অরণি সেমন্তি খান:রায়হানের হত্যাকারি স্বেচ্ছাচারী পুলিশ অফিসার ধরা পড়েছে। অবশ্যই এটা প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি একটি আনন্দের দিন। নানান ইস্যুর ভীড়ে এই বিষয়টা মনে রাখা এবং একটানা কথা বলে যাওয়া, এই খুনিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আর সামনে তাকে বিচারের ট্র্যাক থেকে সরতে না দেওয়ার অন্যতম প্রভাবক হতে পারে। পুলিশই তো, বিচার হবেনা, গুম খুব সমানে চলছে আমি কেন করবোনা – এই মনোভাব সব ক্ষমতাধর ব্যক্তির- এলাকার পাতি নেতা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের “বন্ধুরা :P” আবার পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে সেই কান ধরানো বা সাংবাদিক শাসানো সরকারি অফিসার। এই ভয়ংকর চক্র ভেঙ্গেই এই লোককে ধরা হয়েছে, বা ক্ষমতাধরেরা স্যাক্রিফাইজ করেছেন, যার ক্রেডিট বাংলাদেশের ইন্টারনেটের বাসিন্দাদের তথা নেটিজেনদের দেয়া যেতেই পারে। আবার কথা বলতে বন্ধ করলেই, চোখ অন্যদিকে ঘুরে গেলেই এইসব আকবরেরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন সমাজে, সেটি বুঝে ফেলেছে নেটিজেনরা। যে, কথা বলতে থাকতে হবে।
অন্যদিকে, মনে রাখা প্রয়োজন, রায়হানকে হত্যা করে ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তার’ কথিত নির্দেশে পালিয়ে যাওয়া এসআই আকবর কিন্তু ধরা পড়ল ভারতের খাসিয়াদের হাতে। তারপরে তারা ফেরত পাঠিয়ে দিল বাংলাদেশে, যেখানে তার কৃতকর্মের ফয়সালা হবে। আমার দেশের ন্যায়বিচার আর সুবিচার নিয়ে অন্য দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যে সদিচ্ছা আছে, আমার নিজের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আর প্রশাসনের সেটা থাকলে আজ এসব হত্যাই হত না, তার বিচার চাওয়া তো পরের কথা।
তবে এই সিস্টেমের একটা ভয়ংকর দিক আছেঃ একে তো “গণতন্ত্রের রোলমডেল”-এর দেশে সম্পূর্ণভাবে “জোর যার মুল্লুক তার” চলে,তার উপর যে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকার কথা সেটা তো নাই-ই। মানুষের আস্থা এখন ফেইসবুক, সোশাল মিডিয়ায়, এবং এই ইস্যুতে লেগে থাকা মানেই হলো অনেক পোস্ট করা এবং শেয়ার করা অর্থাৎ- ইস্যুটা ভাইরাল করা। শেষমেশ কী দাঁড়ালো? বাংলাদেশের গত কয়েকটা ঘটনা, যাতে কোনো অ্যাকশন নেয়া হয়েছে, সবই ঘটনা ভাইরাল হয়ার পর। এরকম কত রায়হান বাংলাদেশে মারা যাচ্ছে, খুন হচ্ছে তার হিসেব নেই। কিন্তু তারা বিচার পায় না। যেই ঘটনা ভাইরাল হয়, তারই মর্যাদা হয় ন্যায়বিচার চাওয়ার। বাকিদের সেই গোস্তাখিও হয়না। কথিত আছে, মেজর সিনহার হত্যা কেলেঙ্কারির পরে বাংলাদেশের পুলিশ র্যাব সবাই ক্রসফায়ার বন্ধ করে দিয়েছিল। সেটাও ঠ্যাকায় পড়ে ইমার্জেন্সি ব্যান্ড এইড দেওয়ার মত। আসলেও কি পুলিশি নির্যাতন বন্ধ হয়েছিল? এরকম ঘটনায় বলির পাঠারা যেমন স্যাক্রিফাইজড হয়, হর্তাকর্তাদের গায়ে কি সেই তুলনায় ফুলের টোকাটাও পড়ে? নাকি তারা পুরষ্কৃত হয়?
ভিপি পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় সংসদ, ডাকসু নির্বাচন -২০১৯
ঢাবি’র জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের ডীনস এওয়ার্ড প্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
