গোলজার আহমদ হেলাল: সেলিম আহমদ। গ্রামের সবাই সুরুজ/সূর্য বলে ডাকে। কর্মজীবনে সেনাবাহিনীতে ছিলেন। বর্তমানের অবসর জীবন যাপন করছেন। ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নকালে আমার খুবই কাছের এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তিনি। আমরা রোদ বৃষ্ঠি, ঝড়-তুফান সব সময় প্রবল বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে দুজনই নিয়মিত স্কুলে যেতাম। বর্ষার দিনে বৈঠাখাল (গ্রামের পাশ দিয়ে বহমান) পানিতে ভরে যেত। তখন সেলিমই আমাকে ঐ খাল পার হতে সহযোগীতা করতো। ডৌডিক পশ্চিম পাড়া থেকে সারিঘাট পর্যন্ত রাস্তায় প্রায়ই কাঁদা থাকত। তাও আঠালো। সেই পথ অতিক্রম করতেও সঙ্গি একমাত্র বন্ধু সেলিম। একবার অসুস্থ এর সময় হাইস্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমি হাঁটতে পারছিলাম না। তখন আমার বন্ধু সেলিম আমাকে কাঁধে করে সারিঘাট থেকে বাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার নিয়ে ছিল। তা ভুলবার নয়। উপরন্তু আমি ছোট্ট থাকার কারনে ট্রাকে ত দূরের কথা বাস গাড়িতে উঠতেও কষ্ঠ হতো। আমার বন্ধু সেলিম ও অপরাপর বড় ভাইয়েরা আমাকে গাড়িতে উঠতে সহযোগীতা করতো। এসময়ে আমার আরেকজন বন্ধুর কথা না বললেই নয়। তিনি হলেন সফিউল মুজনিবিন কয়সর (বর্তমানে নৌবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত একজন অফিসার, মিশনেও গিয়েছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা)। সে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে সিলেট ক্যাডেট কলেজে চলে যায়। খুবই মেধাবী, চৌকষ, চঞ্চল ও বন্ধুবাৎসল্য প্রকৃতির ছেলে। সে আমার আত্মীয়ও। জৈন্তাপুর উপজেলায় ফেরিঘাটে তাঁর বাড়ি (তৈয়বআলী কলেজ সংলগ্ন)। প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবারে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বিকালে আমাদের গ্রামে চলে আসত। আমরা একসঙ্গে খেলা করতাম। ফুটবল, গোলাøাছুট, লোকালোকি আরো কত কি?
কয়ছর সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর প্রথমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে কমিশনে চান্স পেয়ে সে নৌবাহিনীতে চলে যায়। আজ শৈশব-কৈশোরের সেই নানান রঙ্গের দিনগুলি যেন চোখের সামনে ভাসছে। আল্লাহর দান মানুষের ব্রেইন নামক সুপার কম্পিউটারের বদৌলতে।
লেখক:নির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি:সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
