সরকারি দল শত শত কেন্দ্র দখল করে জালভোট দিয়েছে : জামায়াতে ইসলামী

by News Room
সারা দেশে দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে শত শত ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, সন্ত্রাস ও প্রশাসনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে সরকারি ষড়যন্ত্র হয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ সারা দেশে দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে সরকার দলের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখলের মহাউৎসবে মেতে ওঠে। ১১৫ টি উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই সরকার দলীয় ক্যাডাররা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। জালভোট প্রদান, ব্যালট ডাকাতি, পুলিশের উপর হামলা, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, সাংবাদিক নির্যাতন, নির্বাচন আচারণ বিধির বেপরোয়া লঙ্ঘন ও প্রশাসনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির এক ন্যাক্কার জনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, শেরপুর, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, বরিশাল, জামালপুর, নাটোর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, মাগুরা, যশোর, বাগেরহাট, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ ৫২ টি জেলার ১১৫ টি উপজেলায় শত শত ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একদিকে হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়, অপরদিকে জামায়াত ও ১৯ দল-সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয় এবং প্রশাসনের সহায়তায় সন্ত্রাস করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। সরকারের সন্ত্রাসী তান্ডবে সারাদেশে ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছাত্রশিবির কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি এ ঘটনাকে সরকারের নির্লজ্জ, অগণতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিবাদী আচরণ মন্তব্য করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ডা. শফিকুর বলেন, বিভিন্নস্থানে ভোট কেন্দ্র দখল করে নৈরাজ্য সৃষ্টির পরও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। অধিকন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করে জাতির সাথে উপহাস করেছে।
তিনি বলেন, ১ম দফা নির্বাচনে সরকারের ভরাডুবি ও রংপুরের পীরগঞ্জে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ের পরই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল ও জোর-জবরদস্তি করে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার যে নীল নকশা প্রণয়ন করেছে গতকালের নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ কর্তৃক মানুষের ভোটাধিকার হরণের এ নির্লজ্জ মহা উৎসব বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে প্রমাণ করেছে আওয়ামী সরকার ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের এই বেপরোয়া তান্ডব সৃষ্টির ঘটনায় আরেকবার প্রমাণিত হলো অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যাকারী ও মানুষের ভোটাধিকার হরণকারী। এ সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার। এ সরকারের কাছে মানুষের জান, মাল, ভোটাধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার কোনটাই নিরাপদ নয়।
যে সব উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে সরকারের সমর্থক প্রার্থীগণ ব্যালট ছিনতাই, চর দখলের মত ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান, জামায়াত ও ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের জোর করে বের করে দিয়ে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, সে সব উপজেলায় পুন:নির্বাচন দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
একইসাথে তিনি জনগণের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের আপামর জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।

You may also like

Leave a Comment