতিক হাওয়া বাতাস উপভোগ করতাম। সরকারী স্কুল মাঠ, খাসিয়াহাটি, রাজবাড়ী, ফলবাগান, মোরগারপুল ইত্যাদি জায়গায় বেড়াতাম।
আমাদের সাথে আমাদের আরেক বন্ধু কামাল (আজিজুলের মামাত ভাই, জনাব জহিরুদ্দিনের ছেলে) সবসময় ছিল। কামালের বাসায় ও আমরা প্রায় সময় থাকতাম। কামালের আব্বুও আম্মু আমাকে অত্যন্ত আদর-যত্ন ও স্নেহ করতেন। তা বলে শেষ করা যাবে না।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি:সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
