ফ্রান্স থেকে জামিল আহমদ:
বর্তমানে বিশ্বে ফ্রান্স মানবাধিকার চারনভুমি নামে খ্যাত। জাতিসংঘের কার্যক্রম শুরু করার তিন বছর পরই সাধারণ পরিষদে ১৯৪৮ সালে ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সর্বস্থান ঘোষনা গৃহীত হয়। ১৯৫১ সালে জেনেভা কনভেনশনের আওতায় ফ্রান্স সরকার সর্বজনীন মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ফ্রান্স সরকার জাতি, গোত্র, বর্ণ, নারী, পুরুষ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্য মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এনজিও ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গকে জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে শরনার্থী মর্যাদায় ফ্রান্সে বসবাস করার সুােগ করে দিচ্ছেন। জীবনের নুন্যতম বেচে থাকা কিংবা স্বপ্ন পূরণে আশায় পৃথিবীর অন্যান দেশের মত বাংলাদেশ থেকে আসা বাংলাদেশেীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বাস্তব কিছু দিক উল্লেখ করছি। শরণার্থী প্রথমত থাকা ও খাওয়া বাবদ দৈনিক ১১.৪৫ ইউরো পেয়ে থাকে। সলিডারিটি ট্রান্সপোর্ট কার্ড করার পর ৭৫% ডিসকাউন্ট যাতায়াত করতে পারেন। ফ্রি চিকিৎসা সহ নানান ধরণের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু বিপরীত দিকটা অনেক করুন ও ভয়াবহ। ফ্রান্স জীবনে বাংলাদেশীদের বাস্তব সমস্যা ও বাধা হচ্ছে-
ভাষাগত সমস্যাঃ ফরাসী ভাষাগুলো মূলত কঠিন হওয়ায় ভাষাগত দতা সাবার পে অর্জন করা সম্ভব হয় না। এতে করে অফিসিয়ালী অনেক কাজের সমাধান নিজে করতে না পারায় আইন জটিলতায় ভোগতে হয়।
আবাসন সমস্যা ঃ ফ্যামিলি ব্যতিত যারা ব্যাচেলর থাকেন তারা এক রোমে ৬ থেকে ৮ জন থাকতে হয়। অথচ ৮টি খাট বা বিছানা রাখার জায়গ নেই। প্রয়োজনীয় কাপড় ও কাগজপত্র রাখারও জায়গা থাকে না।এ অবস্থাটি অনেকটি বাংলাদেশের জেল হাজতের মত খানিকটা মিল আছে।
চাকুরী সমস্যা ঃ ফ্রান্সে চাকুরী অনেকটা সোনার হরিণ। এই সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে অনেকেই হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দিনে ২০/২৫ ইউরো পেয়ে থাকেন। যা ফ্রান্স শ্রম আইনের লঙ্গন।
যৌবন ও মেধার অপচয় ঃ বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় অনেক অবিবাহিত যুবকরা বিয়ে করতে পারছেন না এবং বিবাহিত অনেকেই স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে সাাত করতে পারছেনা। এমন ও আছে যাদের বয়স ৩৫/৪০ এখনও বিয়ের সৌভাগ্য হয়নি। এমন অনেক মেধাবী ও সম্ভবনাময় লোক ফুটপাতে ব্যবসা ও হাড়ি পাতিল পরিষ্কার করেই শেষ হয়ে যায়। জীবনে বেচে থাকা বা নিরাপদ জীবনের আশার ঝুকি নিয়ে প্রবাসে জীবন কাটায়। মেধা প্রচারে রোধ ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রবাসী সহ সকলের প্রত্যাশা।
